ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কূটনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও স্বার্থের সংকট মেঘনায় ইলিশের আকাল, কর্মহীন ভোলার তজুমদ্দিনের পাঁচ হাজার জেলে হাতকড়া পরে বাবার জানাজায় অংশ নিলেন চন্দনাইশের আওয়ামী লীগ নেতা দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প নরসিংদীর শিবপুরে উৎপত্তিস্থল, ঢাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠার কারণ ও প্রতিকার ইরাকি কুর্দিস্তানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা বরুড়ায় আখের বাম্পার ফলন, ভালো দামে খুশি কুমিল্লার চাষিরা গাজায় শান্তি ফেরাতে হামাস নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের জামাতা কুশনারের বৈঠক যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সামরিক রদবদল ও প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে ইরান

বরুড়ায় আখের বাম্পার ফলন, ভালো দামে খুশি কুমিল্লার চাষিরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় এবার আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এই অঞ্চলে আখ চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে। মাঠজুড়ে এখন আখ কাটার ধুম লেগেছে এবং চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় চাষিদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বরুড়ার শিলমুড়ী উত্তর ও দক্ষিণ, ভবানীপুর, আগানগর, ঝলম এবং বরুড়া পৌর এলাকায় ব্যাপকভাবে আখের আবাদ হয়েছে। প্রায় ১৪৭ হেক্টর জমিতে এবার আখের চাষ করেছেন প্রায় ৩৫০ জন চাষি। এসব জমি থেকে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টন আখ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চাষিরা জানান, এক একর জমির তিন ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ৩৩ শতক জমিতে আখ চাষ করে ভালো ফলন হলে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব। যেখানে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় হয় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ফলে অন্য যেকোনো ফসলের তুলনায় আখ চাষে লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

বরুড়ায় প্রধানত বিএসআরআই-৪৭, বিএসআরআই-৪৩ ও বিএসআরআই-৪৬ জাতের আখ চাষ করা হয়। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে সিইউ-২০৮ নামে পরিচিত বিএসআরআই-৪৭ জাতের আবাদ সবচেয়ে বেশি। মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এই জাতের আখের চাহিদাও অনেক। আখের বীজ রোপণ থেকে শুরু করে তা বাজারজাত করতে সময় লাগে প্রায় এক বছর। এবার বীজ ও সারের দাম কিছুটা বাড়লেও বাজারে আখের দাম গত বছরের চেয়ে ভালো। বর্তমানে আকার ও মান অনুযায়ী প্রতিটি আখ পাইকারি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেড়ে যাওয়ায় পাইকাররা কিছুটা বিপাকে পড়লেও সরাসরি মাঠ থেকে আখ সংগ্রহ করছেন। গত বছর পাইকাররা প্রতিটি আখ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় কিনলেও এবার বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। ভালো মানের আখ সংগ্রহ করতে বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এখন সরাসরি কৃষকের জমিতে ভিড় করছেন।

উপজেলার লগ্মসার এলাকার চাষি লিয়াকত আলী জানান, তিনি এবার ৬৪ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করেছেন। চারা, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরিসহ তার প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে তিনি ৪ লাখ টাকার বেশি আখ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। আরেক চাষি শাহীন আলমও ভালো ফলন ও দাম পেয়ে বড় অংকের লাভের আশা করছেন।

বরুড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, আখ চাষের জন্য কৃষকদের আলাদা কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া না হলেও আখের জমিতে জৈব সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলে উপজেলায় দিনদিন আখচাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

বরুড়ায় আখের বাম্পার ফলন, ভালো দামে খুশি কুমিল্লার চাষিরা

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় এবার আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এই অঞ্চলে আখ চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে। মাঠজুড়ে এখন আখ কাটার ধুম লেগেছে এবং চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় চাষিদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বরুড়ার শিলমুড়ী উত্তর ও দক্ষিণ, ভবানীপুর, আগানগর, ঝলম এবং বরুড়া পৌর এলাকায় ব্যাপকভাবে আখের আবাদ হয়েছে। প্রায় ১৪৭ হেক্টর জমিতে এবার আখের চাষ করেছেন প্রায় ৩৫০ জন চাষি। এসব জমি থেকে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টন আখ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চাষিরা জানান, এক একর জমির তিন ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ৩৩ শতক জমিতে আখ চাষ করে ভালো ফলন হলে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব। যেখানে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় হয় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ফলে অন্য যেকোনো ফসলের তুলনায় আখ চাষে লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

বরুড়ায় প্রধানত বিএসআরআই-৪৭, বিএসআরআই-৪৩ ও বিএসআরআই-৪৬ জাতের আখ চাষ করা হয়। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে সিইউ-২০৮ নামে পরিচিত বিএসআরআই-৪৭ জাতের আবাদ সবচেয়ে বেশি। মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এই জাতের আখের চাহিদাও অনেক। আখের বীজ রোপণ থেকে শুরু করে তা বাজারজাত করতে সময় লাগে প্রায় এক বছর। এবার বীজ ও সারের দাম কিছুটা বাড়লেও বাজারে আখের দাম গত বছরের চেয়ে ভালো। বর্তমানে আকার ও মান অনুযায়ী প্রতিটি আখ পাইকারি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেড়ে যাওয়ায় পাইকাররা কিছুটা বিপাকে পড়লেও সরাসরি মাঠ থেকে আখ সংগ্রহ করছেন। গত বছর পাইকাররা প্রতিটি আখ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় কিনলেও এবার বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। ভালো মানের আখ সংগ্রহ করতে বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এখন সরাসরি কৃষকের জমিতে ভিড় করছেন।

উপজেলার লগ্মসার এলাকার চাষি লিয়াকত আলী জানান, তিনি এবার ৬৪ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করেছেন। চারা, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরিসহ তার প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে তিনি ৪ লাখ টাকার বেশি আখ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। আরেক চাষি শাহীন আলমও ভালো ফলন ও দাম পেয়ে বড় অংকের লাভের আশা করছেন।

বরুড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, আখ চাষের জন্য কৃষকদের আলাদা কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া না হলেও আখের জমিতে জৈব সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলে উপজেলায় দিনদিন আখচাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh