পাকিস্তানের ‘ধসে পড়া ব্যবস্থা’ নিয়ে সংসদে বিতর্কের আহ্বান বিলাওয়ালের
- আপডেট সময় : ১২:০৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি। এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভিকে জাতীয় সংসদে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিলাওয়াল স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ব্যবসায়িক ফোরামে গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করা যাবে না। জিও নিউজের বরাত দিয়ে এ খবর জানা গেছে।
লন্ডনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিলাওয়াল বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভির নিজস্ব মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে তিনি যদি মনে করেন যে দেশের বর্তমান ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে, তবে কেন তা ব্যর্থ হলো এবং কীভাবে এটি সংস্কার করা যায়, তা নির্ধারণের জন্য জাতীয় সংসদে আলোচনা করা দরকার। পিপিপি চেয়ারম্যান জোর দিয়ে বলেন, দেশের শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং তা নিয়ে আলোচনা করার মূল দায়িত্ব জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের।
জাতীয় সংসদে মোহসিন নাকভির নিয়মিত অনুপস্থিতির সমালোচনা করে বিলাওয়াল বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে খুব একটা দেখা যায় না। তার উচিত ব্যবসায়িক ফোরামে সময় না দিয়ে সংসদে আসা। বিলাওয়াল ব্যক্তিগতভাবে সংসদের ফ্লোরে যেকোনো ফেডারেল মন্ত্রী বা সরকারি প্রতিনিধির সঙ্গে এই বিষয়ে বিতর্ক করতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা দেন। তিনি মন্তব্য করেন, পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ত্রুটি ও দুর্বলতা নতুন কিছু নয় এবং কেবল স্লোগান দিয়ে এসবের সমাধান সম্ভব নয়। এর পেছনের প্রকৃত কারণ এবং তা দূর করার উপায় নিয়ে খোলামেলা আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। সম্প্রতি নাকভি অন্য কারও হয়ে কথা বলছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিলাওয়াল বলেন, মোহসিন নাকভি নিজের হয়ে কথা বলছেন, আর আমিও নিজের হয়ে কথা বলছি।
নতুন প্রদেশ গঠনের চলমান বিতর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিলাওয়াল জানান, এ বিষয়ে পিপিপির অবস্থান হঠাৎ করে তৈরি হয়নি, বরং দীর্ঘদিন ধরেই দলটির অবস্থান একই রয়েছে। এ প্রসঙ্গে গিলগিট-বালতিস্তান, পাঞ্জাব ও সিন্ধুর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জনগণের মতামত তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও প্রাদেশিক পরিষদের মাধ্যমেই প্রতিফলিত হওয়া উচিত। তবে নতুন প্রদেশ গঠনকেই দেশের সব অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে তুলে ধরার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন তিনি। তিনি বলেন, নতুন প্রদেশ তৈরি করলেই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং মূল্যস্ফীতির সুনামির মতো জটিল সমস্যাগুলো রাতারাতি সমাধান হয়ে যাবে—এমনটি ভাবা ঠিক নয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে পিপিপির দূরত্ব তৈরি হওয়া এবং সহযোগিতা থেকে সরে আসার গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন বিলাওয়াল। তিনি জানান, পিপিপি এবং পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তারা বর্তমানে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পৃক্ত আছেন। একই সঙ্গে, সংসদীয় কমিটি ও নির্বাচন বয়কটের বিষয়ে পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের (পিটিআই) কৌশলের তীব্র সমালোচনা করেন বিলাওয়াল। তিনি মনে করেন, এ ধরনের বয়কটের সিদ্ধান্ত শুধু পিটিআই বা বিরোধী দলের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং এটি সংসদীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংসদের মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ন করে।



























