বনানীর ফুডকোর্টকে খালি জায়গা দেখিয়ে বিএনপি নেতাকে ভাড়া দিল ডিএনসিসি
- আপডেট সময় : ০১:২০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বনানীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্মিত আটটি দোকানকে ‘খালি জায়গা’ হিসেবে দেখিয়ে ছয় মাসের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে। দোকানগুলো বরাদ্দ পেয়েছেন বনানী থানা বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন। এই বরাদ্দে প্রতি বর্গফুটের দৈনিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র দেড় টাকা। ফলে ৩০০ বর্গফুটের একটি দোকানের মাসিক ভাড়া পড়ছে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা।
বনানী কাঁচাবাজারের পাশে অবস্থিত এই জায়গাটি একসময় পরিত্যক্ত ছিল এবং লোকজন গাড়ি পার্কিংয়ের কাজে ব্যবহার করতেন। সাবেক মেয়র আনিসুল হকের উদ্যোগে সেখানে ফুডকোর্ট নির্মাণ করা হলেও তাঁর মৃত্যুর পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন বা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মফিজুর রহমানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এটি দখল করে ভাড়া আদায় করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এর নিয়ন্ত্রণ চলে যায় স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাদের হাতে।
ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগের চিঠিতে জায়গাটিকে ১ হাজার ৩৯৮ বর্গফুটের জায়গা বলা হলেও বন্ধনীতে ‘নির্মিত ৮টি ফুডকোর্ট’ উল্লেখ করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দোকানগুলোকে ‘খালি জায়গা’ হিসেবে উল্লেখ করে সম্পত্তির প্রকৃতি পরিবর্তন করা হয়েছে, যা বিধি অনুযায়ী সম্ভব নয়। রাজস্ব বিভাগের পরিবর্তে সম্পত্তি বিভাগের মাধ্যমে এই বরাদ্দ দেওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ১০ জুন এমএমজেড এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন এই জায়গা বরাদ্দের আবেদন করেন। আবেদনের ১২ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করে টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাই দোকানকে ‘জায়গা’ হিসেবে দেখিয়ে ভিন্ন পথে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মামুনকে দেওয়া আটটি দোকানের একেকটির ছয় মাসের ভাড়া ধরা হয়েছে প্রায় ৫৯ হাজার টাকা (মাসে ৯ হাজার ৮৩৫ টাকা) এবং জামানত হিসেবে ১ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। মামুন জানান, তিনি মাত্র একটি দোকান পেয়েছেন এবং বাকি সাতটি দোকানের বিষয়ে বনানী থানা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি কবির হোসেন জানেন। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য তাঁদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের পথ ‘ফিটফাট’ রাখার নির্দেশনা থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফুডকোর্ট বরাদ্দের কোনো নীতিমালা না থাকায় আপাতত এটিকে ‘স্পেস’ হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে এবং নীতিমালা তৈরির জন্য কমিটি কাজ করছে। মামুনকে দেওয়া আটটি দোকানের একেকটির ছয় মাসের ভাড়া ধরা হয়েছে প্রায় ৫৯ হাজার টাকা (মাসে ৯ হাজার ৮৩৫ টাকা)। এদিকে, বরাদ্দ পাওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে দোকানপ্রতি ৫ লাখ টাকা জামানত ও ৬০ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া হাঁকানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।




























