আজ জাতীয় সংসদে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
- আপডেট সময় : ০৯:২৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফলে বাংলাদেশের রাজনীতি, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও সমাজে যে গভীর পরিবর্তন এসেছে, তার অংশ হিসেবে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদে বেলা ২টায় এই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হবে এবং চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদের জন্য নির্বাচনে লড়ছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী ও দলটির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাদের মনোনীত প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন নিয়ে গত ১১ আগস্ট আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, এই নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। ফলে কোনো সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে।
বর্তমানে জাতীয় সংসদে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় ওই আসনটি শূন্য রয়েছে। মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে বিএনপি জোটের হাতে রয়েছে ২৪৭টি ভোট (সংরক্ষিত নারী আসনসহ), যা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের সদস্য সংখ্যা ৯০। এছাড়া বাকি ১২টি ভোটের মধ্যে বিএনপির মিত্র হিসেবে পরিচিত গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির একটি করে ভোট রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশেরও রয়েছে একটি ভোট এবং বাকি আটজন স্বতন্ত্র প্রার্থী, যাদের প্রায় সবাই একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পরাজয় নিশ্চিত জেনেও রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী দেওয়া প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এমন একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে দেশের মানুষকে রাজনৈতিক অবস্থান জানানো যায়। উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯৯১ সালে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস এবং তার বিপরীতে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছিল সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। শেষ পর্যন্ত ওই নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হয়েছিলেন।




























