এক-চীন নীতিতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের প্রশংসা করল বেইজিং
- আপডেট সময় : ০১:১১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

তাইওয়ান ইস্যুতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের 'এক-চীন নীতি'র প্রতি দৃঢ় অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেছে বেইজিং। সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে চীন বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই নীতি অনুসরণের ধারাবাহিকতা মোটেও টলানো যাবে না। চীনের স্টার অনলাইনসহ প্রায় সবকটি গণমাধ্যমে এই খবরটি গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা হয়েছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, তিনি তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসেবেই দেখেন এবং এটি একটি স্বীকৃত এক-চীন নীতি যা সবাই মেনে নিয়েছে। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী তাঁর কাছে জানতে চান, চীন যদি তাইওয়ানের সাথে পুনরায় একত্রীকরণের লক্ষ্যে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে, তবে সেটিকে তিনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন। জবাবে আনোয়ার ইব্রাহিম নিজের দেশের উদাহরণ টেনে বলেন, মালয়েশিয়ার কোনো প্রদেশ যদি দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায়, তবে দেশের অখণ্ডতা রক্ষার্থে তিনিও বাধ্য হয়ে শক্তি প্রয়োগ করবেন। সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায় একটি রাষ্ট্রের এমন প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বেইজিংয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বে একটিই চীন রয়েছে এবং তাইওয়ান চীনের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এক-চীন নীতির প্রতি সমর্থন জানানোই হচ্ছে বিশ্ববাসীর গণ আকাঙ্ক্ষা এবং সঠিক অবস্থানের প্রতীক। লিন জিয়ান আরও যোগ করেন, চীনের এই পুনঃএকত্রীকরণ প্রক্রিয়া ঐতিহাসিক এবং কোনো শক্তিই তা রুখতে পারবে না। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টেও এই একই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়।
অন্য দিকে, আনোয়ার ইব্রাহিমের এই অবস্থানের তীব্র ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বিবৃতিতে তাইওয়ান জানিয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য চীনের সামরিক আগ্রাসনকে সমর্থন করার শামিল। একই সাথে এই ধরনের অবস্থান তাইওয়ানে মালয়েশীয় বিনিয়োগের পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছে।


























