ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদক নির্মূলে গিয়েছিলাম, জমি দখল বা চাঁদাবাজি নয়: ইশরাক রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী রায়ের কপি পেলে বিস্তারিত জানাতে পারব: শামা ওবায়েদ ১৩০ বছর বয়সে হজ করা আলজেরিয়ার প্রবীণ নারী আর নেই ইসলামপুর প্রেসক্লাবে সংবর্ধিত ডেইলি বাংলাদেশের সম্পাদক শাহিদুর রহমান শাহিদ রাশিয়ার যুদ্ধে প্রাণ হারালেন কুমিল্লার চান্দিনার যুবক সাগর আইসিসির নতুন বলের নিয়মে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে সামরিক দায়িত্ব এড়াতে পলাতক ১ লাখ ১০ হাজার জীবননগরে নিখোঁজ ভ্যানচালকের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছানোর সিদ্ধান্ত অক্টোবরেই পাওয়ার আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর

খোলা বাজারে ডলারের নতুন দাম নির্ধারণ করল মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খোলা বাজারে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে নতুন বিনিময় হার নির্ধারণ করেছে মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমসিএবি)। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে প্রতি ডলার ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায় কেনা হবে এবং গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা হবে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায়।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডলারের এই নতুন দর ঘোষণা করেন এমসিএবি সভাপতি এম এস জামান। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী গৌতম দেসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। এম এস জামান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকেই এই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সংগঠনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশের সব মানি চেঞ্জারকে এই বিনিময় হার জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ডলারের বাজারে চলমান অস্থিতিশীলতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমসিএবি সভাপতি বলেন, বাজারে অনৈতিক কারসাজির পেছনে মানি চেঞ্জারদের কোনো দায় নেই, বরং এর জন্য ব্যাংকগুলোই দায়ী। তিনি দাবি করেন, মানি চেঞ্জার খাতের পরিধি অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় এই খাতের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ বা ম্যানিপুলেশন করার কোনো সুযোগ নেই। করোনা-পরবর্তী সময়ে ডলারের বাজারের অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক বড় অঙ্কের মুনাফা লুটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অথচ বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেই তার দায় মানি চেঞ্জারদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়।

এম এস জামান আরও স্পষ্ট করেন যে, মানি চেঞ্জাররা মূলত নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বা ক্যাশ কারেন্সি কেনাবেচা করে থাকে। তারা কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক বা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার লেনদেন করে না এবং সরাসরি রেমিট্যান্স আনার সুযোগও তাদের নেই। বিদেশফেরত যাত্রী এবং প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে আসা নগদ বৈদেশিক মুদ্রাই তাদের ব্যবসার প্রধান উৎস। প্রবাসীরা দেশে নগদ ডলার বা অন্য মুদ্রা নিয়ে এলে মানি চেঞ্জাররা তা কিনে বৈধ উপায়ে বাজারে সরবরাহ করে, যা পরোক্ষভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

ডলারের দর নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা মানি চেঞ্জারদের নেই উল্লেখ করে সংগঠনটির সভাপতি বলেন, তাদের মূলধন ও ব্যবসার সীমিত পরিধি বিবেচনায় নিলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। দেশের সামগ্রিক মুদ্রানীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলার কেনাবেচা এবং শিডিউল ব্যাংকগুলোর জন্য বিনিময় হার নির্ধারণ করলেও মানি চেঞ্জারদের ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয় না। এই বৈষম্য দূর করে বৈধভাবে ডলার লেনদেনের সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন মানি চেঞ্জার ব্যবসা বন্ধ করতে নীতিমালা সহজ করার আহ্বান জানানো হয়। এম এস জামান জানান, বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে তারা ইতিমধ্যে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন মানি চেঞ্জারদের একটি তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। একই সঙ্গে বাজার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত নির্দেশনা তারা কঠোরভাবে অনুসরণ করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

খোলা বাজারে ডলারের নতুন দাম নির্ধারণ করল মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

খোলা বাজারে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে নতুন বিনিময় হার নির্ধারণ করেছে মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমসিএবি)। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে প্রতি ডলার ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায় কেনা হবে এবং গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা হবে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায়।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডলারের এই নতুন দর ঘোষণা করেন এমসিএবি সভাপতি এম এস জামান। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী গৌতম দেসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। এম এস জামান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকেই এই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সংগঠনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশের সব মানি চেঞ্জারকে এই বিনিময় হার জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ডলারের বাজারে চলমান অস্থিতিশীলতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমসিএবি সভাপতি বলেন, বাজারে অনৈতিক কারসাজির পেছনে মানি চেঞ্জারদের কোনো দায় নেই, বরং এর জন্য ব্যাংকগুলোই দায়ী। তিনি দাবি করেন, মানি চেঞ্জার খাতের পরিধি অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় এই খাতের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ বা ম্যানিপুলেশন করার কোনো সুযোগ নেই। করোনা-পরবর্তী সময়ে ডলারের বাজারের অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক বড় অঙ্কের মুনাফা লুটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অথচ বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেই তার দায় মানি চেঞ্জারদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়।

এম এস জামান আরও স্পষ্ট করেন যে, মানি চেঞ্জাররা মূলত নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বা ক্যাশ কারেন্সি কেনাবেচা করে থাকে। তারা কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক বা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার লেনদেন করে না এবং সরাসরি রেমিট্যান্স আনার সুযোগও তাদের নেই। বিদেশফেরত যাত্রী এবং প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে আসা নগদ বৈদেশিক মুদ্রাই তাদের ব্যবসার প্রধান উৎস। প্রবাসীরা দেশে নগদ ডলার বা অন্য মুদ্রা নিয়ে এলে মানি চেঞ্জাররা তা কিনে বৈধ উপায়ে বাজারে সরবরাহ করে, যা পরোক্ষভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

ডলারের দর নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা মানি চেঞ্জারদের নেই উল্লেখ করে সংগঠনটির সভাপতি বলেন, তাদের মূলধন ও ব্যবসার সীমিত পরিধি বিবেচনায় নিলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। দেশের সামগ্রিক মুদ্রানীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলার কেনাবেচা এবং শিডিউল ব্যাংকগুলোর জন্য বিনিময় হার নির্ধারণ করলেও মানি চেঞ্জারদের ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয় না। এই বৈষম্য দূর করে বৈধভাবে ডলার লেনদেনের সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন মানি চেঞ্জার ব্যবসা বন্ধ করতে নীতিমালা সহজ করার আহ্বান জানানো হয়। এম এস জামান জানান, বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে তারা ইতিমধ্যে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন মানি চেঞ্জারদের একটি তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। একই সঙ্গে বাজার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত নির্দেশনা তারা কঠোরভাবে অনুসরণ করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh