ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্পেনের জয়ে ফেসবুক পোস্টে ব্রাজিলকে নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য জয়ের পল্লবী থানার মামলায় গ্রেপ্তার রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ উজানের ঢল ও বৃষ্টিতে বাড়ছে তিস্তার পানি, খুলে দেওয়া হলো ৪৪ জলকপাট যশোরের শার্শায় ট্রলি ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২ আর্জেন্টিনার হারে বিয়ে নিয়ে পরীমনির মজার প্রতিক্রিয়া জীবননগরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড নিহত তিন সেনার সম্মানে ইরানে কঠোর হামলা: ডোনাল্ড ট্রাম্প হিলিতে সড়কের পাশে কাঁদছিল দুই শিশু, পুলিশ পৌছে দিল মায়ের কাছে দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা, পুলিশের লাঠিচার্জ আর্জেন্টিনার উসকানিতে পা দেবেন না স্পেন: অধিনায়ক রদ্রি

স্যার গারফিল্ড সোবার্সের সেই স্মরণীয় ও কঠিন ইন্টারভিউয়ের গল্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩১:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে স্বীকৃত স্যার গারফিল্ড সোবার্স ৮৯ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণের পর ২০০৯ সালে বার্বাডোজে তাঁর নেওয়া একটি অনন্য সাক্ষাৎকারের গল্প নতুন করে সামনে এসেছে। সে সময় বার্বাডোজে নিজের নামে আয়োজিত একটি স্কুল টুর্নামেন্টের ককটেল পার্টিতে সোবার্সের সঙ্গে প্রথম দেখা ও পরিচয়ের সুযোগ হয়েছিল। অত্যন্ত অমায়িক সেই মানুষটি সে সময় ছবি তোলার অনুরোধেও হাসিমুখে সাড়া দিয়েছিলেন। যদিও দুর্ভাগ্যবশত সেই ছবি পরে হারিয়ে গিয়েছিল। টেস্টের যে ১০টি রেকর্ড (হয়তো) ভাঙবে না কোনো দিন, তার অনেকগুলোর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তাঁর নাম।

সাক্ষাৎকারের মূল পর্বটি ছিল বেশ নাটকীয়। সোবার্স তখন বার্বাডোজ সরকারের পর্যটনবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করছিলেন। তাই তিনি শুরুতেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি কেবল বার্বাডোজ পর্যটন নিয়েই কথা বলবেন, ক্রিকেট নিয়ে নয়। তবে সাংবাদিকের নাছোড়বান্দা অনুরোধে শেষ পর্যন্ত তিনি ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে রাজি হন। সেই দীর্ঘ আলাপচারিতায় সোবার্স বীরেন্দর শেবাগকে তার প্রিয় ব্যাটসম্যান হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, কারণ শেবাগ ক্রিকেটটা ঠিক সেভাবেই খেলতেন যেভাবে খেলা উচিত।

সাক্ষাৎকারের সময় সোবার্স বেশ রুক্ষ মেজাজে ছিলেন এবং বারবার বিরক্ত হয়ে ইন্টারভিউ থামিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন। এমনকি তিনি কয়েকবার চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়ার উপক্রমও করেছিলেন। পরে বোঝা গিয়েছিল, নিজের বাণিজ্যিক ব্যস্ততা এবং পর্যটন দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের চাপের কারণেই হয়তো তিনি অমন আচরণ করেছিলেন। ২০০৭ বিশ্বকাপ চলাকালীনও তাকে বিভিন্ন অটোগ্রাফ বা ছবির বিনিময়ে নির্দিষ্ট রেট নির্ধারণ করে দিতে দেখা গিয়েছিল।

তবে ইন্টারভিউ শেষ হওয়ার পর সোবার্সের আচরণে আমূল পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। নিজের আত্মজীবনী ‘টোয়েন্টি ইয়ার্স অ্যাট দ্য টপ’-এ অটোগ্রাফ দেওয়ার সময় তিনি বেশ আন্তরিক ছিলেন। হোটেল থেকে বের হওয়ার পথেও তিনি খুব স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছিলেন এবং নিজের গাড়িতে লিফট দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। বিনি সুতোর মালায় গাঁথা তাঁরা তিনজন, সেই ‘মালা’ ২২ জুন পূর্ণতা পায়। সব মিলিয়ে, সেই চ্যালেঞ্জিং সাক্ষাৎকারটি সাংবাদিকের কাছে একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে আছে, যা আজ কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারের প্রয়াণের দিনে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

স্যার গারফিল্ড সোবার্সের সেই স্মরণীয় ও কঠিন ইন্টারভিউয়ের গল্প

আপডেট সময় : ১২:৩১:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
print news

সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে স্বীকৃত স্যার গারফিল্ড সোবার্স ৮৯ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণের পর ২০০৯ সালে বার্বাডোজে তাঁর নেওয়া একটি অনন্য সাক্ষাৎকারের গল্প নতুন করে সামনে এসেছে। সে সময় বার্বাডোজে নিজের নামে আয়োজিত একটি স্কুল টুর্নামেন্টের ককটেল পার্টিতে সোবার্সের সঙ্গে প্রথম দেখা ও পরিচয়ের সুযোগ হয়েছিল। অত্যন্ত অমায়িক সেই মানুষটি সে সময় ছবি তোলার অনুরোধেও হাসিমুখে সাড়া দিয়েছিলেন। যদিও দুর্ভাগ্যবশত সেই ছবি পরে হারিয়ে গিয়েছিল। টেস্টের যে ১০টি রেকর্ড (হয়তো) ভাঙবে না কোনো দিন, তার অনেকগুলোর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তাঁর নাম।

সাক্ষাৎকারের মূল পর্বটি ছিল বেশ নাটকীয়। সোবার্স তখন বার্বাডোজ সরকারের পর্যটনবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করছিলেন। তাই তিনি শুরুতেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি কেবল বার্বাডোজ পর্যটন নিয়েই কথা বলবেন, ক্রিকেট নিয়ে নয়। তবে সাংবাদিকের নাছোড়বান্দা অনুরোধে শেষ পর্যন্ত তিনি ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে রাজি হন। সেই দীর্ঘ আলাপচারিতায় সোবার্স বীরেন্দর শেবাগকে তার প্রিয় ব্যাটসম্যান হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, কারণ শেবাগ ক্রিকেটটা ঠিক সেভাবেই খেলতেন যেভাবে খেলা উচিত।

সাক্ষাৎকারের সময় সোবার্স বেশ রুক্ষ মেজাজে ছিলেন এবং বারবার বিরক্ত হয়ে ইন্টারভিউ থামিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন। এমনকি তিনি কয়েকবার চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়ার উপক্রমও করেছিলেন। পরে বোঝা গিয়েছিল, নিজের বাণিজ্যিক ব্যস্ততা এবং পর্যটন দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের চাপের কারণেই হয়তো তিনি অমন আচরণ করেছিলেন। ২০০৭ বিশ্বকাপ চলাকালীনও তাকে বিভিন্ন অটোগ্রাফ বা ছবির বিনিময়ে নির্দিষ্ট রেট নির্ধারণ করে দিতে দেখা গিয়েছিল।

তবে ইন্টারভিউ শেষ হওয়ার পর সোবার্সের আচরণে আমূল পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। নিজের আত্মজীবনী ‘টোয়েন্টি ইয়ার্স অ্যাট দ্য টপ’-এ অটোগ্রাফ দেওয়ার সময় তিনি বেশ আন্তরিক ছিলেন। হোটেল থেকে বের হওয়ার পথেও তিনি খুব স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছিলেন এবং নিজের গাড়িতে লিফট দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। বিনি সুতোর মালায় গাঁথা তাঁরা তিনজন, সেই ‘মালা’ ২২ জুন পূর্ণতা পায়। সব মিলিয়ে, সেই চ্যালেঞ্জিং সাক্ষাৎকারটি সাংবাদিকের কাছে একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে আছে, যা আজ কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারের প্রয়াণের দিনে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo