ফিশিং লিংকের ফাঁদে ব্যাংক খালি: সিআইডির হাতে গ্রেফতার চক্রের ২ সদস্য
- আপডেট সময় : ০৩:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

মোবাইলে ‘সফটওয়্যার আপডেট করুন’—এমন একটি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে ফিশিং লিংকের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন নীলফামারীর বাসিন্দা শাহীদ আল ইমরান সৌরভ (৩৬) এবং রংপুরের মো. সাগর হোসেন (২৮)। সিআইডি জানায়, গত ২ জুন এক ব্যক্তির মোবাইল ফোনে সফটওয়্যার আপডেটের নামে একটি বার্তা আসে। বার্তার সঙ্গে থাকা ফিশিং লিংকে ক্লিক করার সাথে সাথে ভুক্তভোগীর ফোন লক হয়ে যায় এবং ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ সাইবার অপরাধীদের হাতে চলে যায়। এরপর ফোনটি সচল হলে তিনি দেখতে পান, তার ব্যাংক হিসাব থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন ধাপে মোট ৯ লাখ ৮৬ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হলে সিআইডি তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের এক পর্যায়ে ব্যাংক লেনদেনের তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর রংপুরের ডিসি বাংলো মোড়ের গোমস্তাপাড়া ও হনুমানতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি চেক বই, একটি ভিসা প্লাটিনাম কার্ড, একটি ভিসা ডেবিট কার্ড এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাগর হোসেন জানান, তারা ফেসবুক ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী চক্রের সাথে যুক্ত ছিলেন। সাধারণ মানুষের ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর সেই টাকা বিদেশে অবস্থানরত চক্রের মূল সদস্যদের কাছে পাঠানো হতো, যার বিনিময়ে তারা কমিশন পেতেন। সিআইডি জানিয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত দেশি-বিদেশি অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ডিজিটাল সেবা ব্যবহারকারীদের সতর্ক করে সিআইডি পরামর্শ দিয়েছে, অপরিচিত নম্বর থেকে আসা সফটওয়্যার আপডেট, পুরস্কার, চাকরি কিংবা ব্যাংকিং অফারসংক্রান্ত সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো বার্তা পাওয়ার পর মোবাইল ফোন অস্বাভাবিক আচরণ করলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।





























