ঢাকা ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৭ কোটি মানুষকে ডেটা নেটওয়ার্কে আনতে ৫-৬ হাজার টাকার স্মার্টফোন পিরোজপুরের নাজিরপুরে কলাগাছের ভেলার জমজমাট প্রতিযোগিতা সেলেনা গোমেজের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা, বিনিয়োগকারীদের ১২ লাখ ডলার দাবি ভিডিও কলে প্রেমিকের সাথে কথা বলার সময় মডেল রিধির আত্মহত্যা ভারতের তরুণদের কণ্ঠে আবারও সেই বিতর্কিত ‘আজাদি’ স্লোগান সদরঘাটে চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী নিহত ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থান ও মুজিব হত্যাকাণ্ড: মার্কিন নথির বিশ্লেষণ ১২৮ টাকায় বিক্রি হলো ভারতের ফুটবল ক্লাব জামশেদপুর এফসি হাজীগঞ্জে আব্দুল মান্নানের উদ্যোগে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা জিম্বাবুয়েতে নৌকাডুবি: ৬৮ জনের মরদেহ উদ্ধার, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত

ঘাড় থেকে হাতব্যথা: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকারের কার্যকর উপায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বর্তমান সময়ে দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহার, ভুল ভঙ্গিতে বসা, অতিরিক্ত পরিশ্রম কিংবা বয়সজনিত নানা পরিবর্তনের কারণে ঘাড় থেকে কাঁধ হয়ে হাতে ব্যথা একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই একে সাধারণ মনে করে অবহেলা করলেও এটি অনেক ক্ষেত্রে স্নায়ুর মারাত্মক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

মূলত ঘাড়ের হাড়ের মাঝখানের ডিস্ক ক্ষয়প্রাপ্ত হলে বা সরে গিয়ে স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে ঘাড় থেকে কাঁধ, বাহু, এমনকি আঙুল পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ঝিনঝিন করা, অবশভাব বা দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। এছাড়া ঘাড়ের পেশির টান, সরাসরি আঘাত পাওয়া, দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে কাজ করা এবং সার্ভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিসও এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ।

ব্যথার সঙ্গে হাত অবশ হয়ে এলে, হাতের শক্তি কমে গিয়ে জিনিসপত্র ধরতে অসুবিধা হলে অথবা ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে তা অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে এক্স-রে বা এমআরআই পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক কারণ নির্ণয় করতে হয়।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর ধরন অনুযায়ী ওষুধ, বিশ্রাম ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ফিজিওথেরাপি। সঠিক বসার অভ্যাস, কর্মস্থলে সঠিক অঙ্গবিন্যাস ধরে রাখা এবং ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম নিয়মিত করলে অধিকাংশই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অযথা ঘাড় টানা, ভুল মালিশ কিংবা অভিজ্ঞতাহীন ব্যক্তির মাধ্যমে অনিয়মতান্ত্রিক চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এই সমস্যা প্রতিরোধে প্রতি ৩০-৪০ মিনিট পর পর কাজের মাঝে বিরতি নেওয়া, চোখের সমতলে মোবাইল ধরে রাখা, সঠিক উচ্চতার চেয়ার-টেবিল ব্যবহার করা, উপযুক্ত বালিশে ঘুমানো এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা অত্যন্ত জরুরি। ঘাড় থেকে হাতে ছড়ানো ব্যথায় অযথা সময় ও অর্থ নষ্ট না করে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের অধীনে নির্দিষ্ট ব্যায়াম এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে খুব দ্রুততম সময়ে জটিলতা এড়িয়ে নিরাময় লাভ করা সম্ভব।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, চিফ কনসালট্যান্ট ও চেয়ারম্যান, অ্যাকটিভ ফিজিওথেরাপি সেন্টার, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ অ্যাভিনিউ, ফনিক্স টাওয়ার, সাতরাস্তা, তেজগাঁও, ঢাকা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

ঘাড় থেকে হাতব্যথা: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকারের কার্যকর উপায়

আপডেট সময় : ১২:১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

বর্তমান সময়ে দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহার, ভুল ভঙ্গিতে বসা, অতিরিক্ত পরিশ্রম কিংবা বয়সজনিত নানা পরিবর্তনের কারণে ঘাড় থেকে কাঁধ হয়ে হাতে ব্যথা একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই একে সাধারণ মনে করে অবহেলা করলেও এটি অনেক ক্ষেত্রে স্নায়ুর মারাত্মক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

মূলত ঘাড়ের হাড়ের মাঝখানের ডিস্ক ক্ষয়প্রাপ্ত হলে বা সরে গিয়ে স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে ঘাড় থেকে কাঁধ, বাহু, এমনকি আঙুল পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ঝিনঝিন করা, অবশভাব বা দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। এছাড়া ঘাড়ের পেশির টান, সরাসরি আঘাত পাওয়া, দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে কাজ করা এবং সার্ভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিসও এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ।

ব্যথার সঙ্গে হাত অবশ হয়ে এলে, হাতের শক্তি কমে গিয়ে জিনিসপত্র ধরতে অসুবিধা হলে অথবা ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে তা অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে এক্স-রে বা এমআরআই পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক কারণ নির্ণয় করতে হয়।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর ধরন অনুযায়ী ওষুধ, বিশ্রাম ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ফিজিওথেরাপি। সঠিক বসার অভ্যাস, কর্মস্থলে সঠিক অঙ্গবিন্যাস ধরে রাখা এবং ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম নিয়মিত করলে অধিকাংশই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অযথা ঘাড় টানা, ভুল মালিশ কিংবা অভিজ্ঞতাহীন ব্যক্তির মাধ্যমে অনিয়মতান্ত্রিক চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এই সমস্যা প্রতিরোধে প্রতি ৩০-৪০ মিনিট পর পর কাজের মাঝে বিরতি নেওয়া, চোখের সমতলে মোবাইল ধরে রাখা, সঠিক উচ্চতার চেয়ার-টেবিল ব্যবহার করা, উপযুক্ত বালিশে ঘুমানো এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা অত্যন্ত জরুরি। ঘাড় থেকে হাতে ছড়ানো ব্যথায় অযথা সময় ও অর্থ নষ্ট না করে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের অধীনে নির্দিষ্ট ব্যায়াম এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে খুব দ্রুততম সময়ে জটিলতা এড়িয়ে নিরাময় লাভ করা সম্ভব।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, চিফ কনসালট্যান্ট ও চেয়ারম্যান, অ্যাকটিভ ফিজিওথেরাপি সেন্টার, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ অ্যাভিনিউ, ফনিক্স টাওয়ার, সাতরাস্তা, তেজগাঁও, ঢাকা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy