কক্সবাজারে বনকর্মীদের ওপর হামলা, রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ আহত ৫

- আপডেট সময় : ০৩:৫৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের রামুতে সংরক্ষিত বনের জমি দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ পানবরজ উচ্ছেদ করে ফেরার পথে বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় পানেরছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা ও ফরেস্ট গার্ডসহ অন্তত পাঁচজন বনকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিরা হলেন—পানেরছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শরীফুল আলম, ফরেস্ট গার্ড হুমায়ুন কবির, বাগানমালি সাইদুল ইসলাম ও মো. সাজিদ এবং ইআরটি সদস্য মিজানুর রহমান।
আহত রেঞ্জ কর্মকর্তা শরীফুল আলম জানান, পানেরছড়া বিটের সমিতিপাড়া এলাকায় সংরক্ষিত বনের জমি দখল করে অবৈধভাবে পানবরজ নির্মাণ করা হচ্ছিল। এমন খবর পেয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সেখানে একটি উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযান শেষ করে কার্যালয়ে ফেরার পথে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন, নাজির হোসেন ও সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় অংশ নেওয়া নাজির হোসেন ও সাহাব উদ্দিনের দলীয় পদবি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অবৈধ পানবরজ উচ্ছেদ করে ফেরার পথে বনকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ দুজনের মাথা ফেটে গেছে এবং বাকি তিনজনের হাত ভেঙে গেছে। আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কক্সবাজার সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী শফিউল আলম জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিকেলের মধ্যে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন তবে বিস্তারিত এখনো জানেন না। খোঁজখবর নিয়ে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগেও পানবরজ নিয়ে বন বিভাগের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল এবং মামলাও হয়েছিল। বিষয়টি এখন অনেকটা ব্যক্তিগত রেষারেষির পর্যায়ে চলে গেছে।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়েছে এবং খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে এখনো বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধী যত বড় ক্ষমতাধরই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে সরকারি দায়িত্ব পালনরত বনকর্মীদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কর্মরত বনকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
























