ঢাকায় বৃষ্টির দিনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর লিয়েন্ডার হওয়ার গল্প
- আপডেট সময় : ১১:৪৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

গ্রীক পুরাণের আফ্রোদিতির মন্দিরের পূজারিণী ছিল হিরো, যে পাহাড়ের চূড়ায় প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখত। সেই আলোর নিশানা দেখে তার প্রেমিক লিয়েন্ডার উত্তাল হেলেসপন্ট নদী সাঁতরে প্রিয় মানুষের কাছে পৌঁছাত। কিন্তু এক ঝড়ের রাতে প্রদীপ নিভে গেলে দিশা হারিয়ে লিয়েন্ডার ডুবে মারা যায় এবং শোকে হিরোও প্রাণ দেয়। এই করুণ প্রেমকাহিনি যুগ যুগ ধরে অমর হয়ে আছে। দুই হাজার বছর পর আজকের পৃথিবীতে সাম্রাজ্য ও মানচিত্র বদলে গেলেও লিয়েন্ডারের কপালের ফের বিশেষ বদলায়নি। এই জন্মে লিয়েন্ডার হয়ে এসেছে অদ্রি, যে থাকে ঢাকায়।
বর্ষা এলেই ঢাকা শহরের রূপ বদলে যায় উত্তাল সমুদ্রের মতো। শহরের অলিগলি আর রাস্তা হয়ে ওঠে ঢেউতোলা প্রমত্তা নদী। অদ্রির কাছে তার এইচএসসি পরীক্ষা হলো সেই গভীর প্রেম, যার জন্য সে প্রতিদিন ভোরে বাসা থেকে বের হয়। উঁচু ভবনের উপরে বাতাসে কাঁপা সাদা মেঘ যেন তার হিরোর জ্বালানো প্রদীপ, যা তাকে পথ দেখায়। বৃষ্টির কোমর সমান পানি ভেঙে অদ্রি যখন এগিয়ে যায়, তখন গাড়ির ঢেউ সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসের মতো আছড়ে পড়ে। এক পর্যায়ে বাসের ঢেউ তাকে ভাসিয়ে নিতে চাইলে সে কায়দা করে বিআরটিসি বাসের বাম্পার ধরে অনেকটা পথ সাঁতরে যায়।
পথিমধ্যে ট্রাফিক পুলিশ তাকে খোলা ম্যানহোল সম্পর্কে সতর্ক করেন। অদ্রি অবাক হয়ে লক্ষ্য করে, ম্যানহোল খোলা থাকলেও পানি সেখানে স্থির, কোনো ঘূর্ণি নেই। ক্ষুধার্ত, ভেজা কাপড় আর ময়লার দুর্গন্ধে ভরা অদ্রির হাসিমুখ দেখে এক বয়স্ক পথচারী তাকে জিজ্ঞেস করেন, এই দুর্যোগে সে কোথায় যাচ্ছে। অদ্রি মৃদু হেসে উত্তর দেয়, সে তার প্রেমের কাছে যাচ্ছে। অদ্রির এই প্রেম কথা বলে না, হাসে না বা চিঠি লেখে না; তার সাথে দেখা হয় সকাল দশটায় এবং দুপুর একটায় ঘণ্টা বাজিয়ে বিদায় নিতে হয়।
অদ্রি জানে, হিরো আর লিয়েন্ডারের মতো তার এই মেঘভাঙা প্রেমের দেখা শেষ হয়ে যাবে একদিন। এইচএসসি পরীক্ষা শেষে সে বুক ভরে শ্বাস নেবে। গ্রীক পুরাণে লিয়েন্ডার যেমন উত্তাল নদী সাঁতরে যেত, ঢাকা শহরে অদ্রি তেমনি বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়া রাস্তায় সাঁতরে গেছে তার নিটোল প্রেম এইচএসসি পরীক্ষার কাছে। সভ্যতা এগিয়েছে, কিন্তু আজও উত্তাল স্রোতে সাঁতারের কারণ স্থির হয়ে আছে সেই একই ঘটনায়—সে প্রেম। অদ্রিসহ সকল পরীক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষা ও ফল ভালো হোক, এই প্রত্যাশা রইল।




























