সৌদিতে হামলা হলে সক্রিয় হতে পারে ‘মক্কা চুক্তি’, হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের
- আপডেট সময় : ১১:৫০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর যেকোনো আঘাতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে পারে। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যেকোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
সম্প্রতি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইেইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই সতর্কবার্তা দেন। হুথিদের সাম্প্রতিক এসব হামলায় আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরে অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। পাকিস্তান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে।
পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে খাজা আসিফ স্পষ্ট করে বলেন, এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতার সুযোগ নেই। প্রয়োজন দেখা দিলে পাকিস্তান অবশ্যই তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক জোট নয়। এই তিন দেশ নিজেদের উদ্যোগে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য এই চুক্তি করেনি, বরং এর মূল উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করা। তিনি আরও যোগ করেন, হামলা হলে যে হুবহু একই ধরনের পাল্টা হামলা চালাতে হবে, চুক্তির অর্থ এমন নয়। বরং তিন দেশের সম্মিলিত সামরিক সক্ষমতা আক্রমণকারীদের জন্য একটি বড় প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে।
হুথিদের সতর্ক করে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ দেশের বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তার পরিণতি ভালো হবে না। হুথিরা যদি এই সংঘাতকে সৌদি আরবের দিকে টেনে নিয়ে যায়, তবে চুক্তির আগ্রাসন প্রতিরোধের ধারাগুলো কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমার আশা প্রকাশ করে খাজা আসিফ সৌদি আরবকেও ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।



























