ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইসি কক্সবাজারে বনকর্মীদের ওপর হামলা, রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ আহত ৫ হামিদ ও সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত সংস্থায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত অ্যান্ড্রয়েড নিরাপত্তা: ২০২৫ সালে ২ কোটি ৭০ লাখ ক্ষতিকর অ্যাপ শনাক্ত পার্বত্য জেলা পরিষদে শিক্ষক নিয়োগে মেধাভিত্তিক স্বচ্ছতার দাবি যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকবে ইরান মোদিবিরোধী পোস্টদাতাদের খুঁজছে দিল্লি পুলিশ, চলছে কড়া নজরদারি বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদ বলেন তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে: মির্জা ফখরুল জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ১০ আগস্ট প্রকাশ

শ্রাবণের মেঘগুলো গানে শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রতিবাদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

চার দশক আগে লেখা একটি রোমান্টিক গান এখন হয়ে উঠেছে শিক্ষকদের প্রতিবাদের ভাষা। ১৯৮৭ সালের শ্রাবণে খুলনায় গীতিকার ও সুরকার আশরাফ বাবুর লেখা ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দুই দিনে দেশের বিভিন্ন জেলার হাজারো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা এই গানটি ব্যবহার করে ফেসবুকে রিলস পোস্ট করেছেন।

এই ডিজিটাল প্রতিবাদের সূত্রপাত হয়েছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালকে কেন্দ্র করে। হালকা বাতাসে আঁচল উড়িয়ে হাঁটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তিনি একাংশের সমালোচনার মুখে পড়েন। তার এই ভিডিওকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর সহকর্মীরা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।

শিক্ষিকারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, কর্মস্থল কিংবা ব্যক্তিগত পরিবেশে একই গান ব্যবহার করে ভিডিও প্রকাশ করছেন। তাদের দাবি, শিক্ষকতার পরিচয়ের বাইরেও একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত জীবন, অনুভূতি ও সৃজনশীল প্রকাশের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। শিক্ষিকা সামিয়া শিকদার তার পোস্টে লিখেছেন, বিউটি রাণী পালকে হেনস্তার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আজ প্রতিটি সাহসী শিক্ষকই একেকজন বিউটি রাণী পাল এবং তারা মাথা নত করবেন না।

কুমিল্লার শিক্ষিকা লায়লা নূর পিংকি তার প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেছেন, শিক্ষকদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ প্রমাণ করে দিয়েছে যে যেখানেই অন্যায় হবে সেখানেই তারা রুখে দাঁড়াবেন। তিনি সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অযৌক্তিক সমালোচনার ফলেই হ্যামিলনের বাঁশওয়ালার মতো সব শিক্ষক আজ সামনে এসেছেন। এছাড়া পঞ্চগড়ের শিক্ষিকা ফেরদৌস লিখেছেন, এর পরবর্তী ভিডিওতে তিনি শাড়ি পরেই শিক্ষকের সেই ভাইরাল নাচটি দেবেন।

চট্টগ্রামের মতলব বাজারের শিক্ষিকা জয়ন্তী ভৌমিক প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষক যদি হাসেন, সাজেন, পরিপাটি থাকেন বা ভ্রমণে গিয়ে ছবি পোস্ট করেন তবে কেন তা নিয়ে সমস্যা হবে? তিনি প্রশ্ন রাখেন, শিক্ষক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কি মানুষ হওয়ার অধিকারও বিসর্জন দিতে হবে? দীর্ঘদিন পর নতুন পরিচয়ে ফিরে আসা এই গানটি এখন আর কেবল প্রেমের গান নয়, বরং এটি শিক্ষকদের আত্মমর্যাদা ও সংহতির এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

অথচ ২০২৬ সালের এই শ্রাবণে সেই গানই হয়ে উঠেছে শিক্ষিকাদের প্রতিবাদের ভাষা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

শ্রাবণের মেঘগুলো গানে শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ০১:০১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
print news

চার দশক আগে লেখা একটি রোমান্টিক গান এখন হয়ে উঠেছে শিক্ষকদের প্রতিবাদের ভাষা। ১৯৮৭ সালের শ্রাবণে খুলনায় গীতিকার ও সুরকার আশরাফ বাবুর লেখা ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দুই দিনে দেশের বিভিন্ন জেলার হাজারো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা এই গানটি ব্যবহার করে ফেসবুকে রিলস পোস্ট করেছেন।

এই ডিজিটাল প্রতিবাদের সূত্রপাত হয়েছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালকে কেন্দ্র করে। হালকা বাতাসে আঁচল উড়িয়ে হাঁটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তিনি একাংশের সমালোচনার মুখে পড়েন। তার এই ভিডিওকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর সহকর্মীরা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।

শিক্ষিকারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, কর্মস্থল কিংবা ব্যক্তিগত পরিবেশে একই গান ব্যবহার করে ভিডিও প্রকাশ করছেন। তাদের দাবি, শিক্ষকতার পরিচয়ের বাইরেও একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত জীবন, অনুভূতি ও সৃজনশীল প্রকাশের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। শিক্ষিকা সামিয়া শিকদার তার পোস্টে লিখেছেন, বিউটি রাণী পালকে হেনস্তার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আজ প্রতিটি সাহসী শিক্ষকই একেকজন বিউটি রাণী পাল এবং তারা মাথা নত করবেন না।

কুমিল্লার শিক্ষিকা লায়লা নূর পিংকি তার প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেছেন, শিক্ষকদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ প্রমাণ করে দিয়েছে যে যেখানেই অন্যায় হবে সেখানেই তারা রুখে দাঁড়াবেন। তিনি সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অযৌক্তিক সমালোচনার ফলেই হ্যামিলনের বাঁশওয়ালার মতো সব শিক্ষক আজ সামনে এসেছেন। এছাড়া পঞ্চগড়ের শিক্ষিকা ফেরদৌস লিখেছেন, এর পরবর্তী ভিডিওতে তিনি শাড়ি পরেই শিক্ষকের সেই ভাইরাল নাচটি দেবেন।

চট্টগ্রামের মতলব বাজারের শিক্ষিকা জয়ন্তী ভৌমিক প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষক যদি হাসেন, সাজেন, পরিপাটি থাকেন বা ভ্রমণে গিয়ে ছবি পোস্ট করেন তবে কেন তা নিয়ে সমস্যা হবে? তিনি প্রশ্ন রাখেন, শিক্ষক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কি মানুষ হওয়ার অধিকারও বিসর্জন দিতে হবে? দীর্ঘদিন পর নতুন পরিচয়ে ফিরে আসা এই গানটি এখন আর কেবল প্রেমের গান নয়, বরং এটি শিক্ষকদের আত্মমর্যাদা ও সংহতির এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

অথচ ২০২৬ সালের এই শ্রাবণে সেই গানই হয়ে উঠেছে শিক্ষিকাদের প্রতিবাদের ভাষা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy