প্রাণনাশের হুমকি: তুরস্কে গোপনে বিমান বদল করেছিলেন ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ০২:১৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সম্ভাব্য প্রাণনাশের হুমকির মুখে গত ৮ জুলাই তুরস্কে অবস্থানকালে গোপনে বিমান বদল করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য ফাঁসের পর মঙ্গলবার ট্রাম্প নিজেই সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
খাবার সরবরাহের ট্রাকে করে তাকে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে সরিয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ছোট বিমানে নেওয়া হয়েছিল। তবে এই অভিযানের সময় বিমানে থাকা সাংবাদিক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের অন্ধকারে রাখায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “তারা চেয়েছিল আমি অন্য একটি ফ্লাইটে, অন্য একটি বিমানে যাই। নিরাপত্তা একই ছিল। কিন্তু তারা আমাকে যেতে বলেছিল, তাই আমি গেছি। তারা যা বলে, আমি তা-ই করি।” তিনি আরও যোগ করেন, “মনে হয় কোনো হুমকি ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমি খুব বেশি কিছু জানতে চাইনি।” তবে এই গোপন অভিযানের খবর জানার পর ট্রাম্পের সঙ্গে ভ্রমণকারী কয়েকজন সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তাদের অভিযোগ, অজান্তেই তাদের ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্তিমূলক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করেছে হোয়াইট হাউস।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ভিডিও ক্যামেরা ও আলোকচিত্রীদের সামনে ট্রাম্প প্রথমে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন। এএফপির ছবিতে বিমানের সামনে ও পেছনে দুটি সরবরাহের কনটেইনার দেখা যায়। কিন্তু পরে জানা যায়, ট্রাম্প গোপনে বিমানটি থেকে নেমে একটি কার্গো কনটেইনারের ভেতরে ঢোকেন এবং সেখান থেকে মার্কিন বিমানবাহিনীর ছোট একটি বিমানে গিয়ে ওঠেন।
অথচ এয়ার ফোর্স ওয়ানের পৃথক অংশে থাকা প্রায় এক ডজন সাংবাদিক এই বিমান বদলের খবর জানতেন না। ইরানের হামলার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তারা ওই বিমানেই তুরস্ক ত্যাগ করেন। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “আসলে আমি যে বিমানে উড়েছি, সেটিই বেশি ঝুঁকিতে ছিল বলে মনে করি। কারণ আমার ধারণা, তারাই ওই বিমানটিকে বেশি লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করত।”
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এয়ার ফোর্স ওয়ানকে কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছিল ইসরাইল। সে সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ও কর্মীরা তখনও বিমানটিতে অবস্থান করছিলেন।
উড্ডয়নের সময় সিক্রেট সার্ভিস সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল, যা যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার মঙ্গলবার কংগ্রেসকে এই হুমকি এবং ট্রাম্পকে সরিয়ে নেওয়ার অসাধারণ পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কাতারের উপহার দেওয়া একটি বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭ বিমানে চড়ে ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনে যাওয়ার পর থেকেই তার সফর নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল। বিমানটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপযোগী করে সংস্কার করা হলেও এতে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা ছিল না।
ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানকে কাজে লাগানো হয়। সে সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, নতুন বিমানটি ব্রিটেনে মার্কিন সেনাদের দেখানোর জন্য পাঠানো হচ্ছে।
পরে ওয়াশিংটনে ফেরার সময় তিনি আবার কাতারের দেওয়া বিমানে ওঠেন। তখন সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হলে ট্রাম্প বলেছিলেন, “আপনারা সম্ভবত একটি বিপজ্জনক ফ্লাইটে আছেন। কারণ আমাদের যেসব নোংরা লোকের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়, তাদের জন্য।” তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, “আমি গেলে আপনারাও যাবেন। তাই তো?”
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো প্রেসিডেন্টেরই অনেক হুমকি থাকে। সত্যি বলতে, আমি কোনো কিছু নিয়েই চিন্তা করি না। যা হওয়ার হবে—এটাই আমার মনোভাব।” এর আগে ২০০০ সালে ভারত থেকে পাকিস্তান যাওয়ার পথে শেষ মুহূর্তে বিমান বদল করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। এছাড়া ২০২৩ সালে জো বাইডেনের ইউক্রেন সফরও কঠোর গোপনীয়তায় সম্পন্ন করা হয়েছিল।

























