ঢাকা ০৬:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শান্তিগঞ্জে হাওর ও নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি জিয়াউর, সম্পাদক রেদুয়ান জাজিরায় পুলিশ দেখে কেক ও মোটরসাইকেল ফেলে পালালো আ.লীগ নেতাকর্মীরা এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি: বক্তারা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের বিশেষ অনুদান দিচ্ছে সরকার, আবেদনের নিয়ম ১,৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে জাতীয় মহাপরিকল্পনা করছে সরকার সিলেট চেম্বারের নির্বাচন বাতিল, নতুন প্রশাসক এজাজ আহমদ সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরে ফিরলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফকির শওকত ইসরায়েলি নির্বাচনে ফিলিস্তিনিদের রক্তকে হাতিয়ার বানানো হচ্ছে: হামাস ইনস্টাগ্রাম পোস্ট লাইক করে নতুন বিতর্কে কৃতি স্যানন

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া জরুরি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:০৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



টুথপেস্ট নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণার ফলাফল সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণায় দেশের বাজারে থাকা ১৯টি প্রধান ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে। এর মধ্যে দেশে তৈরি ২৫টি নমুনার ২২টিতে, ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভিয়েতনামের দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

টুথপেস্টে সাধারণত দাঁতের প্লাক ও দাগ দূর করা, দাঁতকে মসৃণ ও চকচকে রাখা এবং সুগন্ধি বা অন্যান্য উপাদান নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় নিঃসরণের জন্য মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়। তবে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বর্তমানে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে হাইড্রেটেড সিলিকা (Hydrated silica) ও ক্যালসিয়াম কার্বনেটের (Calcium carbonate) মতো উপাদান ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যা প্লাক পরিষ্কারে কার্যকর কিন্তু মাইক্রোপ্লাস্টিক নয়।

ঢাকা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরাল সার্জন ডা. সাখাওয়াত হোসাইন সায়ান্তের মতে, এখন পর্যন্ত টুথপেস্টের মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের মুখের টিস্যু বা দাঁতে কোনো রোগ সৃষ্টি করে এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মূল উদ্বেগের জায়গাটি মূলত পরিবেশগত। ব্রাশ করার পর কুলির পানির মাধ্যমে এই মাইক্রোপ্লাস্টিক ড্রেন হয়ে নদী ও সমুদ্রে মিশে যাচ্ছে এবং বর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্রগুলো তা পুরোপুরি আটকাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলস্বরূপ, এই প্লাস্টিক মাছ ও জলজ প্রাণীর মাধ্যমে খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে।

তবে ডা. সায়ান্ত মনে করেন, এ নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, আমরা যে বোতলজাত পানি পান করি, তাতেও প্রচুর মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে। যেহেতু আমরা টুথপেস্ট গিলে ফেলি না, তাই এটি সরাসরি পাকস্থলীতে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি পরামর্শ দেন, আতঙ্কিত না হয়ে নিয়মিত দাঁত ব্রাশ চালিয়ে যাওয়া উচিত। পাশাপাশি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে পেস্ট প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর উচিত মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া জরুরি

আপডেট সময় : ০৯:০৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

টুথপেস্ট নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণার ফলাফল সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণায় দেশের বাজারে থাকা ১৯টি প্রধান ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে। এর মধ্যে দেশে তৈরি ২৫টি নমুনার ২২টিতে, ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভিয়েতনামের দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

টুথপেস্টে সাধারণত দাঁতের প্লাক ও দাগ দূর করা, দাঁতকে মসৃণ ও চকচকে রাখা এবং সুগন্ধি বা অন্যান্য উপাদান নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় নিঃসরণের জন্য মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়। তবে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বর্তমানে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে হাইড্রেটেড সিলিকা (Hydrated silica) ও ক্যালসিয়াম কার্বনেটের (Calcium carbonate) মতো উপাদান ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যা প্লাক পরিষ্কারে কার্যকর কিন্তু মাইক্রোপ্লাস্টিক নয়।

ঢাকা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরাল সার্জন ডা. সাখাওয়াত হোসাইন সায়ান্তের মতে, এখন পর্যন্ত টুথপেস্টের মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের মুখের টিস্যু বা দাঁতে কোনো রোগ সৃষ্টি করে এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মূল উদ্বেগের জায়গাটি মূলত পরিবেশগত। ব্রাশ করার পর কুলির পানির মাধ্যমে এই মাইক্রোপ্লাস্টিক ড্রেন হয়ে নদী ও সমুদ্রে মিশে যাচ্ছে এবং বর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্রগুলো তা পুরোপুরি আটকাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলস্বরূপ, এই প্লাস্টিক মাছ ও জলজ প্রাণীর মাধ্যমে খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে।

তবে ডা. সায়ান্ত মনে করেন, এ নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, আমরা যে বোতলজাত পানি পান করি, তাতেও প্রচুর মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে। যেহেতু আমরা টুথপেস্ট গিলে ফেলি না, তাই এটি সরাসরি পাকস্থলীতে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি পরামর্শ দেন, আতঙ্কিত না হয়ে নিয়মিত দাঁত ব্রাশ চালিয়ে যাওয়া উচিত। পাশাপাশি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে পেস্ট প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর উচিত মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh