কুয়েতকে দেওয়া ২০ টন উপহারের মাছ যাচ্ছে নিলামে, যেভাবে কেনা যাবে
- আপডেট সময় : ০৩:৩৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

কুয়েত সরকারকে উপহার হিসেবে পাঠানোর কথা ছিল ২০ টন মাছ। কিন্তু ফ্লাইট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কুয়েত সরকার সেই উপহার নিতে পারেনি। প্রায় চার মাস অপেক্ষার পর অবশেষে এই মাছ নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মধ্যপ্রাচ্যে জরুরি খাদ্য সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কুয়েতকে উপহার দেওয়ার জন্য এই উচ্চমানসম্পন্ন (প্রিমিয়াম কোয়ালিটি) মাছ কেনা হয়েছিল। উপহারের তালিকায় চাল ও মাছসহ কিছু পণ্য ছিল। কুয়েত সরকার উপহারের চাল নিলেও শেষ পর্যন্ত মাছ নেয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মাছ পচনশীল পণ্য হওয়ায় বাণিজ্যিক ফ্লাইটে তা নিয়ে যেতে অনাগ্রহ দেখায় কুয়েত কর্তৃপক্ষ। তারা নিজেদের নিয়মিত ফ্লাইটে এই উপহার নেওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত ফ্লাইট জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি।
উপহারের এই ২০ টন মাছের মধ্যে রয়েছে ১০ টন গলদা চিংড়ি, ৫ টন বাগদা চিংড়ি এবং ৫ টন রুপচাঁদা। বর্তমানে এসব মাছ খুলনার বাটিয়াঘাটার ভান্ডারকোট এলাকার ট্রাস্ট সি-ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রসেসিং প্ল্যান্টে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে ঢাকার ক্রেতারা যাতে সহজেই মাছের মান যাচাই করতে পারেন, সে জন্য খুলনা থেকে কিছু নমুনা মাছ ঢাকায় আনা হয়েছে। আগ্রহী ক্রেতারা আজ রোববার ও আগামীকাল সোমবার সরেজমিনে এই মাছ দেখার সুযোগ পাবেন। এরপর আগামী মঙ্গলবার দরপত্র জমা দেওয়া যাবে।
টিসিবির মুখপাত্র ও উপপরিচালক শাহাদত হোসেন জানান, ফ্লাইট জটিলতার কারণেই উপহারের মাছ কুয়েতে পাঠানো সম্ভব হয়নি এবং এ কারণেই এগুলো নিলামে তোলা হচ্ছে। গত ১৮ আগস্ট এই মাছ নিলামে বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে টিসিবি।
নিলামে অংশ নেওয়ার জন্য টিসিবি কিছু নির্দিষ্ট শর্ত নির্ধারণ করেছে। শর্ত অনুযায়ী, কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কমপক্ষে ৫০০ কেজি মাছ কিনতে হবে। আগ্রহীদের নিজস্ব প্যাডে মাছের ধরন, পরিমাণ, প্রতি কেজির দর, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল ঠিকানার পাশাপাশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। এই দরপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র টিসিবির ঢাকার প্রধান কার্যালয় ছাড়াও চট্টগ্রাম ও খুলনা কার্যালয়ে জমা দেওয়া যাবে।
এছাড়া নিলামে অংশ নিতে জামানত হিসেবে ফেরতযোগ্য সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। গলদা চিংড়ি, বাগদা চিংড়ি ও রুপচাঁদার জন্য আলাদা আলাদা দরপ্রস্তাব ও জামানত জমা দেওয়ার নিয়ম রাখা হয়েছে। দরপত্রের সাথে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ট্রেড লাইসেন্সের কপি জমা দিতে হবে। সর্বোচ্চ দরদাতাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে এবং বিজয়ী দরদাতাকে নির্ধারিত দরের ওপর ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। নিলামে বিজয়ী হওয়ার পরবর্তী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং অর্থ পরিশোধের ৩ দিনের মধ্যে নিজস্ব খরচে কোল্ডস্টোরেজ থেকে মাছ সংগ্রহ করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে মাছ না নিলে নিলাম বাতিল করা হবে। তবে অর্থ পরিশোধের পর সরবরাহ নিতে দেরি হলে প্রতিদিনের জন্য নির্ধারিত কোল্ডস্টোরেজ চার্জ পরিশোধ করতে হবে।





























