অবসরে যাওয়া ১ লাখ ১৪ হাজার শিক্ষক পাবেন বকেয়া পাওনা
- আপডেট সময় : ০৪:১২:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া পাওনা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে থাকা এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে সরকার। আজ (শনিবার) থেকে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অবসর সুবিধা বোর্ড ও শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্যোগের আওতায় অবসর সুবিধা বোর্ডের প্রায় ৭০ হাজার এবং কল্যাণ ট্রাস্টের ৪৪ হাজারসহ মোট ১ লাখ ১৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী তাদের দীর্ঘদিনের পাওনা অর্থ বুঝে পাবেন। সরকার এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ থোক বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক জানান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্ভোগ লাঘব করতেই সরকার এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো ‘আইবাস’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে, যার ফলে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
অবসর সুবিধা বোর্ড জানিয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের ৭০ হাজার ১১৫টি আবেদন নিষ্পত্তির পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে পুরোনো সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়ায় হাতে-কলমে আবেদন যাচাই করতে হচ্ছে, যা কাজের গতি কিছুটা ধীর করেছে। একজন শিক্ষক মূল বেতনের ৬ শতাংশ চাঁদা জমার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সুবিধা পেতে পারেন।
অন্যদিকে, কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক ইউসুফ আলী জানান, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জমা হওয়া প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির কাজ চলছে। এখানে শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ৪ শতাংশ হারে চাঁদা জমা দেন এবং তারা সর্বোচ্চ আড়াই লাখ ও সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, কল্যাণ ট্রাস্টে প্রতি মাসে গড়ে ৫০-৫৫ কোটি টাকা আয় হলেও প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার ২০০টি নতুন আবেদন জমা পড়ে, ফলে নিয়মিত অর্থের ঘাটতি দেখা দেয়। বর্তমানে জমে থাকা আবেদনগুলো পুরোপুরি নিষ্পত্তি করতে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন।
সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগে অনেকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটলেও, বরাদ্দের বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর পাওনা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারীরা ভবিষ্যতে আরও বড় বরাদ্দের মাধ্যমে দ্রুত পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।


























