ঢাকা ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বগুড়ায় সাত মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০৬ জনের প্রাণহানি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩১:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বগুড়া জেলা প্রতিদিন উত্তরবঙ্গের অন্তত ১১টি জেলার যানবাহনের চাপে ২৪ ঘণ্টাই ব্যস্ত থাকে। যানবাহনের এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ২০৬ জন নিহত হয়েছেন। এই হিসেবে প্রতি মাসে গড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৯ জন। অথচ পুরো ২০২৫ সালে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ছিল ১২০। এই ভয়াবহ পরিসংখ্যানে অনেক পরিবার তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছে। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী ও তরুণ রয়েছেন, যাদের অনেকেই অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ঘোগা ব্রিজ ও ধুনট মোড়, নন্দীগ্রাম উপজেলা বাসস্ট্যান্ড ও কুন্দারহাট, শাজাহানপুরের শাকপালা, ছিলিমপুর, বনানী ও লিচুতলা, দুপচাঁচিয়া বাসস্ট্যান্ড, বগুড়া সদরের চারমাথা, তিনমাথা ও বারোপুর, শিবগঞ্জের মহাস্থান ও মোকামতলা, মাটিডালি দ্বিতীয় বাইপাস এবং সাবগ্রাম এলাকাগুলো দুর্ঘটনার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এসব স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, মুখোমুখি সংঘর্ষ কিংবা মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও নসিমনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। বাস-ট্রাক শ্রমিক ও চালকদের ভাষ্যমতে, অনেক ক্ষেত্রে সতর্কতার অভাব এবং অপর পক্ষের বেপরোয়া গতি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এবং মহাসড়কে সংযোগ সড়ক ব্যবহার না করে সরাসরি মূল সড়কে সিএনজি ও মোটরসাইকেল ওঠানোর প্রবণতা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ট্রাফিক পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে জেলার ১২টি থানায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১১৩টি মামলা হয়েছিল, যা ২০২৪ সালে ছিল ১২৫টি। হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়নের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ—এই পাঁচ জেলায় গত বছর মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ৩৩১ জন নিহত ও ২৪৬ জন আহত হয়েছেন, যার বিপরীতে মামলা হয়েছে ২৯৯টি। ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে এই পাঁচ জেলায় ২১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২০৬ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৮৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ২১, ফেব্রুয়ারিতে ২৭, মার্চে ৩৬, এপ্রিলে ২৭, মে মাসে ৩৭, জুনে ২৮ এবং জুলাইয়ে ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

বগুড়া সদর ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ (প্রশাসন) টিআই মো. সালেকুজ্জামান খান জানান, মহাসড়ককেন্দ্রিক জেলা হওয়ায় এখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। তবে অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ না হলে দুর্ঘটনার লাগাম টানা সম্ভব নয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

বগুড়ায় সাত মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০৬ জনের প্রাণহানি

আপডেট সময় : ০৬:৩১:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বগুড়া জেলা প্রতিদিন উত্তরবঙ্গের অন্তত ১১টি জেলার যানবাহনের চাপে ২৪ ঘণ্টাই ব্যস্ত থাকে। যানবাহনের এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ২০৬ জন নিহত হয়েছেন। এই হিসেবে প্রতি মাসে গড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৯ জন। অথচ পুরো ২০২৫ সালে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ছিল ১২০। এই ভয়াবহ পরিসংখ্যানে অনেক পরিবার তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছে। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী ও তরুণ রয়েছেন, যাদের অনেকেই অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ঘোগা ব্রিজ ও ধুনট মোড়, নন্দীগ্রাম উপজেলা বাসস্ট্যান্ড ও কুন্দারহাট, শাজাহানপুরের শাকপালা, ছিলিমপুর, বনানী ও লিচুতলা, দুপচাঁচিয়া বাসস্ট্যান্ড, বগুড়া সদরের চারমাথা, তিনমাথা ও বারোপুর, শিবগঞ্জের মহাস্থান ও মোকামতলা, মাটিডালি দ্বিতীয় বাইপাস এবং সাবগ্রাম এলাকাগুলো দুর্ঘটনার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এসব স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, মুখোমুখি সংঘর্ষ কিংবা মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও নসিমনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। বাস-ট্রাক শ্রমিক ও চালকদের ভাষ্যমতে, অনেক ক্ষেত্রে সতর্কতার অভাব এবং অপর পক্ষের বেপরোয়া গতি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এবং মহাসড়কে সংযোগ সড়ক ব্যবহার না করে সরাসরি মূল সড়কে সিএনজি ও মোটরসাইকেল ওঠানোর প্রবণতা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ট্রাফিক পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে জেলার ১২টি থানায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১১৩টি মামলা হয়েছিল, যা ২০২৪ সালে ছিল ১২৫টি। হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়নের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ—এই পাঁচ জেলায় গত বছর মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ৩৩১ জন নিহত ও ২৪৬ জন আহত হয়েছেন, যার বিপরীতে মামলা হয়েছে ২৯৯টি। ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে এই পাঁচ জেলায় ২১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২০৬ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৮৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ২১, ফেব্রুয়ারিতে ২৭, মার্চে ৩৬, এপ্রিলে ২৭, মে মাসে ৩৭, জুনে ২৮ এবং জুলাইয়ে ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

বগুড়া সদর ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ (প্রশাসন) টিআই মো. সালেকুজ্জামান খান জানান, মহাসড়ককেন্দ্রিক জেলা হওয়ায় এখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। তবে অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ না হলে দুর্ঘটনার লাগাম টানা সম্ভব নয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh