তিন বছরে বন্ধ ৪০০ পোশাক কারখানা, উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ৪০ শতাংশ
- আপডেট সময় : ০৯:২৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ার মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প এক কঠিন সময় পার করছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানিয়েছে, গত তিন বছরে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। একই সময়ে পোশাক উৎপাদনের ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের প্রতিনিধিরা এই সংকটের বিস্তারিত তুলে ধরেন। বিজিএমইএর মতে, গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অধিকাংশ কারখানা তাদের উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম ব্যবহার করতে পারছে। এতে নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি আদেশ সরবরাহ করা যেমন কঠিন হয়ে পড়ছে, তেমনি বিদেশি ক্রেতাদের কাছে নতুন অর্ডার হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
সংগঠনটির তথ্যানুযায়ী, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার এবং মজুরি সমন্বয়ের কারণেই মূলত উৎপাদন ব্যয় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এর সঙ্গে রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় অনেক উদ্যোক্তা কারখানা টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমেছে এবং চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই মাসেও রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। উদ্যোক্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে বাড়তি উৎপাদন ব্যয়ের পুরোটা পণ্যের দামে সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে মুনাফার সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছে।
সংকট মোকাবিলায় বিজিএমইএ বেশ কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে। এর মধ্যে দ্রুত আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপন, এলএনজি আমদানিতে শুল্ক-কর প্রত্যাহার এবং ১৫০ থেকে ৫০০ কেজি বয়লার রয়েছে এমন কারখানাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার দাবি অন্যতম। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদি কম সুদের ঋণের পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্গো শেড নির্মাণের মতো লজিস্টিকস উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সুরক্ষার জন্য বিজিএমইএ স্বল্প সুদে বাণিজ্যঋণ ও বিশেষ পোস্ট-শিপমেন্ট অর্থায়ন সুবিধা চালুর পাশাপাশি গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড ও প্রযুক্তি উন্নয়ন তহবিলে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা ধরে রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি করার উদ্যোগ নিতেও তাগিদ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজিএমইএ নেতাদের বক্তব্য শুনে পোশাকশিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে অভিহিত করেন এবং শিল্প রক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতিগত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।



























