দ্রুত দৌড়ে রেকর্ড গড়ছে রোবট, সূক্ষ্ম কাজে কতটা দক্ষ তারা?
- আপডেট সময় : ০৭:২৬:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

বেইজিংয়ে শনিবার (২২ আগস্ট) থেকে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনের ‘বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস’। মানুষের খেলাধুলার আদলে তৈরি এই আসরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রোবটের সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। এই আয়োজনে মোট ৫১টি ইভেন্ট রয়েছে, যার মধ্যে ৩০টি ক্রীড়া এবং ২১টি পরিস্থিতিভিত্তিক প্রতিযোগিতা। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের তথ্যমতে, এসব ইভেন্টের ৪০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে রোবটকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
গেমসের প্রথম দিনেই রোবটগুলো অ্যাথলেটদের বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়েছে। ১০০ মিটার দৌড়ে দুটি রোবট ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডের রেকর্ড স্পর্শ করে, যা বিশ্বের দ্রুততম মানব উসাইন বোল্টের রেকর্ড। গত বছর ১০০ মিটার দৌড়ে বিজয়ী রোবটটির ২০ সেকেন্ডের বেশি সময় লেগেছিল, যা থেকে বোঝা যায় রোবটিকস খাতে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। এছাড়া একই মডেলের আরেকটি রোবট ৪০০ মিটার দৌড় শেষ করেছে ৩৯ দশমিক ৭ সেকেন্ডে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েড ভ্যান নিকের্কের ৪৩ দশমিক ০৩ সেকেন্ডের বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। তবে দৌড় শেষে থামতে গিয়ে রোবটগুলো কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে এবং ফিনিশিং লাইনের কয়েক মিটার পর রাখা মোটা ম্যাটে সজোরে ধাক্কা খেয়েছে।
দৌড়ানোর পাশাপাশি এবারের আয়োজনে দড়ি টানাটানি, ভারোত্তোলন এবং ঐতিহ্যবাহী চীনা খেলা ‘পিচ-পট’-এর মতো ইভেন্ট রাখা হয়েছে। পিচ-পটে সরু মুখের পাত্রে তিরের মতো কাঠি ছুড়ে ফেলতে হয়। রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লুমোস রোবোটিকসের প্রধান নির্বাহী ইউ চাও বলেন, এই প্রতিযোগিতা রোবটের হার্ডওয়্যার উন্নত করতে সহায়ক। তবে দৌড়ানো বা লাফানোর চেয়ে বাস্তব জগতের সূক্ষ্ম কাজগুলো সম্পন্ন করাই রোবটের প্রকৃত সক্ষমতার পরীক্ষা।
বাস্তব কাজের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের তার সংযোগ, রেস্তোরাঁ ও অফিসের কাজ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং কারখানা পর্যায়ে মালামাল তোলার মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে রোবটগুলোকে। রোবোটিকস খাতে বিনিয়োগকারী শু ছিয়াওশেং জানান, এবারের প্রতিযোগিতার তীব্রতা গত বছরের চেয়ে বেশি হওয়ায় রোবটের ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা ও তাপনিয়ন্ত্রণ সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ পড়ছে। তিনি মনে করেন, চীনের শিল্প খাতের উন্নয়নে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব অনেক।
রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জিরোথের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা হুয়া রং বলেন, প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পরই মূলত আসল পরীক্ষা শুরু হবে। পণ্য বিক্রির পর সেটি ব্যবহারকারীদের বাস্তব সমস্যার কতটা সমাধান করতে পারে, সেটিই হবে দীর্ঘমেয়াদী মূল প্রতিযোগিতা। এছাড়া বেইজিংভিত্তিক স্টার্টআপ গ্যালবট জানিয়েছে, তারা স্বয়ংক্রিয় হিউম্যানয়েড রোবটের মাধ্যমে টেনিস ম্যাচ আয়োজন করবে, যেখানে বলের গতিপথ অনুসরণ, সার্ভ করা ও প্রতিপক্ষের শট ফেরানোর মতো দক্ষতা যাচাই করা হবে।
রোবটের ক্ষেত্রে এটা ২০২৫ সালের তুলনায় বড় অগ্রগতি।




























