ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জে পৃথক দুই মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৩ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু চলনবিলে ৫০ মণ মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন যুবদল নেতা মাসুম সাহস থাকলে দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হোন: ডা. জাহিদ ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী যশোরে ফার্নিচার কিনে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিশরকে যুক্ত করতে চায় তুরস্ক ঢাকা-রিয়াদ রুটে রিয়াদ এয়ারের নতুন দৈনিক ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু সৌদি আরবে সোফা কারখানায় আগুন, নাটোরের দুই প্রবাসীর মৃত্যু সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ড: নিহত ১৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত

সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা জোটে পাকিস্তান ও তুরস্ক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি অনেকটা ন্যাটো ধাঁচের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো। চুক্তির শর্তানুযায়ী, এই তিন দেশের মধ্যে কোনো একটির ওপর হামলা চালানো হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সম্মিলিতভাবে তার জবাব দেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান নিরাপত্তা সহযোগিতাকে এই চুক্তির মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা জোটে রূপ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রিয়াদ এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে একটি নতুন সামরিক বলয় পেল। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে সৌদি আরব এই নতুন কৌশল গ্রহণ করল। এই চুক্তিটি সৌদি আরবের প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকির বিরুদ্ধে সুন্নি নেতৃত্বাধীন একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক ফ্রন্টের বার্তাও দিচ্ছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরাইল তার সামরিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে এবং প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কেও টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।

ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একাধিকবার সৌদি আরবে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুরুতে ইরান সরাসরি দেশটিতে হামলা চালালেও বর্তমানে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি এবং ইরাকের মিলিশিয়ারা রিয়াদে হামলা চালাচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সরাসরি হামলা কিছুটা কমলেও, ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইরান সমর্থিত ইরাকি ও ইয়েমেনি মিলিশিয়ারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সহায়তায় সৌদি আরবে বড় ধরনের সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করছে বলে আশঙ্কা করছে রিয়াদ।

পাকিস্তান ও তুরস্ক—উভয় দেশেরই ইরানের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে এবং তারা সংঘাতের বিস্তৃতি রোধে সতর্ক অবস্থানে আছে। পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য শিয়া জনগোষ্ঠী এবং ইরানের সঙ্গে তাদের স্পর্শকাতর সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদ ইস্যুতে ইরান ও তুরস্কের অভিন্ন উদ্বেগ রয়েছে। নতুন এই চুক্তির ফলে পাকিস্তান ও তুরস্কও প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বড় আকার দিতে পারে।

চুক্তিটি ইরানের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবেও কাজ করছে। ইরান এর আগে উপসাগরীয় দেশগুলোকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো হামলা চালালে তারা জ্বালানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত করবে। এই পরিস্থিতিতে মক্কার চুক্তিটি তেহরানের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ, সৌদি আরবের ওপর আরেকটি বড় ধরনের হামলা হলে এই চুক্তি কার্যকর হতে পারে, যার ফলে পাকিস্তান ও তুরস্কও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা জোটে পাকিস্তান ও তুরস্ক

আপডেট সময় : ০৯:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
print news

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি অনেকটা ন্যাটো ধাঁচের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো। চুক্তির শর্তানুযায়ী, এই তিন দেশের মধ্যে কোনো একটির ওপর হামলা চালানো হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সম্মিলিতভাবে তার জবাব দেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান নিরাপত্তা সহযোগিতাকে এই চুক্তির মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা জোটে রূপ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রিয়াদ এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে একটি নতুন সামরিক বলয় পেল। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে সৌদি আরব এই নতুন কৌশল গ্রহণ করল। এই চুক্তিটি সৌদি আরবের প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকির বিরুদ্ধে সুন্নি নেতৃত্বাধীন একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক ফ্রন্টের বার্তাও দিচ্ছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরাইল তার সামরিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে এবং প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কেও টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।

ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একাধিকবার সৌদি আরবে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুরুতে ইরান সরাসরি দেশটিতে হামলা চালালেও বর্তমানে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি এবং ইরাকের মিলিশিয়ারা রিয়াদে হামলা চালাচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সরাসরি হামলা কিছুটা কমলেও, ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইরান সমর্থিত ইরাকি ও ইয়েমেনি মিলিশিয়ারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সহায়তায় সৌদি আরবে বড় ধরনের সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করছে বলে আশঙ্কা করছে রিয়াদ।

পাকিস্তান ও তুরস্ক—উভয় দেশেরই ইরানের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে এবং তারা সংঘাতের বিস্তৃতি রোধে সতর্ক অবস্থানে আছে। পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য শিয়া জনগোষ্ঠী এবং ইরানের সঙ্গে তাদের স্পর্শকাতর সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদ ইস্যুতে ইরান ও তুরস্কের অভিন্ন উদ্বেগ রয়েছে। নতুন এই চুক্তির ফলে পাকিস্তান ও তুরস্কও প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বড় আকার দিতে পারে।

চুক্তিটি ইরানের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবেও কাজ করছে। ইরান এর আগে উপসাগরীয় দেশগুলোকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো হামলা চালালে তারা জ্বালানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত করবে। এই পরিস্থিতিতে মক্কার চুক্তিটি তেহরানের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ, সৌদি আরবের ওপর আরেকটি বড় ধরনের হামলা হলে এই চুক্তি কার্যকর হতে পারে, যার ফলে পাকিস্তান ও তুরস্কও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin