ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নোবিপ্রবির পুরো ক্যাম্পাস সৌরবিদ্যুৎ চালুর পরিকল্পনা প্রতি তিন মাস পর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির তথ্য নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মোহাম্মদপুরে দুই গ্রুপের গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ একজন কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ ও বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে প্রবাসী বাঙালির জমজমাট দুর্গোৎসব ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্যের অগ্রবর্তী দল বাংলাদেশের কৃষিকে লাভজনক খাতে রূপান্তরের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ৪৫তম বিসিএস গেজেট থেকে বাদ পড়াদের শাহবাগে আত্মাহুতির হুমকি ২০২৭ সালের মধ্যে জাপানকে টপকে চতুর্থ অর্থনীতি হচ্ছে ভারত

সব সরকারি সুবিধা এক কার্ডে, আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:১৬:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, প্রান্তিক কৃষক এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও বাজেট সমাপনী বক্তব্যে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের পর্যায়ক্রমিক সকল কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা একটি একক কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’।”

বুধবার (১৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের দায় মেটাতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ ও রাষ্ট্র উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়ে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য দেওয়া বিশেষ কার্ডের মতো সুযোগ-সুবিধাগুলো রাষ্ট্রের কোনো করুণা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতে সব কার্ডের সমন্বয়ে এই সর্বজনীন কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা একক পরিচয় ও কার্ডে সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশের কৃষিখাতের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব। বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কৃষকদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া থাকা সকল কৃষকের কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। সরকার গঠনের পর প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া ঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে টেকসই বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা দেশের অবকাঠামো ও জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যেতে কাজ করছে। সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ, ব্লু ইকোনমি ও ইকোটুরিজম খাতে আরও ১০ লাখসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এছাড়া যুবসমাজকে দক্ষ করে তুলতে আধুনিক ক্যারিয়ার সেন্টার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বা সবুজ কর্মসংস্থান তৈরির মেগা প্রকল্পের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রকল্পের আওতায় ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে, যা আড়াই লক্ষ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন বছর আগে সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে প্রণীত ৩১ দফা রূপরেখা আজ ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনের পূর্বে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার করা এবং ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগসহ প্রতিটি সিদ্ধান্ত ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বৈষম্যহীন ও উগ্রবাদমুক্ত প্রকৃত গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠা করতে তিনি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

সব সরকারি সুবিধা এক কার্ডে, আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’

আপডেট সময় : ০৮:১৬:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, প্রান্তিক কৃষক এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও বাজেট সমাপনী বক্তব্যে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের পর্যায়ক্রমিক সকল কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা একটি একক কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’।”

বুধবার (১৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের দায় মেটাতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ ও রাষ্ট্র উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়ে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য দেওয়া বিশেষ কার্ডের মতো সুযোগ-সুবিধাগুলো রাষ্ট্রের কোনো করুণা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতে সব কার্ডের সমন্বয়ে এই সর্বজনীন কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা একক পরিচয় ও কার্ডে সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশের কৃষিখাতের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব। বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কৃষকদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া থাকা সকল কৃষকের কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। সরকার গঠনের পর প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া ঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে টেকসই বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা দেশের অবকাঠামো ও জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যেতে কাজ করছে। সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ, ব্লু ইকোনমি ও ইকোটুরিজম খাতে আরও ১০ লাখসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এছাড়া যুবসমাজকে দক্ষ করে তুলতে আধুনিক ক্যারিয়ার সেন্টার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বা সবুজ কর্মসংস্থান তৈরির মেগা প্রকল্পের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রকল্পের আওতায় ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে, যা আড়াই লক্ষ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন বছর আগে সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে প্রণীত ৩১ দফা রূপরেখা আজ ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনের পূর্বে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার করা এবং ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগসহ প্রতিটি সিদ্ধান্ত ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বৈষম্যহীন ও উগ্রবাদমুক্ত প্রকৃত গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠা করতে তিনি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin