যুক্তরাজ্যের চিভনিং স্কলারশিপ: ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদনের সুযোগ

- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অন্যতম জনপ্রিয় বৃত্তি কর্মসূচি হলো চিভনিং স্কলারশিপ। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বৃত্তির বিস্তারিত তথ্য ও আবেদনের নিয়মাবলি chevening.org ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে।
১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করা এই কর্মসূচিটি যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এবং বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। এটি একটি সম্পূর্ণ অর্থায়নভিত্তিক বা ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ। এর আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ টিউশন ফি, যাতায়াতের বিমানভাড়া, মাসিক জীবনযাপন ভাতা এবং আবাসনসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা পেয়ে থাকেন। এই বৃত্তির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতৃত্বদানের সম্ভাবনাময় তরুণ পেশাজীবীরা যুক্তরাজ্যের ১৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো একটিতে এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পান।
চিভনিং মূলত পেশাজীবীদের জন্য একটি বৃত্তি। আবেদনের জন্য ন্যূনতম দুই বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক। তবে এই অভিজ্ঞতার মানে কেবল পাস করার পরের সময় নয়; ছাত্রজীবনে করা যেকোনো ইন্টার্নশিপ কিংবা পার্টটাইম কাজের অভিজ্ঞতাও এখানে গণ্য করা হয়। বিগত কয়েক বছরের তথ্য অনুযায়ী, উন্নয়ন সংস্থা, ইয়ুথ ফোরাম, স্বাস্থ্য ও আইন পেশার লোকজন এবং সরকারি চাকরিজীবীরা এই বৃত্তির জন্য বেশি নির্বাচিত হন। এছাড়া পেশাদার সাংবাদিকদেরও এই বৃত্তি পাওয়ার নজির রয়েছে, তবে একাডেমিশিয়ানদের সংখ্যা তুলনামূলক কম।
আবেদনের যোগ্যতার ক্ষেত্রে স্নাতক পর্যায়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ডিগ্রি থাকা ন্যূনতম শর্ত। এছাড়া ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএস (IELTS) পরীক্ষায় ন্যূনতম ৬.৫ স্কোর থাকতে হবে। আবেদনের সময় সব তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি। নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, সামাজিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা, নেটওয়ার্কিং দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আবেদন মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া বৃত্তিপ্রাপ্তদের পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে ফিরে অন্তত দুই বছর কাজ করার অঙ্গীকার করতে হয়।
অনলাইনে আবেদনের জন্য ইংরেজি ভাষায় দুটি সুপারিশপত্র (রেফারেন্স লেটার), পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সর্বশেষ অর্জিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনে মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় এবং চূড়ান্ত নির্বাচনের পর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির 'অফার লেটার' যুক্ত করতে হয়। বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনের মতো শিক্ষার্থী চিভনিং বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ থেকে ২২ জন তরুণ পেশাজীবী এই বৃত্তির জন্য মনোনীত হয়েছিলেন।




























