ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উচ্চকক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়ে বিশেষ কমিটিতে ভিন্নমত ইউপিএলের শোরুমে হামলা ও কর্মীদের হয়রানির ঘটনায় ৩৬ বিশিষ্ট নাগরিকের নিন্দা মাঠে অদ্ভূতকাণ্ড: প্রতিপক্ষের চুল ধরে টানায় ২ লাল কার্ড এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা কমায়: রাষ্ট্রপতি উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা দেশের চার জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটির পরিকল্পনা সরকারের কিশোরগঞ্জে পুলিশের কাছে পানির বাড়তি দাম নিল ম্যাক টেস্ট শপ নেগেটিভ বিষয় দর্শক বেশি দেখে: অপু বিশ্বাস

গ্লোরিয়া স্টেইনেমের স্মৃতিকথা: জীবনের পথে এক অবিরাম যাত্রা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:০৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নারীবাদী আন্দোলনের ‘সেকেন্ড ওয়েভ’র একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে গ্লোরিয়া স্টেইনেম বিশ্বজুড়ে পরিচিত। মিস. ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা এবং নারীর সমঅধিকার, নাগরিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়ের একজন নির্ভীক কর্মী হিসেবে তিনি ছয় দশকের বেশি সময় জনসমক্ষে কাজ করেছেন। তবে তার পরিচয় কোনো সম্পর্কের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি কারও স্ত্রী বা সঙ্গী হিসেবে নয়, বরং নিজস্ব সত্তায় পরিচিত।

স্টেইনেমের শৈশবের গল্প প্রথাগত দারিদ্র্যের নয়, বরং ওহাইওর টোলিডোতে তার বাবা লিও এবং পরিবারের সাথে কাটানো অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার। তার বাবা লিও ছিলেন জার্মান ও পোলিশ ইহুদি অভিবাসীদের সন্তান, যার স্থির হয়ে থাকা স্বভাবে ছিল না। গ্রীষ্ম শেষে বিনোদনকেন্দ্রের কাজ কমলে তিনি পরিবার নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন রাস্তায়। গ্লোরিয়া তার বাবার কাছ থেকেই শিখেছিলেন কীভাবে ধাতু ও রত্নের প্রকৃত মূল্য বুঝতে হয়, যা তাদের পরিবারের জন্য সম্পদ হিসেবে কাজ করত। তার বাবা কখনো প্রতারক ছিলেন না, বরং এক স্বাধীনচেতা মানুষ হিসেবে তিনি পরিবারের সাথে পথে থাকতেই ভালোবাসতেন।

লেখিকা এবং সাংবাদিক হিসেবে স্টেইনেম তার মায়ের জীবন ও সামাজিক সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়েছিলেন। স্মিথ কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি বুঝতে পারেন, তার নিজের জীবন অনেকটা সেই পথ যা তার মা উপভোগ করতে পারেননি। তবে তিনি তার বাবার মতোই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটে চলেছেন, মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তার স্মৃতিকথায় খুব একটা অনুশোচনা নেই, যদিও বাবার মৃত্যুর আগে তার কাছে থাকতে না পারার একটি বড় আফসোস রয়ে গেছে।

উইলমা ম্যানকিলারের সাথে তার বন্ধুত্ব ছিল গভীর এবং অখন্ডতার প্রতীক। তার স্মৃতিকথায় অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির আনাগোনা থাকলেও, তিনি মূলত আদিবাসী আমেরিকানদের ‘টকিং সার্কেল’ পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন—যেখানে সবাই সমান বৃত্তে বসে একে অপরের কথা শোনে। তিনি বিশ্বাস করতেন, পরিবর্তন কোনো একজন মহান ব্যক্তির হাতে আসে না, বরং মানুষ যখন পাশাপাশি দাঁড়ায় তখনই তা সম্ভব হয়।

স্টেইনেমের জীবন কোনো বদ্ধ স্মৃতির ঘর নয়, বরং একটি দীর্ঘ রাস্তার মতো যেখানে প্রতিটি বাঁকে নতুন মানুষ ও নতুন গল্প অপেক্ষা করে। তিনি নিজের গল্প বলতে বলতে অন্যের গল্পে হারিয়ে যান। পাঠকরা তার এই জীবনযাত্রায় কিছুদূর সঙ্গী হওয়ার সুযোগ পান, কিন্তু ঠিক যখন গভীরে পৌঁছানোর সময় হয়, তিনি এক হাসিতে বিদায় জানিয়ে নতুন যাত্রার দিকে পা বাড়ান। তার দর্শনের মূল কথাই ছিল—থেমে না থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্লোরিয়া স্টেইনেমের স্মৃতিকথা: জীবনের পথে এক অবিরাম যাত্রা

আপডেট সময় : ১১:০৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারীবাদী আন্দোলনের ‘সেকেন্ড ওয়েভ’র একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে গ্লোরিয়া স্টেইনেম বিশ্বজুড়ে পরিচিত। মিস. ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা এবং নারীর সমঅধিকার, নাগরিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়ের একজন নির্ভীক কর্মী হিসেবে তিনি ছয় দশকের বেশি সময় জনসমক্ষে কাজ করেছেন। তবে তার পরিচয় কোনো সম্পর্কের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি কারও স্ত্রী বা সঙ্গী হিসেবে নয়, বরং নিজস্ব সত্তায় পরিচিত।

স্টেইনেমের শৈশবের গল্প প্রথাগত দারিদ্র্যের নয়, বরং ওহাইওর টোলিডোতে তার বাবা লিও এবং পরিবারের সাথে কাটানো অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার। তার বাবা লিও ছিলেন জার্মান ও পোলিশ ইহুদি অভিবাসীদের সন্তান, যার স্থির হয়ে থাকা স্বভাবে ছিল না। গ্রীষ্ম শেষে বিনোদনকেন্দ্রের কাজ কমলে তিনি পরিবার নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন রাস্তায়। গ্লোরিয়া তার বাবার কাছ থেকেই শিখেছিলেন কীভাবে ধাতু ও রত্নের প্রকৃত মূল্য বুঝতে হয়, যা তাদের পরিবারের জন্য সম্পদ হিসেবে কাজ করত। তার বাবা কখনো প্রতারক ছিলেন না, বরং এক স্বাধীনচেতা মানুষ হিসেবে তিনি পরিবারের সাথে পথে থাকতেই ভালোবাসতেন।

লেখিকা এবং সাংবাদিক হিসেবে স্টেইনেম তার মায়ের জীবন ও সামাজিক সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়েছিলেন। স্মিথ কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি বুঝতে পারেন, তার নিজের জীবন অনেকটা সেই পথ যা তার মা উপভোগ করতে পারেননি। তবে তিনি তার বাবার মতোই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটে চলেছেন, মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তার স্মৃতিকথায় খুব একটা অনুশোচনা নেই, যদিও বাবার মৃত্যুর আগে তার কাছে থাকতে না পারার একটি বড় আফসোস রয়ে গেছে।

উইলমা ম্যানকিলারের সাথে তার বন্ধুত্ব ছিল গভীর এবং অখন্ডতার প্রতীক। তার স্মৃতিকথায় অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির আনাগোনা থাকলেও, তিনি মূলত আদিবাসী আমেরিকানদের ‘টকিং সার্কেল’ পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন—যেখানে সবাই সমান বৃত্তে বসে একে অপরের কথা শোনে। তিনি বিশ্বাস করতেন, পরিবর্তন কোনো একজন মহান ব্যক্তির হাতে আসে না, বরং মানুষ যখন পাশাপাশি দাঁড়ায় তখনই তা সম্ভব হয়।

স্টেইনেমের জীবন কোনো বদ্ধ স্মৃতির ঘর নয়, বরং একটি দীর্ঘ রাস্তার মতো যেখানে প্রতিটি বাঁকে নতুন মানুষ ও নতুন গল্প অপেক্ষা করে। তিনি নিজের গল্প বলতে বলতে অন্যের গল্পে হারিয়ে যান। পাঠকরা তার এই জীবনযাত্রায় কিছুদূর সঙ্গী হওয়ার সুযোগ পান, কিন্তু ঠিক যখন গভীরে পৌঁছানোর সময় হয়, তিনি এক হাসিতে বিদায় জানিয়ে নতুন যাত্রার দিকে পা বাড়ান। তার দর্শনের মূল কথাই ছিল—থেমে না থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin