ঢাকা ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাঙ্গাইলে ভবঘুরে নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ নিকোলাস তালিয়াফিকো নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছে সন্দেহজনক স্যুটকেস ঘিরে বোম আতঙ্ক পথঘাট পরিচ্ছন্ন রাখা ঈমানের দাবি ও সদকার সওয়াব গফরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ: অভিযুক্তদের বাড়িঘরে ভাঙচুর বার্সেলোনায় ফিরল ‘এমএসএন’ যুগের স্মৃতি, রাফিনিয়া-ইয়ামালদের গোলবন্যা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লঞ্চ ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের যুদ্ধ জিতলে লুটের মালে বিজয়ীরই অধিকার, জাতিসংঘে ঘোষণা ট্রাম্পের বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসনিক পদে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি: বাংলাদেশের শিল্পায়নের নতুন পথ ও সম্ভাবনা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৪০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যাত্রা আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। কৃষি, তৈরি পোশাক রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের হাত ধরে দেশটি যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তা থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর ঘটাতে প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ের সমন্বিত প্রকল্প। এই লক্ষ্য কেবল জিডিপি বাড়ানোর বিষয় নয়, বরং উৎপাদন, আয়, কর্মসংস্থান ও রপ্তানির একটি নতুন ও শক্তিশালী চক্র সৃষ্টির প্রচেষ্টা।

সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশকে নিজস্ব শিল্পায়ন কৌশলের ভিত্তি তৈরি করতে হবে। এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো নীতির ধারাবাহিকতা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, উন্নত অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ। বাংলাদেশকে শুধু শ্রমনির্ভর শিল্পে সীমাবদ্ধ না থেকে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পে নজর দিতে হবে। পোশাক শিল্পের পাশাপাশি চামড়া, ওষুধ, প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো খাতগুলোতে দ্রুত সম্প্রসারণ জরুরি।

শিল্পায়নের পথে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বিনিয়োগ অনিশ্চয়তা ও দুর্বল অবকাঠামো দূর করতে কার্যকর 'ওয়ান স্টপ সার্ভিস' প্রয়োজন। পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। ভবিষ্যতের কারখানার চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা শিল্পায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত।

ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামকে শিল্প ও লজিস্টিকসের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। মীরসরাই, আনোয়ারা ও মাতারবাড়ীর মতো প্রকল্পগুলোকে একটি সমন্বিত করিডোরের আওতায় আনতে পারলে অর্থনৈতিক শক্তি বহুগুণ বাড়বে। একইসাথে উত্তরাঞ্চলকে কৃষি-শিল্পের হাব হিসেবে গড়ে তুলে ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক উন্নয়ন বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক কূটনীতি বজায় রেখে চীন, ভারত, জাপান ও পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব গভীর করতে হবে। দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে অংশীদার হিসেবে গণ্য করা এবং বড় শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা শিল্প অর্থনীতির গভীরতা বাড়াবে। সবশেষে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে উঠে একটি দীর্ঘমেয়াদি 'জাতীয় শিল্পায়ন সনদ' প্রণয়নই হতে পারে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মূল সিঁড়ি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি: বাংলাদেশের শিল্পায়নের নতুন পথ ও সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ১১:৪০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যাত্রা আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। কৃষি, তৈরি পোশাক রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের হাত ধরে দেশটি যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তা থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর ঘটাতে প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ের সমন্বিত প্রকল্প। এই লক্ষ্য কেবল জিডিপি বাড়ানোর বিষয় নয়, বরং উৎপাদন, আয়, কর্মসংস্থান ও রপ্তানির একটি নতুন ও শক্তিশালী চক্র সৃষ্টির প্রচেষ্টা।

সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশকে নিজস্ব শিল্পায়ন কৌশলের ভিত্তি তৈরি করতে হবে। এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো নীতির ধারাবাহিকতা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, উন্নত অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ। বাংলাদেশকে শুধু শ্রমনির্ভর শিল্পে সীমাবদ্ধ না থেকে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পে নজর দিতে হবে। পোশাক শিল্পের পাশাপাশি চামড়া, ওষুধ, প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো খাতগুলোতে দ্রুত সম্প্রসারণ জরুরি।

শিল্পায়নের পথে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বিনিয়োগ অনিশ্চয়তা ও দুর্বল অবকাঠামো দূর করতে কার্যকর 'ওয়ান স্টপ সার্ভিস' প্রয়োজন। পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। ভবিষ্যতের কারখানার চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা শিল্পায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত।

ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামকে শিল্প ও লজিস্টিকসের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। মীরসরাই, আনোয়ারা ও মাতারবাড়ীর মতো প্রকল্পগুলোকে একটি সমন্বিত করিডোরের আওতায় আনতে পারলে অর্থনৈতিক শক্তি বহুগুণ বাড়বে। একইসাথে উত্তরাঞ্চলকে কৃষি-শিল্পের হাব হিসেবে গড়ে তুলে ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক উন্নয়ন বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক কূটনীতি বজায় রেখে চীন, ভারত, জাপান ও পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব গভীর করতে হবে। দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে অংশীদার হিসেবে গণ্য করা এবং বড় শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা শিল্প অর্থনীতির গভীরতা বাড়াবে। সবশেষে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে উঠে একটি দীর্ঘমেয়াদি 'জাতীয় শিল্পায়ন সনদ' প্রণয়নই হতে পারে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মূল সিঁড়ি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin