যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুতে ইসরায়েলি নেতাদের শোক
- আপডেট সময় : ১২:৩৪:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। যুদ্ধবাজ ও জায়নবাদী হিসেবে পরিচিত এই মার্কিন আইনপ্রণেতার মৃত্যুতে ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রোববার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন এবং তাঁকে ইসরায়েলের একজন অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে স্মরণ করেছেন।
এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, লিন্ডসে গ্রাহাম বুঝতেন যে ইসরায়েল ও আমেরিকার নিরাপত্তা একই সূত্রে গাঁথা। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল তার অন্যতম সেরা বন্ধুকে হারাল, আমেরিকা হারাল একজন মহান দেশপ্রেমিককে এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে হারালেন একজন প্রিয় বন্ধুকে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আলাদাভাবে শোক প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। তাঁরা গ্রাহামকে ইসরায়েলের অন্যতম শক্তিশালী সমর্থক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এক শোকবার্তায় জানিয়েছে যে, দেশটির সবচেয়ে কঠিন সময়ে গ্রাহাম পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, যা তাদের মর্মাহত করেছে। গ্রাহামের নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ রক্ষা করে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ফলাফলের ওপর সবসময় জোর দিতেন। ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক এই নেতা ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লড়াইয়েও পূর্ণ সমর্থন দিয়ে গেছেন।
লিন্ডসে গ্রাহামের রাজনৈতিক জীবন ছিল ঘটনাবহুল। ১৯৯৪ সালে তিনি সাউথ ক্যারোলাইনার তৃতীয় কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে তিনি প্রথমবার মার্কিন সিনেটর নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০২০ সালে পুনর্নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের ঘোরতর সমর্থক ছিলেন তিনি এবং দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে কথা বলে এসেছেন।
২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে লিন্ডসে গ্রাহাম লড়াই শুরু করলেও প্রাইমারি শুরুর আগেই তিনি সরে দাঁড়ান। শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হলেও পরবর্তীতে তিনি কংগ্রেসে ট্রাম্পের অন্যতম কট্টর মিত্রে পরিণত হন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি মার্কিন বিমানবাহিনীতে ছয় বছরের বেশি সময় আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৯৫ সালে বিমানবাহিনীর রিজার্ভ ফোর্সে যোগ দেওয়া গ্রাহাম পরবর্তীতে কর্নেল পদমর্যাদায় অবসরে যান। এছাড়া পুতিনকে হত্যার আহ্বানের মতো বিতর্কিত মন্তব্য করেও তিনি আলোচনায় এসেছিলেন।



























