বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিমের চড়া দাম, লোডশেডিংয়ে ব্যাহত বেচাকেনা
- আপডেট সময় : ০৮:০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে নিত্যপণ্যের চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। মিরপুর ১-এর টোলারবাগ বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফার্মের মুরগি প্রতি কেজি ২০০ টাকা এবং প্রতি হালি ডিম ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে এই দামেই পণ্যগুলো বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, মাসখানেক আগে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭০-১৮০ টাকা এবং ডিমের দাম ১৩০-১৪০ টাকা ছিল, যা আগস্টের শুরুতে বেড়ে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে; গতকাল প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩২০-৩৩০ টাকায় এবং কালারবার্ড মুরগি ২৯০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বাজারে মাছের দামও কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। রুই, কাতলা, পাবদা, তেলাপিয়া ও পাঙাশের মতো মাছের দাম বাড়তি। একই সঙ্গে চিনির বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বেসরকারি কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে চিনির সরবরাহ কমেছে। খোলা চিনি বর্তমানে প্রতি কেজি ১১৫ টাকা থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোম্পানিগুলো বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে এই দাম বাড়িয়েছে বলে দাবি করেছে। এদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বুধবার লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হলেও, গতকাল পর্যন্ত খুচরা বাজারে পুরনো দামেই তেল বিক্রি করতে দেখা গেছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদনের পর নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, গত দুই-তিন দিনে বড় ধরনের কোনো আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়নি। তবে অবসরে যাওয়া সরকারি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে, কিন্তু গত কয়েক বছরে জিনিসপত্রের দাম ইতিমধ্যে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
বাজারগুলোতে লোডশেডিংয়ের কারণে বেচাকেনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদি ব্যবসায়ী হুমায়ূন কবির জানান, দিনে অন্তত তিনবার বিদ্যুৎ চলে যায় এবং প্রতিবার এক ঘণ্টার বেশি সময় লোডশেডিং থাকে। অন্ধকার ও গরমে ক্রেতারা বাজারে আসতে আগ্রহী হন না। মাছ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় জ্যান্ত মাছ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাব হচ্ছে। এতে প্রতিদিন কিছু মাছ মারা যাচ্ছে এবং লোকসান দিয়ে তা বিক্রি করতে হচ্ছে।
তাতে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২০৪ টাকা হয়েছে।



























