বগুড়ার শেরপুরে গ্রাম আদালতে মিলছে ছোটখাটো বিরোধের দ্রুত সমাধান
- আপডেট সময় : ০৮:০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার নিয়মিত বসছে গ্রাম আদালত। জমিজমা নিয়ে বিরোধ, পাওনা টাকা আদায়, পারিবারিক কলহ এবং ছোটখাটো মারধরের মতো অভিযোগগুলো স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির কাছেই বিচার পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাঁদের সময় ও হয়রানি দুটোই কমিয়ে এনেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে শেরপুরের ১০টি ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে মোট ৮৮টি অভিযোগ জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ৪৮টি নিষ্পত্তি হয়েছে। খামারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান জানান, ইউপি চেয়ারম্যান ও পাঁচ সদস্যের একটি দল বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এই প্রক্রিয়ায় দুই ইউপি সদস্য এবং বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের দুজন করে গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত থাকেন। গত আগস্টে তাঁদের ইউনিয়নে চারটি মামলার মধ্যে তিনটি নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া গাড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তবিবুর রহমান জানিয়েছেন, গত মাসে তাঁর ইউনিয়নে সাতটি মামলার মধ্যে দুটি নিষ্পত্তি হয়েছে।
গ্রাম আদালতের এই কার্যক্রমে স্থানীয়রা বেশ উপকৃত হচ্ছেন। কুসুম্বি ইউনিয়নের দক্ষিণ আমইন গ্রামের বাসিন্দা জমির উদ্দিন জমি চাষাবাদ নিয়ে বিরোধের সমাধান পেয়েছেন এই আদালতে। তিনি জানান, পারিবারিকভাবে চেষ্টা করেও সমাধান না হওয়ায় তিনি ইউনিয়ন পরিষদে যান এবং সেখানে দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে বিরোধের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বিচার দেখতে জড়ো হয়েছেন স্থানীয় লোকজনও। গ্রাম আদালতের সামনে অপেক্ষা করছিলেন কুসুম্বি ইউনিয়নের আদুরী খাতুন (৪০)। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাঁর পক্ষে সিদ্ধান্ত হওয়ায় তিনি খুশি। উত্তর পেচুল গ্রামের সুলতান প্রামাণিক (৫৫) এসেছেন পারিবারিক গোরস্তানের তিন শতক জায়গা নিয়ে বিরোধের শুনানিতে। আর বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার সোলধুকরি গ্রামের আবেদা খাতুন (৫০) এসেছেন শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের অভিযোগ নিয়ে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে নিয়মিত গ্রাম আদালত বসছে এবং এর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি যাচাই করে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলার কুসুম্বি এলাকার আবদুল হামিদ (৬০) ও খামারকান্দি ইউনিয়নের আবদুস সালামসহ ওই ইউনিয়নের স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বাড়ির কাছেই ছোটখাটো বিরোধের বিচার পাওয়ার সুযোগ থাকায় মানুষের ভোগান্তি কমছে।




























