ঢাকা ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ঝিনাইদহে পুকুরে ডুবে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু অনারারি ডক্টরেট পেলেন বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জি প্রাণ গ্রুপে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরির সুযোগ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ ১১ জনের প্রাণহানি হাসিনাকে ‘অমূল্য সম্পদ’ বলা চসিক সচিবের অডিও ফাঁস কিশোরগঞ্জে ইমাম ও পুরোহিতদের সম্মানি ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ালো অস্ট্রেলিয়া, লিড মাত্র ১৫ রানের

তেলভিত্তিক উৎপাদনে ফেরা হচ্ছে লোডশেডিং বন্ধে

হীমেল কুমার মিত্র স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জুন ২০২৩ ৪৪২ বার পড়া হয়েছে

তেলভিত্তিক উৎপাদনে ফেরা হচ্ছে লোডশেডিং বন্ধে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কয়লা সংকটে (৫ জুন) সোমবার বন্ধ হয়ে গেছে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের জুলাই মাসে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো বন্ধ করার ফলে তখন প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই পরিস্থিতি সহসা উন্নত হওয়ার কোনো আভাস নেই। ডলার সংকট না কাটায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো যথেষ্ট পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করতে পারছে না।

জানা গেছে, বর্তমান সংকট নিরসনে তেলভিত্তিক প্ল্যান্টগুলোতে ফের উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছে পিডিবি।

রামপাল ও পায়রাসহ খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে ২০টি। এর মধ্যে খুলনা অঞ্চলে ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক কেন্দ্র আছে ছয়টি। এগুলো হলো- খুলনা ১১৫ পিপি মেগাওয়াট, ফাঁদপুর ৫০ মেগাওয়াট পিকিং পিপি, গোপালগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট, নোয়াপাড়া ৪০ মেগাওয়াট, রূপসা ১০৫ মেগাওয়াট ও মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

ডিজেলভিত্তিক আছে তিনটি কেন্দ্র। সেগুলো হলো- খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট সিসিপিপি, নোয়াপাড়া ১০০ মেগাওয়াট ও খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট সিসিপিপি।

গ্যাস ভিত্তিক আছে দুটি কেন্দ্র- খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট (উৎপাদনে আসেনি) ও ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট। এছাড়া মোংলায় অরিয়ন ১০০ মেগাওয়াটের সোলার প্লান্ট আছে একটি।

অপরদিকে বরিশাল অঞ্চলে ফার্নেস তেলভিত্তিক প্ল্যান্ট আছে ২টি। সেগুলো হলো সামিটের মালিকানাধীন বরিশাল ১১০ মেগাওয়াট পিপি ও ১৫০ মেগাওয়াট ইউনাইটেড পায়রা পাওয়ার লিমিটেড।

বরিশালে গ্যাসভিত্তিক তিনটি কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ভোলা ৩৩ মেগাওয়াট পিপি, ভোলা ২২৫ মেগাওয়াট সিসিপিপি ও ২২০ মেগাওয়াট ভোলা নতুন বিদ্যুৎ লিমিটেড। একটিমাত্র কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র হলো বানসাল ৩০৭ মেগাওয়াট।

কেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা (খুলনার ২২৫ ও ৩৩০ মেগাওয়াট বাদে) ২ হাজার ৩৮০ মেগাওয়াট।

যদিও রামপাল ও পায়রা একত্রে ২ হাজার ৫৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এ দুটো বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগে ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো খুলনা, বরিশালসহ আশেপাশের অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতো।

ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে তেলের অভাবে খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট, রূপসা ১০৫ মেগাওয়াট, মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট এবং সামিটের ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ ছিল।

তবে পিজিসিবির সর্বশেষ রিপোর্টের (৫ জুন) তথ্যানুসারে, খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট প্লান্ট থেকে ১২০ মেগাওয়াট, রূপসা ১০৫ মেগাওয়াট থেকে ১৭ মেগাওয়াট ও সামিটের ১১০ মেগাওয়াট থেকে ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে তেলের চাহিদাপত্র পাঠায় পিডিবি। বিপিসি সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জুন মাসে পিডিবির তেলের চাহিদা ছিল ৫৫ হাজার মেট্রিক টন। যা এরইমধ্যে তাদেরকে সরবরাহ করা হয়েছে। তবে লোডশেডিং পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিপিসির কাছে পিডিবি অতিরিক্ত তেল চেয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) এস এম ওয়াজেদ আলী জানান, পায়রার ঘাটতি মেটানোর জন্য আমরা কয়েকটি তেলভিত্তিক প্ল্যান্ট চালু করেছি। এর মধ্যে সামিটসহ বেশ কয়েকটি প্ল্যান্ট রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি পায়রা উৎপাদনে আসার আগে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও লোডশেডিং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর থেকেই লোডশেডিং বাড়ছিল, এখন আরও বাড়বে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পায়রা সংলগ্ন তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

তেলভিত্তিক উৎপাদনে ফেরা হচ্ছে লোডশেডিং বন্ধে

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জুন ২০২৩

কয়লা সংকটে (৫ জুন) সোমবার বন্ধ হয়ে গেছে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের জুলাই মাসে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো বন্ধ করার ফলে তখন প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই পরিস্থিতি সহসা উন্নত হওয়ার কোনো আভাস নেই। ডলার সংকট না কাটায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো যথেষ্ট পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করতে পারছে না।

জানা গেছে, বর্তমান সংকট নিরসনে তেলভিত্তিক প্ল্যান্টগুলোতে ফের উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছে পিডিবি।

রামপাল ও পায়রাসহ খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে ২০টি। এর মধ্যে খুলনা অঞ্চলে ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক কেন্দ্র আছে ছয়টি। এগুলো হলো- খুলনা ১১৫ পিপি মেগাওয়াট, ফাঁদপুর ৫০ মেগাওয়াট পিকিং পিপি, গোপালগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট, নোয়াপাড়া ৪০ মেগাওয়াট, রূপসা ১০৫ মেগাওয়াট ও মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

ডিজেলভিত্তিক আছে তিনটি কেন্দ্র। সেগুলো হলো- খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট সিসিপিপি, নোয়াপাড়া ১০০ মেগাওয়াট ও খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট সিসিপিপি।

গ্যাস ভিত্তিক আছে দুটি কেন্দ্র- খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট (উৎপাদনে আসেনি) ও ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট। এছাড়া মোংলায় অরিয়ন ১০০ মেগাওয়াটের সোলার প্লান্ট আছে একটি।

অপরদিকে বরিশাল অঞ্চলে ফার্নেস তেলভিত্তিক প্ল্যান্ট আছে ২টি। সেগুলো হলো সামিটের মালিকানাধীন বরিশাল ১১০ মেগাওয়াট পিপি ও ১৫০ মেগাওয়াট ইউনাইটেড পায়রা পাওয়ার লিমিটেড।

বরিশালে গ্যাসভিত্তিক তিনটি কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ভোলা ৩৩ মেগাওয়াট পিপি, ভোলা ২২৫ মেগাওয়াট সিসিপিপি ও ২২০ মেগাওয়াট ভোলা নতুন বিদ্যুৎ লিমিটেড। একটিমাত্র কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র হলো বানসাল ৩০৭ মেগাওয়াট।

কেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা (খুলনার ২২৫ ও ৩৩০ মেগাওয়াট বাদে) ২ হাজার ৩৮০ মেগাওয়াট।

যদিও রামপাল ও পায়রা একত্রে ২ হাজার ৫৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এ দুটো বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগে ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো খুলনা, বরিশালসহ আশেপাশের অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতো।

ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে তেলের অভাবে খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট, রূপসা ১০৫ মেগাওয়াট, মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট এবং সামিটের ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ ছিল।

তবে পিজিসিবির সর্বশেষ রিপোর্টের (৫ জুন) তথ্যানুসারে, খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট প্লান্ট থেকে ১২০ মেগাওয়াট, রূপসা ১০৫ মেগাওয়াট থেকে ১৭ মেগাওয়াট ও সামিটের ১১০ মেগাওয়াট থেকে ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে তেলের চাহিদাপত্র পাঠায় পিডিবি। বিপিসি সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জুন মাসে পিডিবির তেলের চাহিদা ছিল ৫৫ হাজার মেট্রিক টন। যা এরইমধ্যে তাদেরকে সরবরাহ করা হয়েছে। তবে লোডশেডিং পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিপিসির কাছে পিডিবি অতিরিক্ত তেল চেয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) এস এম ওয়াজেদ আলী জানান, পায়রার ঘাটতি মেটানোর জন্য আমরা কয়েকটি তেলভিত্তিক প্ল্যান্ট চালু করেছি। এর মধ্যে সামিটসহ বেশ কয়েকটি প্ল্যান্ট রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি পায়রা উৎপাদনে আসার আগে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও লোডশেডিং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর থেকেই লোডশেডিং বাড়ছিল, এখন আরও বাড়বে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পায়রা সংলগ্ন তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।