আসিয়ানে সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশের: মহাসচিব কাও কিম হোর্ন

- আপডেট সময় : ০২:৩৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ান-এর সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কার্যত নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন জোটটির মহাসচিব কাও কিম হোর্ন। সম্প্রতি ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ১০ম আসিয়ান মিডিয়া ফোরামে তিনি এ মন্তব্য করেন। গত ৩১ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম জাকার্তা গ্লোব বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
মহাসচিবের মতে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এবং পাপুয়া নিউগিনি আসিয়ানের সদস্য হওয়ার নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করে না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, আসিয়ান সনদের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সদস্য হওয়ার প্রধান শর্ত হলো সংশ্লিষ্ট দেশকে অবশ্যই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বীকৃত ভৌগোলিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। যেহেতু বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অংশ এবং পাপুয়া নিউগিনি ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, তাই বর্তমান সনদে তাদের সদস্যপদ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
কাও কিম হোর্ন আরও বলেন, পূর্ব তিমুরকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আসিয়ানের সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া কার্যত শেষ হয়েছে। বর্তমানে আসিয়ান সনদ অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বীকৃত ১১টি দেশই এই জোটের সদস্য। তিনি জানান, যদি বাংলাদেশ বা পাপুয়া নিউগিনিকে সদস্য করতে হয়, তবে আসিয়ান সনদ সংশোধন করতে হবে। এই পরিবর্তনের জন্য জোটের সব সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। সনদের ভৌগোলিক সংজ্ঞা পরিবর্তন না হলে বর্তমান ১১টি দেশই আসিয়ানের সদস্য হিসেবে বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্যপদ লাভের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে আসছে। গত বছর মালয়েশিয়া যখন আসিয়ানের চেয়ারম্যান ছিল, তখন ঢাকা কুয়ালালামপুরের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো প্রকাশ্যে পাপুয়া নিউগিনির সদস্যপদের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। ২০২৫ সালে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনে তিনি আঞ্চলিক অনিশ্চয়তার সময়ে আসিয়ানের শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাপুয়া নিউগিনির সদস্যপদের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান।
এর আগে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর পূর্ব তিমুর গত বছর আসিয়ানের সর্বশেষ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০১১ সাল থেকে দেশটি সদস্যপদের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার প্রসঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা একসময় রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘আসিয়ানে প্রবেশের চেয়ে যেন স্বর্গে যাওয়া সহজ।’



























