ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস–সংকটে জনদুর্ভোগ, প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ
- আপডেট সময় : ০৯:৫২:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তীব্র জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার গভীর রাত থেকে সরাইলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে গ্যাস সরবরাহ কিছু সময়ের জন্য চালু হলেও আবারও তা বন্ধ হয়ে যায়, ফলে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক বাসিন্দা নিরুপায় হয়ে মাটির চুলায় রান্না করছেন অথবা হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।
গ্যাসের এই সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। জেলার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা চরম সংকটে পড়েছেন। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে সরাইল উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন চালকরা। এতে সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবদুল হালিম জানান, কিছু চালক বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত বছরখানেক ধরেই রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ থাকে না, তবে বৃহস্পতিবারের মতো এমন সংকট আগে দেখা যায়নি। এর ফলে অটোরিকশার ভাড়াও বেড়ে গেছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনাইটেড কলেজের প্রভাষক হাসনা হেনা জানান, গ্যাস না থাকায় হোটেল থেকে খাবার কিনতে হয়েছে। কান্দিপাড়ার বাসিন্দা আকলিমা বেগম জানান, সারাদিন চুলায় আগুন না জ্বলায় সন্তানদের বাইরে থেকে রুটি কিনে খাওয়াতে হয়েছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ২৩ হাজার ১৭৮ জন আবাসিক গ্রাহক এবং ১৬১ জন বাণিজ্যিক গ্রাহক রয়েছেন। দৈনিক চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। বাখরাবাদের উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুল হক জানান, এলএনজি রক্ষণাবেক্ষণের কাজের কারণে সরবরাহ ও চাপ কমেছে। তবে এই সমস্যা কতদিন স্থায়ী হবে সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
তাঁর অভিযোগ, কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জনপ্রতি ভাড়া ৫০ টাকা; কিন্তু আজ তাঁকে ৭০ টাকা দিতে হয়েছে।
যাওয়া-আসায় অতিরিক্ত ৪০ টাকা খরচ হয়েছে।.অটোরিকশাচালক রাসেল মিয়ার ভাষ্য, সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেই, তাই ভাড়া বেশি নিতে হচ্ছে।গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় আবাসিক গ্রাহকের সংখ্যা ২৩ হাজার ১৭৮।

























