আয়েশ করে উপন্যাস লেখার দিন শেষ: হাসনাত আবদুল হাই
- আপডেট সময় : ০২:০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

কথাসাহিত্যিক হাসনাত আবদুল হাই বলেছেন, একজন সাহিত্যিকের পক্ষে শুধু সাহিত্যতত্ত্ব নিয়ে সীমাবদ্ধ থাকা সম্ভব নয়; তাঁকে প্রকৃতি, দর্শন ও বৈশ্বিক চিন্তাধারার সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত হতে হবে। তিনি মনে করেন, নিজের খেয়ালখুশিমতো আয়েশ করে উপন্যাস লেখার দিন এখন শেষ হয়ে গেছে। বিনোদনের উদ্দেশ্যে উপন্যাস লেখা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী বা কালজয়ী সাহিত্য হিসেবে গণ্য হবে না। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে সাহিত্য পত্রিকা ‘কালি ও কলম’ আয়োজিত তরুণ সাহিত্যিকদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তরুণ কবি ও লেখকদের উৎসাহিত করতে সিটি ব্যাংক-নিবেদিত ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার ২০২৫’ প্রদান করা হয়। কবিতায় রনক জামান (গ্রন্থ: ‘এই গ্রাম কুড়িয়ে পেয়েছি’), প্রবন্ধ ও গবেষণায় রাফাত আলম (গ্রন্থ: ‘বাংলাদেশ পাঠ: সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ক্রিয়াশীলতার অনুষঙ্গে’), কথাসাহিত্যে হামিম কামাল (গ্রন্থ: ‘ত্রিস্তান’) এবং শিশু-কিশোর সাহিত্যে রবিউল কমল (গ্রন্থ: ‘দস্যু ও দুই দুরন্ত’) এ বছর পুরস্কার পেয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও বিপ্লব বিভাগে মানসম্মত গ্রন্থ না পাওয়ায় এবার কাউকে পুরস্কার দেওয়া হয়নি। প্রতিটি পুরস্কারের অর্থমূল্য দুই লাখ টাকা। ২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনে এ পর্যন্ত ৭১ জন তরুণ কবি ও লেখক স্বীকৃতি পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিয়ে সতর্কবার্তা দেন হাসনাত আবদুল হাই। তিনি বলেন, প্রবন্ধ ও গবেষণা মানুষের মননশীলতার ফসল, যার জন্য ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন। তথ্য সংগ্রহের জন্য গুগল বা এআই ব্যবহার করা গেলেও, নিজের লেখা এআই দিয়ে লিখিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত লেখা ইতিহাস পুরোপুরি নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় এসে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ইতিহাস সাজিয়েছে। নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস পুনর্লিখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা তারা করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী বলেন, কালি ও কলম পত্রিকা দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির দীর্ঘ যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি তরুণ লেখকদের জন্য এই প্ল্যাটফর্মকে প্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘নব্য লেখকদের প্রতি’ নিবন্ধটি স্মরণ করিয়ে দেন। সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, সৃষ্টিশীল কাজে পৃষ্ঠপোষকতা করা তাদের দায়িত্ব। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সব সময় সব ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া যায় না, তবে সিটি ব্যাংক সাহিত্যের জন্য কাজ করে যেতে চায়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফারুক মাহমুদ এবং পুরস্কার বিতরণ শেষে শিল্পী প্রিয়াংকা গোপ গান পরিবেশন করেন।




























