ঢাকা ১২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালে বন্যার তাণ্ডব: মৃতের সংখ্যা ৬১৬, নিখোঁজ আড়াই হাজার আদালতের রায় লেখায় এআই ব্যবহারের সুযোগ নেই: প্রধান বিচারপতি চুয়াডাঙ্গায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘট শুরু দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কমল রৌপ্যের দরও লাউয়াছড়ায় ছাড়া ৯ লজ্জাবতী বানরের ৭টিই মৃত, গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র সপ্তাহের শুরুতেই দেশের বাজারে কমলো সোনার দাম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিমি যানজট, অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু এসএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণ: ১৩ লাখ খাতা যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ শিক্ষা বোর্ডের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রদের বিক্ষোভ, এনসিপি’র কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর সীমান্তে বাস সংঘর্ষে ১৫ আহত, ১ জনের অবস্থা গুরুতর

৭০ লাখ টাকায় নির্মিত অতিথিশালা, ১৪ বছরেও পর্যটকশূন্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অস্কারজয়ী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটায় পর্যটকদের আবাসন সুবিধার লক্ষ্যে ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অতিথিশালা নির্মাণ করেছিল সরকার। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের মসূয়া গ্রামে অবস্থিত এই ভিটায় প্রতিদিন বহু পর্যটক আসলেও, অতিথিশালাটি উদ্বোধনের পর গত ১৪ বছরে সেখানে কোনো পর্যটক রাত্রিযাপন করেননি। অতিথিশালার রেজিস্টার খাতাটি আজও সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে আছে।

২০১১ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এই অতিথিশালা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। প্রকল্পের আওতায় দোতলা ভবন, সীমানাপ্রাচীর ও রাস্তাঘাট উন্নয়নে ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়, যার মধ্যে ৫২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল ভবন নির্মাণ ও আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য। ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে এর উদ্বোধন করা হয়। তবে উদ্বোধনের পর থেকেই নানা প্রশাসনিক জটিলতায় এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে ১৩ আগস্ট দেখা যায়, অতিথিশালার প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। এর দেখভালের দায়িত্বে স্থায়ী কোনো তত্ত্বাবধায়ক না থাকায় মসূয়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের ঝাড়ুদার সঞ্জিৎ চন্দ্র দাসকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সঞ্জিৎ জানান, অতিথিশালা পরিচালনার জন্য তাঁর কোনো বেতন নির্ধারিত নেই। ভবনের ভেতরে সম্প্রতি রং করা হলেও, দীর্ঘদিন অবহেলায় এর আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে এবং এক পর্যায়ে জানালার গ্রিল ও বিদ্যুতের তার চুরির ঘটনাও ঘটেছে। পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিকল হওয়ার পাশাপাশি ভবনটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আফরোজ জানান, থাকার লোক না থাকায় অতিথিশালাটি এতদিন অব্যবহৃত ছিল। তবে সম্প্রতি এটি মেরামত করা হয়েছে এবং এখন যে কেউ চাইলে থাকতে পারবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এর আগে কেবল কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী সেখানে থেকেছেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, অতিথিশালা পরিচালনার জন্য জনবল নিয়োগের বিষয়ে পর্যটন করপোরেশনের কাছে বারবার চিঠি দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সর্বশেষ ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কটিয়াদী সফরকে কেন্দ্র করে অতিথিশালাটি দ্রুত সংস্কার করা হয়। স্থানীয় মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, পরবর্তী উপজেলা কমিটির সভায় তিনি বিষয়টি তুলে ধরবেন। অন্যদিকে, পর্যটন করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক খালিদ মেহেদি হাসান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং জনসংযোগ ব্যবস্থাপক আকতার আহমেদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

অতিথিশালা থেকে ৫০-৬০ কদম দূরে অবস্থিত মসূয়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের সহকারী আবু নাঈম আকন্দ জানান, প্রতিদিনই দূরদূরান্তের পর্যটকেরা ভিটা দেখতে আসেন, কিন্তু অতিথিশালায় কেউ থেকেছেন বলে তাঁর মনে পড়ে না। ১৩ আগস্ট ভিটা দেখতে আসা হোসেনপুরের দুই বন্ধু সাব্বির আহমেদ ও কবির মিয়া জানান, হাতের কাছে পানির ব্যবস্থাও যেখানে কঠিন, সেখানে থাকার ব্যবস্থা না থাকাটা পর্যটকদের জন্য বড় বিড়ম্বনা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

৭০ লাখ টাকায় নির্মিত অতিথিশালা, ১৪ বছরেও পর্যটকশূন্য

আপডেট সময় : ০৯:০০:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

অস্কারজয়ী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটায় পর্যটকদের আবাসন সুবিধার লক্ষ্যে ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অতিথিশালা নির্মাণ করেছিল সরকার। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের মসূয়া গ্রামে অবস্থিত এই ভিটায় প্রতিদিন বহু পর্যটক আসলেও, অতিথিশালাটি উদ্বোধনের পর গত ১৪ বছরে সেখানে কোনো পর্যটক রাত্রিযাপন করেননি। অতিথিশালার রেজিস্টার খাতাটি আজও সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে আছে।

২০১১ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এই অতিথিশালা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। প্রকল্পের আওতায় দোতলা ভবন, সীমানাপ্রাচীর ও রাস্তাঘাট উন্নয়নে ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়, যার মধ্যে ৫২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল ভবন নির্মাণ ও আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য। ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে এর উদ্বোধন করা হয়। তবে উদ্বোধনের পর থেকেই নানা প্রশাসনিক জটিলতায় এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে ১৩ আগস্ট দেখা যায়, অতিথিশালার প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। এর দেখভালের দায়িত্বে স্থায়ী কোনো তত্ত্বাবধায়ক না থাকায় মসূয়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের ঝাড়ুদার সঞ্জিৎ চন্দ্র দাসকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সঞ্জিৎ জানান, অতিথিশালা পরিচালনার জন্য তাঁর কোনো বেতন নির্ধারিত নেই। ভবনের ভেতরে সম্প্রতি রং করা হলেও, দীর্ঘদিন অবহেলায় এর আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে এবং এক পর্যায়ে জানালার গ্রিল ও বিদ্যুতের তার চুরির ঘটনাও ঘটেছে। পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিকল হওয়ার পাশাপাশি ভবনটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আফরোজ জানান, থাকার লোক না থাকায় অতিথিশালাটি এতদিন অব্যবহৃত ছিল। তবে সম্প্রতি এটি মেরামত করা হয়েছে এবং এখন যে কেউ চাইলে থাকতে পারবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এর আগে কেবল কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী সেখানে থেকেছেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, অতিথিশালা পরিচালনার জন্য জনবল নিয়োগের বিষয়ে পর্যটন করপোরেশনের কাছে বারবার চিঠি দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সর্বশেষ ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কটিয়াদী সফরকে কেন্দ্র করে অতিথিশালাটি দ্রুত সংস্কার করা হয়। স্থানীয় মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, পরবর্তী উপজেলা কমিটির সভায় তিনি বিষয়টি তুলে ধরবেন। অন্যদিকে, পর্যটন করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক খালিদ মেহেদি হাসান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং জনসংযোগ ব্যবস্থাপক আকতার আহমেদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

অতিথিশালা থেকে ৫০-৬০ কদম দূরে অবস্থিত মসূয়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের সহকারী আবু নাঈম আকন্দ জানান, প্রতিদিনই দূরদূরান্তের পর্যটকেরা ভিটা দেখতে আসেন, কিন্তু অতিথিশালায় কেউ থেকেছেন বলে তাঁর মনে পড়ে না। ১৩ আগস্ট ভিটা দেখতে আসা হোসেনপুরের দুই বন্ধু সাব্বির আহমেদ ও কবির মিয়া জানান, হাতের কাছে পানির ব্যবস্থাও যেখানে কঠিন, সেখানে থাকার ব্যবস্থা না থাকাটা পর্যটকদের জন্য বড় বিড়ম্বনা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo