ফরাসি ফুটবলের অদ্ভুত কুসংস্কার ও ঐতিহাসিক সব মজার গল্প
- আপডেট সময় : ১২:৪৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বফুটবলের মঞ্চে ফরাসিদের দাপট ও আবেগ বরাবরই অনন্য। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে দিদিয়ের দেশমের দল সেমিফাইনালে পৌঁছে যাওয়ার এই মুহূর্তে ফরাসি ফুটবলের অন্দরমহলের অদ্ভুত ও হাস্যকর সব ঘটনা ফিরে দেখা বেশ প্রাসঙ্গিক। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে জাস্ট ফন্টেইন ১৩ গোল করে যে রেকর্ড গড়েছিলেন, তার পেছনের গল্পটি ছিল বেশ নাটকীয়। টুর্নামেন্টের আগে বুট ছিঁড়ে যাওয়ায় তিনি সতীর্থ স্তেফান ব্রুয়ের কাছ থেকে বুট ধার নিয়েছিলেন এবং সেই ধার করা জুতায় মাঠ কাঁপিয়েছিলেন।
১৯৭৮ সালের আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে প্রশাসনিক ভুলের কারণে ফ্রান্সকে স্থানীয় ক্লাব ‘অ্যাটলেটিকো কিম্বার্লি’-এর সবুজ-সাদা জার্সি পরে খেলতে হয়েছিল। জার্সি কম থাকায় নম্বর ইস্ত্রি করে বসানোর জন্য ম্যাচ শুরু হয়েছিল ৪০ মিনিট দেরিতে। তবুও তারা হাঙ্গেরির বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছিল। এছাড়া ২০০৫ সালের ১২ অক্টোবর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের এক ম্যাচে সাইপ্রাসের বিপক্ষে ফ্রান্স যখন ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে, তখন কোচ রেমোঁ দোমেনেখ খেলার ৯১তম মিনিটে ফ্রাঙ্ক জুরিয়েত্তিকে মাঠে নামার নির্দেশ দেন। মাত্র ৫ সেকেন্ডের জন্য মাঠে নেমে তিনি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের রেকর্ড গড়েছিলেন।
ফরাসিদের কুসংস্কারের ইতিহাসও বেশ বর্ণাঢ্য। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে লরাঁ ব্লাঁ প্রতি ম্যাচের আগে গোলরক্ষক ফাবিয়েন বার্থেজের ন্যাড়া মাথায় চুম্বন করতেন, যা তখন দলের জন্য শুভ বলে বিবেচিত হতো। ২০০৬ সালে কোচ রেমোঁ দোমেনেখ খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে জ্যোতিষশাস্ত্র ও রাশিচক্রের ওপর নির্ভর করতেন। ২০১৮ সালে আদিল রামির গোঁফ ছুঁয়ে মাঠে নামা ছিল দলের খেলোয়াড়দের জন্য এক ধরনের অলিখিত সৌভাগ্যের টনিক।
তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ফরাসিরা এখন কোনো কুসংস্কার নয়, বরং কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব ও নিখুঁত ফিনিশিং দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ১৬ জুন সেনেগালকে ৩-১, ২২ জুন ইরাককে ৩-০ এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী নরওয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। রাউন্ড অফ ৩২-এ সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারানোর পর, ১৬ রাউন্ডে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কঠিন লড়াই করে ১-০ গোলে জয় পায় ফ্রান্স। সবশেষ কোয়ার্টার-ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে তারা সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ান নকআউট পর্বে এখনো কোনো গোল হজম করেননি। আগামী ১৪ জুলাই ডালাসে বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে লড়বে ফরাসিরা, যেখানে ফুটবল বিশ্ব এখন তাদের বিধ্বংসী আক্রমণ ও স্পেনের জমাট রক্ষণভাগের লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।

























