যশোর শহরের ফুটপাতে জনপ্রিয় হচ্ছে সাশ্রয়ী ও বিষমুক্ত শাকসবজির বাজার
- আপডেট সময় : ০১:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

যশোর শহরের দড়াটানা থেকে হাসপাতাল মোড়গামী ব্যস্ত সড়কের ব্রিজের ফুটপাতে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জমে উঠছে দেশি শাকসবজির এক অনন্য বাজার। ডুমুর, কচুশাক, থানকুনি পাতা, কচুর ডাটা, ওলের ডাটা, কলার মোচা, কচুর ফুল, কলমি শাক, শাপলা ও চালকুমড়ার শাকের মতো নানা ধরনের পণ্য এখানে ১০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, এই পেশায় জড়িত প্রায় ১০ থেকে ১২ জন ব্যবসায়ী প্রতিদিন ৩০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন।
এই বাজারের প্রধান আকর্ষণ হলো এখানকার শাকসবজি সার ও ফরমালিনমুক্ত এবং তুলনামূলক সস্তা। বেশিরভাগ শাক ১০ থেকে ২০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হয়, আবার কিছু পণ্য কেজি হিসেবে ২০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আগে মূলত নিম্ন আয়ের মানুষেরা এখানে কেনাকাটা করলেও এখন মধ্যবিত্ত এবং সচ্ছল ক্রেতারাও ব্যক্তিগত গাড়িতে এসে ভিড় করছেন। বিক্রেতারা জানান, অনেক ক্রেতা এখন আর দামাদামি করেন না এবং পরিচিতদের জন্য তারা ভালো মানের সবজি আলাদা করে রাখেন।
ফুটপাতে ২৩ বছর ধরে সবজি বিক্রি করছেন শাহেরা খাতুন। তিনি জানান, ২০০৩ সালে যখন তিনি এখানে বসতেন, তখন এক আঁটি শাক মাত্র ২ টাকায় বিক্রি হতো। ললু শেখ নামের আরেক বিক্রেতা মিষ্টি কুমড়া কেজি ৩০ টাকা, আমড়া ২০ টাকা এবং রাল শাক ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি করছেন। তার দৈনিক বিক্রি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। মাসে ৩০ দিন বিক্রি করতে পারলে মোট বিক্রির অঙ্ক দাঁড়ায় ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। ললু শেখের পাশে বসেন নাজির শংকরপুর এলাকার আল-আমিন। তার কাছে দেশি মাছের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। তিনি জাপানি মিনার কাপ ১৫০ টাকা, গ্লাসকাপ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, সিলভারকাপ ৭০-৮০ টাকা এবং ট্যাংড়া মাছ ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। একই সঙ্গে কচুর ফুল ১০ টাকা আঁটি, চালকুমড়ার শাক ২০ টাকা আঁটি, কলমি শাক ১০ টাকা আঁটি এবং কলার মোচা ৩০ টাকা পিস দরে বিক্রি করছেন।
শিতারাপুর এলাকার এরশাদ গত ১০ বছর ধরে এখানে পণ্য বিক্রি করছেন। তার কাছে রয়েছে বাদাবি লেবু, নারিকেল, পাকা কলা, কলার মোচা, পেঁপে ও আমড়া। বাদাবি লেবু মানভেদে ২০ থেকে ৩০ টাকা পিস, নারিকেল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, অমৃত সাগর কলা ৬০ টাকা ডজন, কলার মোচা ২০ থেকে ৪০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ৪০ টাকা এবং আমড়া ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তিনি। এছাড়া চাঁদপাড়া এলাকার আকরাম হোসেনের সংগ্রহে রয়েছে সবচেয়ে বেশি বৈচিত্র্যময় পণ্য, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পুঁইশাক, থানকুনি পাতা ও ডুমুর। এছাড়া ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের নুর নাহার এবং ছোট শেখহাটির নাজমা বেগমও তাদের সংসারে বাড়তি আয়ের জন্য এই বাজারে নিয়মিত বসেন। নাজমা বেগম জানান, তার দৈনিক আয় প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।
ক্রেতারা বলছেন, বাজারের প্রচলিত সবজির তুলনায় এগুলো অনেক বেশি পুষ্টিকর ও বিষমুক্ত। হাবিবা সুলতানা নামের এক ক্রেতা জানান, প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া এসব সবজি তার কাছে বেশি পছন্দের। রুবেল আহমেদ নামের আরেক ক্রেতা জানান, এখন শহরের মানুষ কলার মোচা, কচুর ডাটা ও থানকুনি পাতার মতো দেশি খাবারের খোঁজ করছেন। তবে জেলা নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান মিঠু ফুটপাত ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, পথচারীদের অসুবিধা না করে ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট জায়গায় বসার সুযোগ দিলে তাদের জীবিকা রক্ষা ও ফুটপাত সুশৃঙ্খল রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে পণ্যগুলোর মান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।



























