ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি, সারা দেশে গ্যাসের সরবরাহ হ্রাস সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথির নৌ অবরোধের ঘোষণার তীব্র নিন্দা কাতারের ফাইনালের আগে ড্রেসিংরুমে মেসির রহস্যঘেরা সেই বক্তব্য নিয়ে জল্পনা অ্যাপল ওয়াচের ‘ওয়াটার লক’ ফিচার যেভাবে স্মার্টওয়াচকে সুরক্ষা দেয় যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন অ্যান্ডি বার্নহাম ঢাকার বাড্ডায় স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড ফ্রান্সের নতুন কোচ হিসেবে জিদানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি ভারতের সিকিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ধসে ৯ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে যা জানালেন উপদেষ্টা ডা. জাহেদ দিল্লিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ককরোচ জনতা পার্টির

টানা নবম রাতে ইরানে মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাব দিচ্ছে তেহরান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যে টানা নবম রাতের মতো ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের সুরক্ষায় ইরান যেসব সামরিক অবকাঠামো ও সক্ষমতা ব্যবহার করছে, সেগুলোকে অকার্যকর করতেই এই জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি এবং বার্তা সংস্থা ফার্স নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিমের বিভিন্ন স্থানে প্রবল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

হামলার শিকার হওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর সিরিক ও জাস্ক, এবং খুজেস্তান প্রদেশের কৌশলগত মাহশাহর ও ইমাম খোমেনি বন্দর এলাকা। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্বের সিস্তান ও বালুচেস্তান প্রদেশের কোনারাক এবং চাবাহার বন্দর নগরীতে বিমান হামলা ঠেকাতে মধ্যরাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে এই প্রথম ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বড় শহর তাব্রিজেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। লরেস্তান প্রদেশ থেকে ছোঁড়া ইরানি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে টার্গেট করেছে। হামলার পরপরই কুয়েত ও বাহরাইনে সাইরেন বেজে ওঠে। কুয়েতি সামরিক বাহিনী তাদের আকাশসীমায় ড্রোনের উপস্থিতি শনাক্ত করে সেগুলো মাঝ আকাশে ধ্বংস করার দাবি করেছে। এছাড়া জর্ডান জানিয়েছে, তাদের সীমান্ত লক্ষ্য করে আসা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই সফলভাবে ভূপাতিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর আগে টানা দুই দিন ধরে কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানি শোধন প্ল্যান্টে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা দেশটির সাধারণ অবকাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হামলায় ৩ মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং সেই উদ্দেশ্যেই মার্কিন বাহিনী ইরানকে অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত করছে। তার দাবি, টানা নয় দিনের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও অবকাঠামোর বেশিরভাগ অংশই চুরমার হয়ে গেছে। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে, তেহরানের সাথে আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে। তবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাসেম ঘরিবাবাদি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের পরমাণু কেন্দ্র বা বেসামরিক বিদ্যুৎ ও পানির স্থাপনায় হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের অত্যন্ত ভয়াবহ ও উপযুক্ত পরিণতি ভোগ করতে হবে। সংঘাতের এই নতুন মোড় পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আকাশ-নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

টানা নবম রাতে ইরানে মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাব দিচ্ছে তেহরান

আপডেট সময় : ১১:৪৮:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
print news

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যে টানা নবম রাতের মতো ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের সুরক্ষায় ইরান যেসব সামরিক অবকাঠামো ও সক্ষমতা ব্যবহার করছে, সেগুলোকে অকার্যকর করতেই এই জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি এবং বার্তা সংস্থা ফার্স নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিমের বিভিন্ন স্থানে প্রবল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

হামলার শিকার হওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর সিরিক ও জাস্ক, এবং খুজেস্তান প্রদেশের কৌশলগত মাহশাহর ও ইমাম খোমেনি বন্দর এলাকা। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্বের সিস্তান ও বালুচেস্তান প্রদেশের কোনারাক এবং চাবাহার বন্দর নগরীতে বিমান হামলা ঠেকাতে মধ্যরাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে এই প্রথম ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বড় শহর তাব্রিজেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। লরেস্তান প্রদেশ থেকে ছোঁড়া ইরানি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে টার্গেট করেছে। হামলার পরপরই কুয়েত ও বাহরাইনে সাইরেন বেজে ওঠে। কুয়েতি সামরিক বাহিনী তাদের আকাশসীমায় ড্রোনের উপস্থিতি শনাক্ত করে সেগুলো মাঝ আকাশে ধ্বংস করার দাবি করেছে। এছাড়া জর্ডান জানিয়েছে, তাদের সীমান্ত লক্ষ্য করে আসা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই সফলভাবে ভূপাতিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর আগে টানা দুই দিন ধরে কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানি শোধন প্ল্যান্টে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা দেশটির সাধারণ অবকাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হামলায় ৩ মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং সেই উদ্দেশ্যেই মার্কিন বাহিনী ইরানকে অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত করছে। তার দাবি, টানা নয় দিনের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও অবকাঠামোর বেশিরভাগ অংশই চুরমার হয়ে গেছে। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে, তেহরানের সাথে আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে। তবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাসেম ঘরিবাবাদি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের পরমাণু কেন্দ্র বা বেসামরিক বিদ্যুৎ ও পানির স্থাপনায় হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের অত্যন্ত ভয়াবহ ও উপযুক্ত পরিণতি ভোগ করতে হবে। সংঘাতের এই নতুন মোড় পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আকাশ-নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin