ঢাকা ১২:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপাল সীমান্তে হিমালয় কন্যার বুকে প্রলয়ংকরী জলবোমার আঘাত সিরাজগঞ্জের হাড়ের গুঁড়ো এখন ওষুধ শিল্পের বড় চাহিদা মেটাচ্ছে অর্থনৈতিক চাপে ‘ভূমিকম্পের মতো’ পাল্টা আঘাতের হুমকি ইরানের ঢাকার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জামায়াত ১৬ বছর আ.লীগের ভেতরে লুকিয়ে ছিল: রাশেদ খাঁন নেতানিয়াহুকে ‘জাহান্নামে’ পাঠানোর হুঁশিয়ারি ইরানি জেনারেলের মিয়ানমারের বিরল মৃত্তিকা: চীন-ভারতের নতুন ভূরাজনৈতিক রণক্ষেত্র সবজির দাম কমলেও নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলি, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ ভারতীয় আটক প্রযুক্তির যুগে দাওয়াহর সম্ভাবনা ও দাঈদের নিয়ত রক্ষার চ্যালেঞ্জ

নাগরিকত্ব না বদলেই তিন দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা সেই তারকা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফুটবল ইতিহাসের পাতায় দেজান স্ট্যানকোভিচ এক অনন্য নাম। ইন্টার মিলানের এই মিডফিল্ডার ২০১১ সালের ৫ এপ্রিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে শালকের বিপক্ষে প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে এক দুর্দান্ত ভলিতে গোল করেছিলেন, যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা লং রেঞ্জ গোল হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৭৮ সালে বেলগ্রেডের জেমুনে জন্ম নেওয়া ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার এই ফুটবলারের শৈশব কেটেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবেশে রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে। সেই কঠিন সময়ে অলিগলিতে ফুটবল খেলেই নিজের রসদ জোগাড় করতেন তিনি। নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর কথা স্মরণ করে স্ট্যানকোভিচ বলেছিলেন, যখন তিনি নিজের ফুটবলের দিকে ফিরে তাকান, তখন বুঝতে পারেন তার যাত্রা আসলে ফুটসল বা স্ট্রিট ফুটবল থেকে শুরু হয়েছিল।

স্ট্যানকোভিচের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো নাগরিকত্ব পরিবর্তন না করেও তিনটি ভিন্ন দেশের হয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ। তিনি জন্মেছিলেন যুগোস্লাভিয়ায়। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ফেডারেল রিপাবলিক অব যুগোশ্লাভিয়ার হয়ে তার অভিষেক হয়। সেবার জার্মানির বিপক্ষে গোল করে সবার নজর কাড়েন তিনি এবং দলকে শেষ ষোলোয় নিয়ে যান। পরবর্তীতে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে নতুন রাষ্ট্র সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রো গঠিত হলে, ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে দেজান সেই নতুন দেশের অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামেন। যদিও শক্তিশালী গ্রুপে পড়ায় সেবার দল বেশিদূর এগোতে পারেনি।

ক্লাব ফুটবলেও স্ট্যানকোভিচের সময়টা ছিল সোনালি। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর তিনি ইটালির লাৎসিওতে যোগ দিয়ে শিরোপা জেতেন। এরপর ২০০৪ সালে ইন্টার মিলানে পাড়ি জমান এবং হোসে মোরিনহোর অধীনে দলের অন্যতম আস্থার প্রতীকে পরিণত হন। ২০০৯-১০ মৌসুমে ইন্টার মিলানের ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’ জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনি। এরপর ২০১০ সালে সার্বিয়া স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে, তিনি সেই দেশের হয়েও বিশ্বকাপ খেলেন। সেই বিশ্বকাপে সার্বিয়া জার্মানিকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিল। যদিও গ্রুপ পর্ব পেরোনো সম্ভব হয়নি, তবে তিনটি ভিন্ন দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলার কৃতিত্ব তাকে ইতিহাসের পাতায় অমর করে রেখেছে। বর্তমানে তিনি সার্বিয়ার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রেড স্টার বেলগ্রাডের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

নাগরিকত্ব না বদলেই তিন দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা সেই তারকা

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

ফুটবল ইতিহাসের পাতায় দেজান স্ট্যানকোভিচ এক অনন্য নাম। ইন্টার মিলানের এই মিডফিল্ডার ২০১১ সালের ৫ এপ্রিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে শালকের বিপক্ষে প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে এক দুর্দান্ত ভলিতে গোল করেছিলেন, যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা লং রেঞ্জ গোল হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৭৮ সালে বেলগ্রেডের জেমুনে জন্ম নেওয়া ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার এই ফুটবলারের শৈশব কেটেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবেশে রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে। সেই কঠিন সময়ে অলিগলিতে ফুটবল খেলেই নিজের রসদ জোগাড় করতেন তিনি। নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর কথা স্মরণ করে স্ট্যানকোভিচ বলেছিলেন, যখন তিনি নিজের ফুটবলের দিকে ফিরে তাকান, তখন বুঝতে পারেন তার যাত্রা আসলে ফুটসল বা স্ট্রিট ফুটবল থেকে শুরু হয়েছিল।

স্ট্যানকোভিচের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো নাগরিকত্ব পরিবর্তন না করেও তিনটি ভিন্ন দেশের হয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ। তিনি জন্মেছিলেন যুগোস্লাভিয়ায়। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ফেডারেল রিপাবলিক অব যুগোশ্লাভিয়ার হয়ে তার অভিষেক হয়। সেবার জার্মানির বিপক্ষে গোল করে সবার নজর কাড়েন তিনি এবং দলকে শেষ ষোলোয় নিয়ে যান। পরবর্তীতে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে নতুন রাষ্ট্র সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রো গঠিত হলে, ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে দেজান সেই নতুন দেশের অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামেন। যদিও শক্তিশালী গ্রুপে পড়ায় সেবার দল বেশিদূর এগোতে পারেনি।

ক্লাব ফুটবলেও স্ট্যানকোভিচের সময়টা ছিল সোনালি। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর তিনি ইটালির লাৎসিওতে যোগ দিয়ে শিরোপা জেতেন। এরপর ২০০৪ সালে ইন্টার মিলানে পাড়ি জমান এবং হোসে মোরিনহোর অধীনে দলের অন্যতম আস্থার প্রতীকে পরিণত হন। ২০০৯-১০ মৌসুমে ইন্টার মিলানের ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’ জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনি। এরপর ২০১০ সালে সার্বিয়া স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে, তিনি সেই দেশের হয়েও বিশ্বকাপ খেলেন। সেই বিশ্বকাপে সার্বিয়া জার্মানিকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিল। যদিও গ্রুপ পর্ব পেরোনো সম্ভব হয়নি, তবে তিনটি ভিন্ন দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলার কৃতিত্ব তাকে ইতিহাসের পাতায় অমর করে রেখেছে। বর্তমানে তিনি সার্বিয়ার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রেড স্টার বেলগ্রাডের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor