ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আগস্টেই যোগদানের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নিলেন ১৪ হাজার শিক্ষক রাজধানীর কাঁঠালবাগানে জামাতার ছুরিকাঘাতে মা ও মেয়ে নিহত ইরানে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন সৌদি যুবরাজ পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভাবের অন্ধকার পেরিয়ে শিলার শিক্ষিকা হওয়ার অনুপ্রেরণামূলক গল্প প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ হাজার ৩৮৪ শিক্ষকের যোগদান ১ অক্টোবর কলাবাগানে পারিবারিক কলহে জামাইয়ের ছুরিকাঘাতে মা ও মেয়ে নিহত জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের দিনাজপুরের বিরলে সাবেক স্ত্রীকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা, স্বামী আটক আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় আপিল বিভাগে শুনানি চলছে

অভাবের অন্ধকার পেরিয়ে শিলার শিক্ষিকা হওয়ার অনুপ্রেরণামূলক গল্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ভোলা নামের এক অজপাড়া গাঁয়ে জন্ম শিলার। আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে অনেক দূরে থাকা এই গ্রামটিতে মানুষের জীবন ছিল অভাব-অনটনের। শিলার বাবা রহমত মিয়া দিনমজুরের কাজ করতেন এবং মা সারেহা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। সংসারের চরম দারিদ্র্যের কারণে শিলার শৈশব ছিল অন্যদের চেয়ে আলাদা। খেলার বয়সেই তাকে সংসারের কাজে মা-বাবাকে সাহায্য করতে হতো।

পরিবারের অভাবের কারণে শিলার স্কুলে যাওয়ার সামর্থ্য ছিল না এবং বাড়িতেও কোনো বই ছিল না। কিন্তু তার ভেতরে ছিল শেখার তীব্র তৃষ্ণা। স্কুলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য শিশুদের খাতা-কলম দেখে সে ব্যথিত হতো। একদিন সে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহানা ম্যাডামের কাছে গিয়ে পড়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। শিলার চোখে অভাবকে জয় করার মতো অদম্য ইচ্ছা দেখে শাহানা ম্যাডাম তাকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের পুরনো বই ও খাতা দিয়ে তিনি শিলার পড়াশোনার হাতেখড়ি করান।

পড়াশোনার পথটি সহজ ছিল না। দিনের বেলা ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো বলে শিলাকে রাতে পড়তে হতো। ঘরে বিদ্যুৎ না থাকায় শাহানা ম্যাডাম তাকে প্রতিমাসে এক ডজন মোমবাতি ও মাঝে মাঝে শুকনো খাবার কিনে দিতেন। মোমবাতির ক্ষীণ আলোয় সে পড়াশোনা চালিয়ে যেত। অনেক সময় ক্ষুধার্ত অবস্থায় বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে সে পড়ে থাকত। গ্রামের অনেকে তাকে উপহাস করত এবং বলত, মেয়েদের পড়াশোনা করে লাভ নেই, রান্নাঘরই তাদের শেষ জায়গা। কিন্তু শিলা পিছু হঠেনি।

ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবে শিলা মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে। এই সংবাদ পুরো গ্রামে আনন্দের জোয়ার নিয়ে আসে। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য সে শহরে কলেজে ভর্তি হয়। সেখানেও টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছে। তার লক্ষ্য ছিল শুধু নিজের উন্নয়ন নয়, বরং পুরো গ্রামকে অন্ধকার থেকে মুক্ত করা।

পড়াশোনা শেষ করে শিলা শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে। শহরে চাকরির সুযোগ থাকলেও সে নিজের গ্রামে ফিরে আসে এবং ভাঙাচোরা স্কুলটিকে নতুন করে গড়ে তোলে। গ্রামের শিশুদের হাতে বই তুলে দিয়ে সে তাদের শিক্ষার আলোয় উদ্বুদ্ধ করে। শিলার প্রচেষ্টায় ভোলা গ্রামের চিত্র বদলে যেতে শুরু করে; অভিভাবকরা শিক্ষার গুরুত্ব বুঝতে পারে এবং মেয়েরা স্কুলে যেতে শুরু করে। আজ শিলা ভোলা গ্রামের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাহানাজ শিউলী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের আড়পাড়া থেকে এই প্রতিবেদনটি লিখেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

অভাবের অন্ধকার পেরিয়ে শিলার শিক্ষিকা হওয়ার অনুপ্রেরণামূলক গল্প

আপডেট সময় : ১২:২১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
print news

ভোলা নামের এক অজপাড়া গাঁয়ে জন্ম শিলার। আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে অনেক দূরে থাকা এই গ্রামটিতে মানুষের জীবন ছিল অভাব-অনটনের। শিলার বাবা রহমত মিয়া দিনমজুরের কাজ করতেন এবং মা সারেহা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। সংসারের চরম দারিদ্র্যের কারণে শিলার শৈশব ছিল অন্যদের চেয়ে আলাদা। খেলার বয়সেই তাকে সংসারের কাজে মা-বাবাকে সাহায্য করতে হতো।

পরিবারের অভাবের কারণে শিলার স্কুলে যাওয়ার সামর্থ্য ছিল না এবং বাড়িতেও কোনো বই ছিল না। কিন্তু তার ভেতরে ছিল শেখার তীব্র তৃষ্ণা। স্কুলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য শিশুদের খাতা-কলম দেখে সে ব্যথিত হতো। একদিন সে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহানা ম্যাডামের কাছে গিয়ে পড়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। শিলার চোখে অভাবকে জয় করার মতো অদম্য ইচ্ছা দেখে শাহানা ম্যাডাম তাকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের পুরনো বই ও খাতা দিয়ে তিনি শিলার পড়াশোনার হাতেখড়ি করান।

পড়াশোনার পথটি সহজ ছিল না। দিনের বেলা ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো বলে শিলাকে রাতে পড়তে হতো। ঘরে বিদ্যুৎ না থাকায় শাহানা ম্যাডাম তাকে প্রতিমাসে এক ডজন মোমবাতি ও মাঝে মাঝে শুকনো খাবার কিনে দিতেন। মোমবাতির ক্ষীণ আলোয় সে পড়াশোনা চালিয়ে যেত। অনেক সময় ক্ষুধার্ত অবস্থায় বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে সে পড়ে থাকত। গ্রামের অনেকে তাকে উপহাস করত এবং বলত, মেয়েদের পড়াশোনা করে লাভ নেই, রান্নাঘরই তাদের শেষ জায়গা। কিন্তু শিলা পিছু হঠেনি।

ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবে শিলা মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে। এই সংবাদ পুরো গ্রামে আনন্দের জোয়ার নিয়ে আসে। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য সে শহরে কলেজে ভর্তি হয়। সেখানেও টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছে। তার লক্ষ্য ছিল শুধু নিজের উন্নয়ন নয়, বরং পুরো গ্রামকে অন্ধকার থেকে মুক্ত করা।

পড়াশোনা শেষ করে শিলা শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে। শহরে চাকরির সুযোগ থাকলেও সে নিজের গ্রামে ফিরে আসে এবং ভাঙাচোরা স্কুলটিকে নতুন করে গড়ে তোলে। গ্রামের শিশুদের হাতে বই তুলে দিয়ে সে তাদের শিক্ষার আলোয় উদ্বুদ্ধ করে। শিলার প্রচেষ্টায় ভোলা গ্রামের চিত্র বদলে যেতে শুরু করে; অভিভাবকরা শিক্ষার গুরুত্ব বুঝতে পারে এবং মেয়েরা স্কুলে যেতে শুরু করে। আজ শিলা ভোলা গ্রামের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাহানাজ শিউলী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের আড়পাড়া থেকে এই প্রতিবেদনটি লিখেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh