রংপুর অঞ্চলে মাছের ঘাটতি ১৯ হাজার টন, সংকট নিরসনে উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ০৭:২০:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও রংপুর অঞ্চলে এখনো মাছের ঘাটতির চিত্র প্রকট। দেশের অন্যান্য বিভাগ যেমন রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও চট্টগ্রামে মাছ উদ্বৃত্ত থাকলেও রংপুর বিভাগ চাহিদা পূরণে পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমানে এই বিভাগের ৮ জেলায় প্রায় ১৯ হাজার মেট্রিক টন মাছের ঘাটতি রয়েছে।
এই ঘাটতির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে পানির সংকটকে দায়ী করা হচ্ছে। রংপুর বিভাগে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার পুকুর থাকলেও তার ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ বা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পুকুরে সারা বছর পানি থাকে না। বেশিরভাগ পুকুর বছরে মাত্র ৩ থেকে ৪ মাস পানিতে পরিপূর্ণ থাকে, বাকি সময় শুকনো পড়ে থাকায় মাছ চাষ ব্যাহত হয়। দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ পুকুর দীর্ঘ সময় পানিশূন্য থাকে।
মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, রংপুর বিভাগে ৫০টি নদ-নদী, ৮৩৭টি বিল এবং ১ হাজার ২০০ খাল থাকলেও স্থায়ী জলাশয়ের সংখ্যা কম। চলতি বছরে এ অঞ্চলের মোট মাছের চাহিদা ৩ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন হয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। ফলে ঘাটতি ১৯ হাজার মেট্রিক টনের বেশি। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত অবক্ষয় এবং পানির স্বল্পতায় প্রায় ৩০ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে, যা মানুষের আমিষের উৎস ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রংপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান তালুকদার জানান, শুধু রংপুর জেলাতেই মাছের চাহিদা ৬৩ হাজার ৯৬ মেট্রিক টন, বিপরীতে উৎপাদন হয় ৫৯ হাজার ১১৯ মেট্রিক টন; অর্থাৎ জেলায় ৩ হাজার মেট্রিক টন ঘাটতি রয়েছে। মৎস্য চাষে আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, খাদ্যের অস্বাভাবিক দাম এবং সরকারি প্রণোদনার অভাবকেও এই সংকটের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে তিস্তার উজানে বাঁধ নির্মাণের ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং দিনাজপুরের বালুময় মাটির পানির ধারণক্ষমতা কম হওয়া পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
তবে পরিস্থিতি উন্নয়নে মৎস্য বিভাগ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিভাগের ৫৮টি উপজেলায় একাধিক অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে এবং দেশি মাছ চাষে চাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। রংপুর মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মঞ্জুরল ইসলাম জানিয়েছেন, ধারাবাহিকভাবে ঘাটতি কমছে এবং পুকুরে ১২ মাস পানি ধরে রাখার প্রযুক্তি ব্যবহারে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রংপুর বিভাগ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।



























