ঢাকা ০৬:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারের অনুমোদন: দেড় লাখ টন সার ও মসুর ডাল কেনা হবে কাউকে ভয় পেতে আসিনি, আসিয়ান কাপ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হামজা চৌধুরী ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বেসিস নির্বাচন সামনে রেখে ৭ সদস্যের সহায়ক কমিটি গঠন স্টারলিংককে টেক্কা দিতে মহাকাশে অ্যামাজনের নতুন দৌড় নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের পর আজমুলের মৃত্যুতে গ্রেফতার ১ বার্লিন বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা গোলান মালভূমি সিরিয়ারই থাকবে, জাতিসংঘে আল-শারার ঘোষণা ভোলায় এনসিপির কমিটি ঘোষণার পরপরই সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

স্যার গারফিল্ড সোবার্সের সেই স্মরণীয় ও কঠিন ইন্টারভিউয়ের গল্প

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৩১:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে স্বীকৃত স্যার গারফিল্ড সোবার্স ৮৯ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণের পর ২০০৯ সালে বার্বাডোজে তাঁর নেওয়া একটি অনন্য সাক্ষাৎকারের গল্প নতুন করে সামনে এসেছে। সে সময় বার্বাডোজে নিজের নামে আয়োজিত একটি স্কুল টুর্নামেন্টের ককটেল পার্টিতে সোবার্সের সঙ্গে প্রথম দেখা ও পরিচয়ের সুযোগ হয়েছিল। অত্যন্ত অমায়িক সেই মানুষটি সে সময় ছবি তোলার অনুরোধেও হাসিমুখে সাড়া দিয়েছিলেন। যদিও দুর্ভাগ্যবশত সেই ছবি পরে হারিয়ে গিয়েছিল। টেস্টের যে ১০টি রেকর্ড (হয়তো) ভাঙবে না কোনো দিন, তার অনেকগুলোর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তাঁর নাম।

সাক্ষাৎকারের মূল পর্বটি ছিল বেশ নাটকীয়। সোবার্স তখন বার্বাডোজ সরকারের পর্যটনবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করছিলেন। তাই তিনি শুরুতেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি কেবল বার্বাডোজ পর্যটন নিয়েই কথা বলবেন, ক্রিকেট নিয়ে নয়। তবে সাংবাদিকের নাছোড়বান্দা অনুরোধে শেষ পর্যন্ত তিনি ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে রাজি হন। সেই দীর্ঘ আলাপচারিতায় সোবার্স বীরেন্দর শেবাগকে তার প্রিয় ব্যাটসম্যান হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, কারণ শেবাগ ক্রিকেটটা ঠিক সেভাবেই খেলতেন যেভাবে খেলা উচিত।

সাক্ষাৎকারের সময় সোবার্স বেশ রুক্ষ মেজাজে ছিলেন এবং বারবার বিরক্ত হয়ে ইন্টারভিউ থামিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন। এমনকি তিনি কয়েকবার চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়ার উপক্রমও করেছিলেন। পরে বোঝা গিয়েছিল, নিজের বাণিজ্যিক ব্যস্ততা এবং পর্যটন দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের চাপের কারণেই হয়তো তিনি অমন আচরণ করেছিলেন। ২০০৭ বিশ্বকাপ চলাকালীনও তাকে বিভিন্ন অটোগ্রাফ বা ছবির বিনিময়ে নির্দিষ্ট রেট নির্ধারণ করে দিতে দেখা গিয়েছিল।

তবে ইন্টারভিউ শেষ হওয়ার পর সোবার্সের আচরণে আমূল পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। নিজের আত্মজীবনী ‘টোয়েন্টি ইয়ার্স অ্যাট দ্য টপ’-এ অটোগ্রাফ দেওয়ার সময় তিনি বেশ আন্তরিক ছিলেন। হোটেল থেকে বের হওয়ার পথেও তিনি খুব স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছিলেন এবং নিজের গাড়িতে লিফট দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। বিনি সুতোর মালায় গাঁথা তাঁরা তিনজন, সেই ‘মালা’ ২২ জুন পূর্ণতা পায়। সব মিলিয়ে, সেই চ্যালেঞ্জিং সাক্ষাৎকারটি সাংবাদিকের কাছে একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে আছে, যা আজ কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারের প্রয়াণের দিনে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

স্যার গারফিল্ড সোবার্সের সেই স্মরণীয় ও কঠিন ইন্টারভিউয়ের গল্প

আপডেট সময় : ১২:৩১:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে স্বীকৃত স্যার গারফিল্ড সোবার্স ৮৯ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণের পর ২০০৯ সালে বার্বাডোজে তাঁর নেওয়া একটি অনন্য সাক্ষাৎকারের গল্প নতুন করে সামনে এসেছে। সে সময় বার্বাডোজে নিজের নামে আয়োজিত একটি স্কুল টুর্নামেন্টের ককটেল পার্টিতে সোবার্সের সঙ্গে প্রথম দেখা ও পরিচয়ের সুযোগ হয়েছিল। অত্যন্ত অমায়িক সেই মানুষটি সে সময় ছবি তোলার অনুরোধেও হাসিমুখে সাড়া দিয়েছিলেন। যদিও দুর্ভাগ্যবশত সেই ছবি পরে হারিয়ে গিয়েছিল। টেস্টের যে ১০টি রেকর্ড (হয়তো) ভাঙবে না কোনো দিন, তার অনেকগুলোর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তাঁর নাম।

সাক্ষাৎকারের মূল পর্বটি ছিল বেশ নাটকীয়। সোবার্স তখন বার্বাডোজ সরকারের পর্যটনবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করছিলেন। তাই তিনি শুরুতেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি কেবল বার্বাডোজ পর্যটন নিয়েই কথা বলবেন, ক্রিকেট নিয়ে নয়। তবে সাংবাদিকের নাছোড়বান্দা অনুরোধে শেষ পর্যন্ত তিনি ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে রাজি হন। সেই দীর্ঘ আলাপচারিতায় সোবার্স বীরেন্দর শেবাগকে তার প্রিয় ব্যাটসম্যান হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, কারণ শেবাগ ক্রিকেটটা ঠিক সেভাবেই খেলতেন যেভাবে খেলা উচিত।

সাক্ষাৎকারের সময় সোবার্স বেশ রুক্ষ মেজাজে ছিলেন এবং বারবার বিরক্ত হয়ে ইন্টারভিউ থামিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন। এমনকি তিনি কয়েকবার চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়ার উপক্রমও করেছিলেন। পরে বোঝা গিয়েছিল, নিজের বাণিজ্যিক ব্যস্ততা এবং পর্যটন দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের চাপের কারণেই হয়তো তিনি অমন আচরণ করেছিলেন। ২০০৭ বিশ্বকাপ চলাকালীনও তাকে বিভিন্ন অটোগ্রাফ বা ছবির বিনিময়ে নির্দিষ্ট রেট নির্ধারণ করে দিতে দেখা গিয়েছিল।

তবে ইন্টারভিউ শেষ হওয়ার পর সোবার্সের আচরণে আমূল পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। নিজের আত্মজীবনী ‘টোয়েন্টি ইয়ার্স অ্যাট দ্য টপ’-এ অটোগ্রাফ দেওয়ার সময় তিনি বেশ আন্তরিক ছিলেন। হোটেল থেকে বের হওয়ার পথেও তিনি খুব স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছিলেন এবং নিজের গাড়িতে লিফট দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। বিনি সুতোর মালায় গাঁথা তাঁরা তিনজন, সেই ‘মালা’ ২২ জুন পূর্ণতা পায়। সব মিলিয়ে, সেই চ্যালেঞ্জিং সাক্ষাৎকারটি সাংবাদিকের কাছে একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে আছে, যা আজ কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারের প্রয়াণের দিনে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo