অনিয়মের অভিযোগে যবিপ্রবির ১১ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার, তালিকায় সাবেক উপাচার্য

- আপডেট সময় : ০২:০৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বিভিন্ন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর নাম থাকা ১১টি গবেষণাপত্র জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগে বৈশ্বিক জার্নাল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মজিদের নামও রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর যবিপ্রবির চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আবদুল মজিদের দুটি গবেষণাপত্র গত জানুয়ারিতে হিন্দাউই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তিনি এই দুটি গবেষণাপত্রের সহলেখক ছিলেন।
প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে একটিতে শজনে বীজের নির্যাসের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণাবলি নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। অন্য গবেষণাপত্রটিতে সেলুলোজভিত্তিক বিশেষ ন্যানোকম্পোজিট ব্যবহার করে ক্ষতিকর উপাদান দূর করা এবং জৈব অণু সুরক্ষায় এর কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। জার্নাল কর্তৃপক্ষের তদন্তে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। হিন্দাউই জানিয়েছে, গবেষণার তথ্য ও ফলাফল কোনো বাস্তব পরীক্ষা ছাড়াই তৈরি করা হয়েছিল এবং এগুলোর বৈজ্ঞানিক নির্ভরযোগ্যতার কোনো ভিত্তি নেই। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, গবেষণাপত্রগুলো অর্থের বিনিময়ে 'পেপার মিল'-এর মাধ্যমে তৈরি বা কেনা হয়েছিল। পেপার মিল বলতে এমন একটি চক্রকে বোঝায়, যারা অর্থের বিনিময়ে গবেষণাপত্র তৈরি, বিক্রি বা প্রকাশের ব্যবস্থা করে।
তদন্তে আরও দেখা গেছে, গবেষণাপত্র যাচাইয়ের আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউ প্রক্রিয়ায় ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। হিন্দাউই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের আগে সংশ্লিষ্ট লেখকদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক ছিল না। তবে অধ্যাপক আবদুল মজিদ প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি এবং তিনি গবেষণায় কেবল ধারণাগত সহায়তার কাজে যুক্ত ছিলেন।
২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত যবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নাম থাকা ১০টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়। এরপর গত মে মাসে আরও একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম থাকা প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১। গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের এসব ঘটনা সম্পর্কে জানতেন কি না—জানতে চাইলে আবদুল মজিদ বলেন, তিনি দু-একটি গবেষণা প্রত্যাহারের কথা শুনেছিলেন, তবে যাদের এই সমস্যা ছিল, তাদের গবেষণার জন্য পুরস্কার দেওয়া বা এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেননি।
গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হওয়া গবেষকদের মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নাম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সানডিয়েগোর নিউরোসায়েন্স বিভাগে কর্মরত গবেষক নাদিম মাহমুদ বলেন, গবেষণায় চুরি ও অনিয়ম পশ্চিমা দেশে নৈতিক স্খলন হিসেবে দেখা হয় এবং এর জন্য একাডেমিক শাস্তির মুখে পড়তে হয়, কিন্তু বাংলাদেশে এই সংস্কৃতি এখনো চালু হয়নি।
অন্য গবেষণায় সেলুলোজভিত্তিক বিশেষ ন্যানোকম্পোজিট ব্যবহার করে ক্ষতিকর উপাদান দূর করা এবং জৈব অণু সুরক্ষায় এর কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।‘চুরি ও অনিয়ম ধরা পড়ায় প্রত্যাহার বাংলাদেশিদের ৩২৫ গবেষণাপত্র’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন গতকাল শনিবার প্রকাশ করে প্রথম আলো।
এতে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন সময়ে প্রত্যাহার হওয়া অন্তত ৩২৫টি গবেষণাপত্রের তথ্য তুলে ধরা হয়, যেগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গবেষকের সংযুক্তি রয়েছে।.২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর যবিপ্রবির চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান আবদুল মজিদ।


























