চিকিৎসকের ওপর হামলা ও চাঁদা দাবি: বার্তা এল ‘হাউ ডু ইউ ফিল নাও’
- আপডেট সময় : ১২:০১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ৫৫ বছর বয়সী এই চিকিৎসক বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর ডান চোখ ফুলে লাল হয়ে আছে। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বার থেকে বের হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরপরই চারজন পথরোধ করেন। এক পর্যায়ে চালক দরজা খুলে দিলে হামলাকারীরা তাঁকে মারধর শুরু করেন। হামলাকারীদের দাবি ছিল, তিনি একজনের বোনকে ভুল চিকিৎসা করেছেন। যদিও কোনো রোগী বা কোথায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্নের কোনো উত্তর তাঁরা দেননি।
অধ্যাপক আসাদুর রহমান জানান, হামলার কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের নামে তাঁর কাছে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি করে বার্তা পাঠানো হয়েছিল। শুরুতে তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি এবং কোনো ভুয়া গোষ্ঠী বার্তা পাঠিয়েছে বলে ধারণা করেছিলেন। তবে হামলার পর তাঁর সন্দেহ ঘনীভূত হয়েছে। বার্তাটিতে চাঁদা পরিশোধের সময়সীমা ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল। সময়সীমা শেষ হওয়ার দুই দিন পর ১৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর শান্তিনগরে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পর একই নম্বর থেকে অধ্যাপক আসাদুর রহমানের কাছে বার্তা আসে, ‘হাউ ডু ইউ ফিল নাও’। এরপরের দিন আরও দুটি বার্তা পাঠানো হয়, যেখানে জানতে চাওয়া হয় তিনি আরও ঝামেলা করতে চান কি না এবং তাঁর কাছে মিডিয়ার লোকজন পাঠানো হবে কি না। স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে একজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছিলেন। ওই ব্যক্তি পুলিশকে জানিয়েছেন, কেউ একজন তাঁকে জানিয়েছিল এই চিকিৎসকের অনেক টাকা আছে এবং তাঁর সঙ্গে গেলে একটি মুঠোফোন কিনে দেওয়া হবে। ধৃত ওই ব্যক্তির বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে।
এ ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা করেছেন আসাদুর রহমান। এজাহারে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবির কথা উল্লেখ থাকলেও ডেভিড ইমনের নাম বা হামলার পরের বার্তাগুলোর কথা উল্লেখ নেই। পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে আসাদুর রহমান থানা-পুলিশের তদন্তে সন্তুষ্ট নন এবং মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আটক জীবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে আরও একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


























