বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া
- আপডেট সময় : ১২:৩৭:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির মতো ঘটনা ঘটে। রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, উভয় পক্ষ ক্যাম্পাসে মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। জানা যায়, ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসের মূল ফটকে এবং ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা পার্কের মোড় মসজিদের সামনে অবস্থান করছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় দিনব্যাপী শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে। প্রদর্শনীতে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড (জুডিশিয়াল কিলিং)’ হিসেবে কয়েকজনের ছবি প্রদর্শন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে গিয়ে ব্যানারটি সরানোর দাবি জানান। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক অভিযোগ করেন, ছাত্রদল বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, “জুডিশিয়াল কিলিংয়ের যেসব ছবি আমরা লাগিয়েছি, ছাত্রদল এসে বলে তারা রাজাকার, তাদের ছবি রাখা যাবে না। আমরা তাদের প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দিলেও তারা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে।” তিনি আরও জানান, শিবিরের সভাপতির ওপর চড়াও হওয়ার সময় তাদের কয়েকজন আহত হন। পরবর্তীতে প্রক্টর এসে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করলে ছাত্রদল চলে গেলেও পরে তারা পুনরায় হামলা চালায় বলে শিবিরের দাবি।
অন্যদিকে, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, “গোলাম আজম, কাদের মোল্লা, নিজামীসহ যারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ছিল, তাদের ছবি খালেদা জিয়ার পাশে টাঙানোর প্রতিবাদে আমরা সেগুলো অপসারণ করতে বলেছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা চেয়ার নিক্ষেপ করে এবং ধাক্কাধাক্কিতে আমাদের একজন আহত হন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিবিরের নেতা-কর্মীরা কারমাইকেল কলেজের ছাত্রশিবিরসহ বহিরাগতদের নিয়ে এসে হামলা চালিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান জানিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচার করা হবে এবং এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়েছে এবং বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে। দুই দলের সভাপতি-সম্পাদকদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বৈঠক করছেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।


























