৪৪ রাষ্ট্রীয় শিল্প বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের
- আপডেট সময় : ১২:২৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪৪টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় ইজারা কিংবা বিক্রির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। সংগঠনটির দাবি, এই প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের পরিবর্তে আধুনিকায়ন করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা প্রয়োজন। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনটি এই দাবি জানায়। তারা অভিযোগ করে যে, এই সিদ্ধান্ত জনস্বার্থে নয়, বরং লুটেরা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটলেও দেশ এখনো লুণ্ঠনকারী ব্যবসায়ী শ্রেণির শোষণ থেকে মুক্ত হতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করেন, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারণে বাজারব্যবস্থা বিপর্যস্ত এবং কর্মসংস্থানের অভাবে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারী শিল্প ও শিল্পের জাতীয় ভিত্তি গড়ে তোলার বদলে সরকার উল্টো রাষ্ট্রীয় শিল্প ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, চিনিকল ও পাটকলসহ জনগণের মালিকানাধীন ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার পরিবর্তে বেসরকারি খাতে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র ও সাধারণ জনগণকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা হেমন্ত দাশ বলেন, দেশের শিল্প ও কৃষি বিকাশের স্বার্থে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক নীতি কোনোভাবেই বিদেশি নির্দেশনায় পরিচালিত হতে পারে না।
সংগঠনটির আরেক নেতা দীপা মল্লিক উল্লেখ করেন, ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২৫টি পাটকল ও ৬টি চিনিকল বন্ধ করে লাখো শ্রমিককে বেকার করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, কোনো সরকারই লোকসানের কারণ অনুসন্ধানে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করেনি। দুর্নীতি, বিনিয়োগের অভাব এবং আমলা-ব্যবসায়ী যোগসাজশের কারণেই রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পগুলো দুর্বল হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সমাবেশে নেতা সাইফুর রুদ্র বলেন, ২০০২ সালে বিএনপি সরকার গোল্ডেন হ্যান্ডশেক কর্মসূচির মাধ্যমে আদমজী জুট মিল বন্ধ করেছিল এবং তখন আওয়ামী লীগ সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেনি। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার বিষয়েও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো কার্যত নীরব সমর্থন দিচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে শ্রমিক-কৃষকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। এছাড়া সংগঠনটি অভিযোগ করে যে, এই নীতিমালা নির্ধারণে সরকার আমলা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে সভা করেছে।





























