ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শনিআখড়া লাইফ হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ জাহান্নামের আগুন ৩ হাজার বছর জলার পর শেষ পর্যায়ের কালো ও অন্ধকার কিশোরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা রংপুরে ডিবি’র অভিযানে ২৫ পিস ইয়াবা, ৩০০ গ্রাম গাঁজা সহ মাদক বিক্রয়ের নগদ-৩৬৬৫০ টাকা উদ্ধার, ০১ জন মাদক কারবারি আটক দিনাজপুর ইয়াবা সহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ফায়েম হত্যার মূল আসামি হারুন গ্রেফতার সেনবাগে পুলিশের সাথে আরও ৭ জন গ্রেফতার নেত্রকোণা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২ জনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড নওগাঁ মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি গ্রেফতার নতুন স্বপ্ন, নতুন উদ্যম, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত আধুনিক ও আদর্শ আমজাদ হাট ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়ে রাজধানীতে গণপরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা

জামালপুরে দুস্থদের দুম্বার মাংস ভাগাভাগি করে নিলেন জনপ্রতিনিধিরা

মোঃ কবির হোসেন জামালপুর জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:৩২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০২৩ ২৭১ বার পড়া হয়েছে

জামালপুরে দুস্থদের দুম্বার মাংস ভাগাভাগি করে নিলেন জনপ্রতিনিধিরা

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

জামালপুর সদর উপজেলার অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণের জন্য সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো বেশির ভাগ দুম্বার মাংস জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপরন্তু গরিব ও দুস্থদের মধ্যে যাঁরা মাংস পেয়েছেন, তাঁরা পরিমাণে কম পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। জামালপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আরিফুর রহমান বলেন, দরিদ্র ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণের জন্য প্রতিবছর বাংলাদেশে দুম্বার মাংস পাঠায় সৌদি সরকার। তালিকা অনুযায়ী দুম্বার মাংস দুস্থ, এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণের নির্দেশ দেওয়া আছে। সেই অনুযায়ী তাঁরা প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে একটি করে কার্টন দিয়েছেন এবং তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নির্দেশনা দিয়েছেন, মাদ্রাসা বা দুস্থদের মধ্যে মাংসগুলো বিতরণের জন্য।
উপজেলা পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলায় ৩৭ কার্টন মাংস বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১২ মার্চ রাতে উপজেলা পরিষদে বরাদ্দ দেওয়া এ মাংস আসে। প্রতিটি কার্টনে প্রায় ২৫ কেজি করে মাংস থাকার কথা। সে হিসাবে ৩৭ কার্টনে ৯২৫ কেজি মাংস ছিল। ওই রাতেই দুম্বার মাংসের কার্টনগুলো বিতরণ করা হয়।
দুম্বার মাংস বিতরণের তালিকা অনুযায়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা ২ কার্টন, ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) ১ কার্টন ও ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ ১ কার্টন করে মাংস পেয়েছেন। সদর উপজেলার রহিমা মোজাফফর এতিমখানার পক্ষে জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেনের বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. হারুনকে ২ কার্টন মাংস দেওয়া হয়। সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদে ১ কার্টন করে মাংস দেওয়া হয়। তালিকায় আরও কয়েকটি এতিমখানা ও মাদ্রাসার নামও রয়েছে। সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ‘দুম্বার মাংস বিতরণের দিন আমি জামালপুর ছিলাম না। তবে আমার পরিষদের নাইটগার্ড অথবা নৈশপ্রহরীরা ভাগাভাগি করে নিতে পারেন। এর বেশি কিছু আমার জানা নেই।’ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা ইয়াছমিন বলেন, ‘আমাকে একটি কার্টন দেওয়া হয়েছিল। সেই কার্টুনে কতটুকু মাংস ছিল, সেটাও আমি জানি না। তবে আমাকে দেওয়া সেই কার্টনে পাঁচ প্যাকেট মাংস ছিল। সেগুলো আমার এলাকার মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করেছি। একই সঙ্গে আমার দুই প্রতিবেশী দরিদ্র মানুষকেও দিয়েছি।’
এদিকে মাংস বরাদ্দের তালিকায় থাকা রহিমা মোজাফফর নামের কোনো এতিমখানা সদর উপজেলায় খুঁজে যাওয়া যায়নি। তবে সদর উপজেলার খুপিবাড়ী এলাকায় ছইম উদ্দিন হাফেজিয়া ও ইসলামি কিন্ডারগার্টেন মাদ্রাসা রয়েছে। ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রধান ফটকে জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেনের নাম রয়েছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক হারুন বলেন, তিনি দুই কার্টন মাংস ওই মাদ্রাসায় দিয়েছেন। ছইম উদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসার এক সহকারী শিক্ষক বলেন, সংসদ সদস্যের বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ১০ প্যাকেট মাংস মাদ্রাসায় দিয়ে গেছেন। সেখানে প্রায় ২০ কেজি মাংস ছিল। সেগুলো রান্না করে, মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাওয়ানো হয়েছে। কিন্তু তাঁদের মাদ্রাসার জন্য প্রায় ৫০ কেজি মাংস বরাদ্দ থাকার কথা। বাকি ৩০ কেজি মাংস কোথায় গেল? আর তাঁদের মাদ্রাসার নামের জায়গায় রহিমা মোজাফফর এতিমখানা কেন লেখা, তা তিনি জানেন না।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক হারুন বলেন, সংসদ সদস্য দেশের বাইরে আছেন।
একইভাবে তালিকায় থাকা আরেকটি মাদ্রাসার সুপারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের পাঁচ কেজি মাংস দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আরও ২০ কেজি মাংস পাওয়ার কথা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুঠোফোনে বলেন, তাঁর ইউনিয়নে এক কার্টন মাংস এসেছে। তবে ওই কার্টনের মধ্যে পাঁচটি প্যাকেট মাংস ছিল। সেটা ১০ থেকে ১২ কেজি হবে। সেগুলো তিনি ইউপি সদস্যদের দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ওই কার্টনে প্রায় ২৫ কেজি মাংস থাকার কথা ছিল।
জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মাংস বিতরণের বিষয়ে পিআইও আরিফুর রহমান বলেন, জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের এলাকার মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দেওয়ার কথা বলে মাংস নিয়েছেন। মাংস বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে, খোঁজখবর নিয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

জামালপুরে দুস্থদের দুম্বার মাংস ভাগাভাগি করে নিলেন জনপ্রতিনিধিরা

আপডেট সময় : ১২:৩২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০২৩
print news

জামালপুর সদর উপজেলার অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণের জন্য সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো বেশির ভাগ দুম্বার মাংস জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপরন্তু গরিব ও দুস্থদের মধ্যে যাঁরা মাংস পেয়েছেন, তাঁরা পরিমাণে কম পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। জামালপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আরিফুর রহমান বলেন, দরিদ্র ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণের জন্য প্রতিবছর বাংলাদেশে দুম্বার মাংস পাঠায় সৌদি সরকার। তালিকা অনুযায়ী দুম্বার মাংস দুস্থ, এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণের নির্দেশ দেওয়া আছে। সেই অনুযায়ী তাঁরা প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে একটি করে কার্টন দিয়েছেন এবং তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নির্দেশনা দিয়েছেন, মাদ্রাসা বা দুস্থদের মধ্যে মাংসগুলো বিতরণের জন্য।
উপজেলা পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলায় ৩৭ কার্টন মাংস বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১২ মার্চ রাতে উপজেলা পরিষদে বরাদ্দ দেওয়া এ মাংস আসে। প্রতিটি কার্টনে প্রায় ২৫ কেজি করে মাংস থাকার কথা। সে হিসাবে ৩৭ কার্টনে ৯২৫ কেজি মাংস ছিল। ওই রাতেই দুম্বার মাংসের কার্টনগুলো বিতরণ করা হয়।
দুম্বার মাংস বিতরণের তালিকা অনুযায়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা ২ কার্টন, ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) ১ কার্টন ও ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ ১ কার্টন করে মাংস পেয়েছেন। সদর উপজেলার রহিমা মোজাফফর এতিমখানার পক্ষে জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেনের বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. হারুনকে ২ কার্টন মাংস দেওয়া হয়। সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদে ১ কার্টন করে মাংস দেওয়া হয়। তালিকায় আরও কয়েকটি এতিমখানা ও মাদ্রাসার নামও রয়েছে। সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ‘দুম্বার মাংস বিতরণের দিন আমি জামালপুর ছিলাম না। তবে আমার পরিষদের নাইটগার্ড অথবা নৈশপ্রহরীরা ভাগাভাগি করে নিতে পারেন। এর বেশি কিছু আমার জানা নেই।’ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা ইয়াছমিন বলেন, ‘আমাকে একটি কার্টন দেওয়া হয়েছিল। সেই কার্টুনে কতটুকু মাংস ছিল, সেটাও আমি জানি না। তবে আমাকে দেওয়া সেই কার্টনে পাঁচ প্যাকেট মাংস ছিল। সেগুলো আমার এলাকার মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করেছি। একই সঙ্গে আমার দুই প্রতিবেশী দরিদ্র মানুষকেও দিয়েছি।’
এদিকে মাংস বরাদ্দের তালিকায় থাকা রহিমা মোজাফফর নামের কোনো এতিমখানা সদর উপজেলায় খুঁজে যাওয়া যায়নি। তবে সদর উপজেলার খুপিবাড়ী এলাকায় ছইম উদ্দিন হাফেজিয়া ও ইসলামি কিন্ডারগার্টেন মাদ্রাসা রয়েছে। ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রধান ফটকে জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেনের নাম রয়েছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক হারুন বলেন, তিনি দুই কার্টন মাংস ওই মাদ্রাসায় দিয়েছেন। ছইম উদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসার এক সহকারী শিক্ষক বলেন, সংসদ সদস্যের বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ১০ প্যাকেট মাংস মাদ্রাসায় দিয়ে গেছেন। সেখানে প্রায় ২০ কেজি মাংস ছিল। সেগুলো রান্না করে, মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাওয়ানো হয়েছে। কিন্তু তাঁদের মাদ্রাসার জন্য প্রায় ৫০ কেজি মাংস বরাদ্দ থাকার কথা। বাকি ৩০ কেজি মাংস কোথায় গেল? আর তাঁদের মাদ্রাসার নামের জায়গায় রহিমা মোজাফফর এতিমখানা কেন লেখা, তা তিনি জানেন না।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক হারুন বলেন, সংসদ সদস্য দেশের বাইরে আছেন।
একইভাবে তালিকায় থাকা আরেকটি মাদ্রাসার সুপারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের পাঁচ কেজি মাংস দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আরও ২০ কেজি মাংস পাওয়ার কথা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুঠোফোনে বলেন, তাঁর ইউনিয়নে এক কার্টন মাংস এসেছে। তবে ওই কার্টনের মধ্যে পাঁচটি প্যাকেট মাংস ছিল। সেটা ১০ থেকে ১২ কেজি হবে। সেগুলো তিনি ইউপি সদস্যদের দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ওই কার্টনে প্রায় ২৫ কেজি মাংস থাকার কথা ছিল।
জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মাংস বিতরণের বিষয়ে পিআইও আরিফুর রহমান বলেন, জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের এলাকার মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দেওয়ার কথা বলে মাংস নিয়েছেন। মাংস বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে, খোঁজখবর নিয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।