দারাজের মাধ্যমে মাদক বিক্রি: বাড্ডায় কেমিস্ট গ্রেপ্তার, আসামি এমডিও
- আপডেট সময় : ০৩:৩২:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজের অনলাইন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রি করার অভিযোগে এক রসায়নবিদকে (কেমিস্ট) গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গত রোববার রাজধানীর বাড্ডা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ আনিসুর রহমান (৪০) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় দায়ের করা মামলায় আনিসুর রহমান ছাড়াও দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) আসামি করা হয়েছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকার একটি চারতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৬২০ মিলিলিটার তরল মাদক টিএইচসি (টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল) উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। এছাড়া ওই বাসা থেকে মাদক প্রস্তুত ও প্যাকেটজাত করার সরঞ্জাম, ৫০টি ছোট কাচের বোতল, দারাজের লোগোযুক্ত পলিথিন প্যাকেট, কম্পিউটার ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়। টিএইচসি মূলত গাঁজার ঘনীভূত তরল নির্যাস, যা যন্ত্রের সাহায্যে প্রক্রিয়াজাত করে তেলের মতো তৈরি করা হয়। এটি সরাসরি জিবে দিয়ে বা ই-সিগারেটের (ভেপ) ভেতরে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে নেশা হিসেবে ব্যবহার করা হতো। গ্রেপ্তার আনিসুর এটিকে ‘সিবিডি তেল’ বা ‘অ্যারোমেটিক অয়েল’ নামে অনলাইনে বিক্রি করতেন। গত পাঁচ বছরে তিনি প্রায় ৪০৫ বোতল টিএইচসি বিক্রি করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযানের বিবরণ দিয়ে ডিএনসি জানায়, দারাজে বিজ্ঞাপন দেখে কর্মকর্তারা ক্রেতা সেজে প্রথমে ৬০ মিলিলিটার (প্রতিটিতে ২০ মিলিলিটার করে ৩ বোতল) টিএইচসির অর্ডার দেন। গত ১৬ আগস্ট বিকেল চারটা পাঁচ মিনিটে রমনার সেগুনবাগিচা তোপখানা রোডের নকশী টাওয়ারের সামনে সেই পার্সেল পৌঁছে দিতে আসেন দারাজের ডেলিভারিম্যান মো. নাঈম (২০)। বিকেল সাড়ে চারটায় তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে মাদকটি জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নাঈম জানান, তিনি বাড্ডার সাঁতারকুলের একটি ফ্ল্যাট থেকে পার্সেলটি সংগ্রহ করেছিলেন এবং এর ভেতরে কী ছিল তা তিনি জানতেন না। মাদক কারবারে সরাসরি বা পরোক্ষ কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় নাঈমকে আটক করা হয়নি।
নাঈমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাড্ডার পূর্ব পদরদিয়া আলীনগর সাঁতারকুলের ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলে ডিএনসি। বাড়ির মালিক মোহাম্মদ খোকন মিয়াসহ আরেকজনকে সাক্ষী রেখে চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে আনিসুর রহমানকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যে রোববার দুপুর থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রমনা, বাড্ডা ও রামপুরার তিনটি স্থানে অভিযান চালানো হয়।
রোববার রাত ১০টার দিকে অভিযানকারী দল রামপুরায় দারাজের হাব কার্যালয়ে গিয়ে হাব সুপারভাইজার মো. সৈয়দ ইরফানকে (৩১) জিজ্ঞাসাবাদ করে। ইরফান স্বীকার করেন যে দারাজের প্ল্যাটফর্মে টিএইচসির বিজ্ঞাপন ছিল এবং বিজ্ঞাপনের বিষয়গুলো বনানী প্রধান কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেখাশোনা করেন। পরে ইরফান ও জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেনের (৫৩) উপস্থিতিতে পার্সেল সংক্রান্ত নথিপত্র জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার আনিসুর রহমান পেশায় একজন কেমিস্ট। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে জাপানে যান। দেশে ফিরে হাতে তৈরি সাবান বিক্রির ব্যবসা শুরু করলেও এর আড়ালে তিনি মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন। ভারত থেকে অবৈধ পথে এসব মাদক দেশে এনে তিনি ছোট বোতলে ভরে অনলাইনে বিক্রি করতেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, আনিসুর নিজেও মাদকাসক্ত এবং গ্রেপ্তারের পর তাঁর ডোপ টেস্ট করা হয়েছে। অ্যারোমেটিক অয়েল নামে মাদকটি অনলাইনে বিক্রি করা হতো।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেন, ‘দারাজ যাচাই–বাছাই না করে এ মাদক বিক্রি করে আসছিল। অনলাইন ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা আইনগত অপরাধ।’ তিনি আরও জানান, অনলাইনে মাদক কেনাবেচা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি করা হয়। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দারাজের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম বাপ্পীর মুঠোফোনে কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দারাজের আইন কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।



























