ঢাকা ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড: ফেবারিট কে?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

আজ রাত একটায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। এই ম্যাচের বিজয়ী দল আগামী ২০ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে। বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা, যার সঙ্গে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের রাজনৈতিক ইতিহাস জড়িয়ে আছে। এটি বিশ্বকাপে তাদের ষষ্ঠবারের মুখোমুখি লড়াই।

দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ ঘটনাবহুল। ১৯৬২ সালে গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড ৩-১ গোলে জেতে। ১৯৬৬ সালের বিখ্যাত কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ১-০ গোলে জয়ী হয়, যেখানে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাতিন লাল কার্ড দেখেছিলেন এবং ইংলিশ কোচ আলফ রামসে আর্জেন্টাইনদের ‘পশু’ বলে অভিহিত করেছিলেন। ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল ও শতাব্দীর সেরা গোলের সৌজন্যে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জয় পায়। ১৯৯৮ সালের শেষ ষোলোর ম্যাচটিও ছিল ক্ল্যাসিক; ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড এবং মাইকেল ওয়েনের অসাধারণ গোলের পর ১০ জনের ইংল্যান্ড ২-২ গোলে ড্র করলেও টাইব্রেকারে জিতে যায় আর্জেন্টিনা। সবশেষ ২০০২ সালের গ্রুপ পর্বে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টিতে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড।

বর্তমান ফর্মে আর্জেন্টিনা মূলত লিওনেল মেসির ওপর নির্ভরশীল, যিনি ৮টি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট নিয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে নকআউট পর্বে স্কালোনির দল গোল হজম করার সমস্যায় ভুগছে। মিসরের বিপক্ষে তারা ০-২ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয়ী হয়। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের ১৩টি গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের পা থেকে, যারা প্রত্যেকে ৬টি করে গোল করেছেন। তবে ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের ভারসাম্যহীনতা এবং কোচ টুখেলের রাইটব্যাক পজিশনে ঘন ঘন পরিবর্তন উদ্বেগের বিষয়।

কৌশলগতভাবে আর্জেন্টিনা সেট-পিসে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং পেনাল্টিসহ ডেড বল সিচুয়েশন থেকে ৬টি গোল করেছে। মেসি দলের মোট শটের ৩৩ শতাংশ নিজে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের সুযোগ লুকিয়ে আছে আর্জেন্টিনার রক্ষণের ফাঁকা জায়গায়, যেখানে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরো অনেক সময় এগিয়ে এসে জায়গা ছেড়ে দেন। বেলিংহাম এই সুযোগ নিতে পছন্দ করেন। তবে ইংল্যান্ডের রক্ষণের মনোযোগ হারানোর প্রবণতা তাদের জন্য বড় ঝুঁকি। সামগ্রিকভাবে, ইংল্যান্ডের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য থাকলেও দল হিসেবে খেলার বিচারে আর্জেন্টিনা কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে। তবে নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে খেলেছে, তাই আজকের বড় ম্যাচে তাদের মানসিক দৃঢ়তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড: ফেবারিট কে?

আপডেট সময় : ০৮:০১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
print news

আজ রাত একটায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। এই ম্যাচের বিজয়ী দল আগামী ২০ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে। বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা, যার সঙ্গে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের রাজনৈতিক ইতিহাস জড়িয়ে আছে। এটি বিশ্বকাপে তাদের ষষ্ঠবারের মুখোমুখি লড়াই।

দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ ঘটনাবহুল। ১৯৬২ সালে গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড ৩-১ গোলে জেতে। ১৯৬৬ সালের বিখ্যাত কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ১-০ গোলে জয়ী হয়, যেখানে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাতিন লাল কার্ড দেখেছিলেন এবং ইংলিশ কোচ আলফ রামসে আর্জেন্টাইনদের ‘পশু’ বলে অভিহিত করেছিলেন। ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল ও শতাব্দীর সেরা গোলের সৌজন্যে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জয় পায়। ১৯৯৮ সালের শেষ ষোলোর ম্যাচটিও ছিল ক্ল্যাসিক; ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড এবং মাইকেল ওয়েনের অসাধারণ গোলের পর ১০ জনের ইংল্যান্ড ২-২ গোলে ড্র করলেও টাইব্রেকারে জিতে যায় আর্জেন্টিনা। সবশেষ ২০০২ সালের গ্রুপ পর্বে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টিতে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড।

বর্তমান ফর্মে আর্জেন্টিনা মূলত লিওনেল মেসির ওপর নির্ভরশীল, যিনি ৮টি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট নিয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে নকআউট পর্বে স্কালোনির দল গোল হজম করার সমস্যায় ভুগছে। মিসরের বিপক্ষে তারা ০-২ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয়ী হয়। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের ১৩টি গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের পা থেকে, যারা প্রত্যেকে ৬টি করে গোল করেছেন। তবে ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের ভারসাম্যহীনতা এবং কোচ টুখেলের রাইটব্যাক পজিশনে ঘন ঘন পরিবর্তন উদ্বেগের বিষয়।

কৌশলগতভাবে আর্জেন্টিনা সেট-পিসে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং পেনাল্টিসহ ডেড বল সিচুয়েশন থেকে ৬টি গোল করেছে। মেসি দলের মোট শটের ৩৩ শতাংশ নিজে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের সুযোগ লুকিয়ে আছে আর্জেন্টিনার রক্ষণের ফাঁকা জায়গায়, যেখানে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরো অনেক সময় এগিয়ে এসে জায়গা ছেড়ে দেন। বেলিংহাম এই সুযোগ নিতে পছন্দ করেন। তবে ইংল্যান্ডের রক্ষণের মনোযোগ হারানোর প্রবণতা তাদের জন্য বড় ঝুঁকি। সামগ্রিকভাবে, ইংল্যান্ডের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য থাকলেও দল হিসেবে খেলার বিচারে আর্জেন্টিনা কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে। তবে নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে খেলেছে, তাই আজকের বড় ম্যাচে তাদের মানসিক দৃঢ়তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo