যুক্তরাজ্যে ফিরছেন হ্যারি-মেগান, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিবেশীরা নির্বিকার
- আপডেট সময় : ০৮:২৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

রাজপরিবারের সঙ্গে টানাপোড়েনের জেরে যুক্তরাজ্য ছেড়ে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিজাত এলাকা মন্টেসিটোয় আস্তানা গেড়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। দীর্ঘ ছয় বছর পর আবারও যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই দম্পতি। তবে তাঁদের এই বিদায়ের খবরে মন্টেসিটোর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তেমন কোনো হেলদোল বা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই রোদঝলমলে শহরে ৯ হাজারেরও কম মানুষের বসবাস। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিলাসবহুল বাড়ির জন্য পরিচিত মন্টেসিটোয় অপরাহ উইনফ্রে, জেফ ব্রিজেস, রব লো, গিনেথ প্যালট্রো, অরল্যান্ডো ব্লুম এবং ক্যাটি পেরির মতো বিশ্বখ্যাত তারকা ও ধনকুবেররা থাকেন। তারকাদের এই ভিড়ে হ্যারি ও মেগানের যুক্তরাজ্যে ফেরার খবর স্থানীয়দের কাছে খুব একটা গুরুত্ব পাচ্ছে না। যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমগুলো এই খবর ফলাও করে প্রচার করলেও মন্টেসিটোর বাসিন্দারা এ নিয়ে বেশ নির্বিকার।
মন্টেসিটোর বাসিন্দা লেখক ও সাংবাদিক অ্যান লুইস বারডাখ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটগুলো ঘেঁটে দেখেছেন, সেখানে ব্যাংক ডাকাত খোঁজা কিংবা চিড়িয়াখানায় ‘ক্যাপিবারা’ নামের একটি প্রাণী মারা যাওয়ার খবর থাকলেও হ্যারি-মেগানের চলে যাওয়ার কোনো খবর ছিল না। তাঁর মতে, খবরটি ছোট না হলেও এখানকার বাসিন্দাদের কাছে অপরাহ উইনফ্রের মতো তারকাদের পাশে হ্যারি-মেগান আলাদা কিছু নন। নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে আলাপকালে ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী রায়ান সুজা বলেন, ‘তাঁরা যেখানে খুশি থাকুন, এটা তাঁদের নিজস্ব ব্যাপার।’ তবে রায়ান নিজে হলে মন্টেসিটোর চমৎকার আবহাওয়া ছেড়ে যেতেন না বলে জানান।
উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকে মন্টেসিটোয় থাকা ৭৬ বছর বয়সী প্রবীণ বাসিন্দা বুজ বনসাল এই দম্পতির চলে যাওয়ার বিষয়ে স্রেফ এক শব্দে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘কিছুই না। তাঁরা যেখানে যেতে চান, যেতে পারেন।’ হ্যারি-মেগানের বাড়ির কাছেই রিভেন রক এলাকায় থাকেন ৭২ বছর বয়সী জিনা পেনিনো। প্রায়ই হাঁটতে বের হয়ে তিনি এই দম্পতি ও তাঁদের সন্তানদের দেখতেন। তবে তাঁদের যুক্তরাজ্যে ফেরার খবর তিনি জানতেন না। জিনা বলেন, ‘আসলে তাঁদের সঙ্গে আমাদের তেমন পরিচয় নেই। দেখা হলে হাত নাড়েন, গাড়িতে চড়ে চলে যান এবং বাড়ির দরজা বন্ধ করে দেন।’
ক্যালিফোর্নিয়ায় হ্যারি ও মেগানের জীবনটা ছিল বেশ আড়ালে। কোটি ডলারের বাড়িটি উঁচু দেয়াল ও কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত ফটক দিয়ে ঘেরা থাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল নামমাত্র। প্রতিবেশীরা তাঁদের চেয়ে বেশি চিনতেন তাঁদের নিরাপত্তাকর্মী, কুকুর হাঁটাতে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তি বা সন্তানদের দেখাশোনার কর্মীদের। কখনো প্রতিবেশীর কুকুর ভুল করে তাঁদের বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়েছে, আবার কখনো জন্মদিনের দাওয়াত দিতে গিয়ে ভুল করে নিরাপত্তাব্যবস্থার অ্যালার্ম বাজিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া নেটফ্লিক্সের ‘হ্যারি অ্যান্ড মেগান’ তথ্যচিত্রের কিছু অংশও কাছের একটি বাড়িতে ধারণ করা হয়েছিল, যা প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখের বেশি পরিবার দেখেছিল।
ক্যালিফোর্নিয়ায় আসার পর থেকেই আলোকচিত্রী ও সাংবাদিকদের নজরদারির কারণে বাড়তি নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন এই দম্পতি। ২০২০ সালে ড্রোনের মাধ্যমে তাঁদের ছেলে আর্চির ছবি তোলার অভিযোগে তাঁরা মামলাও করেছিলেন। ২০২১ সালে অপরাহ উইনফ্রেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেগান ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডগুলোর বর্ণবাদী আচরণের কারণে তাঁর মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করেন। ২০২৩ সালে আর্চির চতুর্থ জন্মদিনে মন্টেসিটোর একটি সাইকেল দোকানের মালিক জেনিফার ব্লেভিনস তাঁকে একটি সাইকেল উপহার দেন। সেই খবর ছড়ালে ব্লেভিনস ও তাঁর সঙ্গী সমালোচনার মুখে পড়েন। ব্লেভিনস বলেন, ‘মেগানকে এত মানুষ অপছন্দ করেন, তা আমরা জানতাম না।’ তবে তাঁর চোখে মেগান ছিলেন খুবই ভালো মানুষ।
আগামী সেপ্টেম্বরে সন্তান আর্চি ও লিলিবেটকে যুক্তরাজ্যের স্কুলে ভর্তি করানোর উদ্দেশ্যেই মূলত মন্টেসিটো ছাড়ছেন হ্যারি ও মেগান। লস অ্যাঞ্জেলেসের রাজপরিবারবিষয়ক সাংবাদিক এলিজাবেথ হোমস মনে করেন, রাজা তৃতীয় চার্লসের শারীরিক অবস্থার কারণে তাঁদের এই সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক নয়। তবে যুক্তরাজ্যে ফেরার পর রাজপরিবারের সক্রিয় সদস্য না হয়েও তাঁরা কতটা সংবাদমাধ্যমের চোখের আড়ালে থাকতে পারবেন, তা নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সংস্কৃতি গবেষক ডিজে ওয়াল্ডি বলেন, তারকাদের এই চলে যাওয়া তাঁর কাছে অপ্রত্যাশিত নয়। তাঁর মতে, এই অঞ্চলের সঙ্গে তারকাদের সম্পর্ক সাময়িক; একসময় ভালো লাগা ফুরিয়ে গেলে তাঁরা নিজেদের জায়গায় ফিরে যান।




























