ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের জন্য গণতন্ত্র চিরস্থায়ী করে যাব: ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে তথ্যচিত্র নিয়ে হট্টগোল, দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর ছাতকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ তারেক রহমানকে নিয়ে সারজিস আলমের ফেসবুক পোস্টের নেপথ্যে কী? প্রথম কন্যাসন্তানের বাবা হলেন সংগীতশিল্পী জাহিদ নিরব খুলনায় শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মুদি দোকানি গ্রেপ্তার ঝালকাঠিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের সংবর্ধনা, কবর পাকা করার দাবি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিমানে ওঠার আগে আন্দোলনের শেষ পরিস্থিতি জানতে চান শেখ হাসিনা যুদ্ধবিরতির সুযোগে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ইরান

দেশে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, দেশে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন বলে মনে হচ্ছে। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য সবাইকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিপ্লব কোনো বয়সের সীমাবদ্ধতা মানে না। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই রাজপথে সক্রিয় ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামীতেও সবাই তরুণদের মতো ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং বিজয় ছিনিয়ে আনবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে গড়ে ওঠেনি, বরং এটি ছিল ছাত্র ও তরুণ সমাজের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি গণআন্দোলন।

জামায়াত আমির দাবি করেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আন্দোলন করলেও ফ্যাসিবাদ বিদায় করা সম্ভব হয়নি। তবে জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। তিনি এ সময় আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে বিভাজন সৃষ্টি বা কাউকে একক ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টার সমালোচনা করে বলেন, এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড হলো ১৮ কোটি নির্যাতিত মানুষ।

শহীদদের নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদরা কোনো দলের সম্পদ নন, তারা পুরো জাতির সম্পদ। তিনি আহত ও পঙ্গু জুলাইযোদ্ধাদের সুচিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারের সম্মানজনক পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান। এছাড়া নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, জনগণের রায় উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক পরিণতি ভালো হয় না।

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিক্ষাঙ্গনে আবারও পুরোনো সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেখানেই ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দেখা দেবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা এবং ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি হলে এর পরিণতি শুভ হবে না। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তাদের লক্ষ্য হলো একটি কলঙ্কমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং সেই লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ০২:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
print news

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, দেশে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন বলে মনে হচ্ছে। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য সবাইকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিপ্লব কোনো বয়সের সীমাবদ্ধতা মানে না। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই রাজপথে সক্রিয় ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামীতেও সবাই তরুণদের মতো ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং বিজয় ছিনিয়ে আনবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে গড়ে ওঠেনি, বরং এটি ছিল ছাত্র ও তরুণ সমাজের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি গণআন্দোলন।

জামায়াত আমির দাবি করেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আন্দোলন করলেও ফ্যাসিবাদ বিদায় করা সম্ভব হয়নি। তবে জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। তিনি এ সময় আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে বিভাজন সৃষ্টি বা কাউকে একক ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টার সমালোচনা করে বলেন, এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড হলো ১৮ কোটি নির্যাতিত মানুষ।

শহীদদের নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদরা কোনো দলের সম্পদ নন, তারা পুরো জাতির সম্পদ। তিনি আহত ও পঙ্গু জুলাইযোদ্ধাদের সুচিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারের সম্মানজনক পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান। এছাড়া নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, জনগণের রায় উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক পরিণতি ভালো হয় না।

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিক্ষাঙ্গনে আবারও পুরোনো সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেখানেই ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দেখা দেবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা এবং ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি হলে এর পরিণতি শুভ হবে না। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তাদের লক্ষ্য হলো একটি কলঙ্কমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং সেই লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din