ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুবাইয়ে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে: মির্জা ফখরুল শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, যুক্তিতর্ক ৪ আগস্ট টঙ্গীতে ট্রেনের ধাক্কায় কারখানার নারী কর্মীর মৃত্যু মস্কোর রেস্তোরাঁয় আত্মঘাতী বোমা হামলা: নিহত ৩, আহত ২১ আসিয়ানে সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশের: মহাসচিব কাও কিম হোর্ন ঢাকা ওয়াসার চেয়ারম্যান হলেন বুয়েট অধ্যাপক সাব্বির মোস্তফা খান অনিয়মের অভিযোগে যবিপ্রবির ১১ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার, তালিকায় সাবেক উপাচার্য দুই সপ্তাহেও কাটেনি গ্যাস সংকট, বিপাকে শিল্প ও আবাসিক খাত

দুই সপ্তাহেও কাটেনি গ্যাস সংকট, বিপাকে শিল্প ও আবাসিক খাত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৯:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

দেশজুড়ে চলমান গ্যাস সংকট প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনাল, স্থানীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক খাতে সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এই সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অথচ দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, ফলে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শেভরনের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকেও উৎপাদন কমেছে; মার্চের শুরুতে দৈনিক ৮১৫-৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও জুলাইয়ের শেষ দিকে তা প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে, তবে এটি কবে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এছাড়া পুরোনো গ্যাসকূপগুলো থেকে প্রত্যাশিত উৎপাদন না পাওয়া এবং এলএনজি আমদানিতে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে। জাপান-কোরিয়া মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম বর্তমানে ২১ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ছিল মাত্র ১০ দশমিক ৬০ ডলার। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম মনে করেন, এই সংকট দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ঘাটতির ফল। তিনি দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

সরকার এই সংকট মোকাবিলায় ১০০টি নতুন গ্যাসকূপ খনন, নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানি এবং ভোলার গ্যাস রাজধানী অঞ্চলে সরবরাহের জন্য ক্রায়োজেনিক আইএসও ট্যাংক ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে, ফলে শিল্প ও আবাসিক খাতের চলমান সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা আপাতত সীমিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

দুই সপ্তাহেও কাটেনি গ্যাস সংকট, বিপাকে শিল্প ও আবাসিক খাত

আপডেট সময় : ০১:৪৯:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
print news

দেশজুড়ে চলমান গ্যাস সংকট প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনাল, স্থানীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক খাতে সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এই সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অথচ দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, ফলে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শেভরনের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকেও উৎপাদন কমেছে; মার্চের শুরুতে দৈনিক ৮১৫-৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও জুলাইয়ের শেষ দিকে তা প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে, তবে এটি কবে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এছাড়া পুরোনো গ্যাসকূপগুলো থেকে প্রত্যাশিত উৎপাদন না পাওয়া এবং এলএনজি আমদানিতে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে। জাপান-কোরিয়া মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম বর্তমানে ২১ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ছিল মাত্র ১০ দশমিক ৬০ ডলার। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম মনে করেন, এই সংকট দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ঘাটতির ফল। তিনি দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

সরকার এই সংকট মোকাবিলায় ১০০টি নতুন গ্যাসকূপ খনন, নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানি এবং ভোলার গ্যাস রাজধানী অঞ্চলে সরবরাহের জন্য ক্রায়োজেনিক আইএসও ট্যাংক ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে, ফলে শিল্প ও আবাসিক খাতের চলমান সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা আপাতত সীমিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din